লোড হচ্ছে...
চিকিৎসাবিদ্যার প্রধান লক্ষ্যই যেখানে হওয়ার কথা দুস্থ-পীড়িতজনকে রোগমুক্তির সন্ধান দেয়া, সেখানে স্রেফ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কেন মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে এ মহৎ পেশায়। অসুস্থ ব্যক্তির উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া যেখানে মৌলিক অধিকার, সেখানে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসাব্যবস্থা এতই নাজুক ও অবহেলায় ন্যুব্জ যে, ক্লিনিকের কসাইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে অগণিত অসহায় অসুস্থ মানুষকে। এনজিও দ্বারা কমিউনিটি চিকিৎসাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে— সেখানে হাসিমুখে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে নবীন-প্রবীণ স্বাস্থ্যকর্মী। কিন্তু সরকার পরিচালিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কেন সেবার মান আদৌ উন্নত হবে না; যদিও সেখানে বাজেটের বিপুল বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় দেখানো হয়ে থাকে। জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাজেটে বিপুল ব্যয় বরাদ্দ দেখানো হবে, আর সেই সেবা পাওয়ার জন্য আবার বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কেন বহন করতে হবে রাষ্ট্রের নাগরিককে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অবহেলা, অনাদরের পরও কৃষকরা এক দিনের জন্যও বসে থাকেন না। তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঠিকমতো সাড়া পাচ্ছেন না। সাড়া পাওয়া তো দূরের কথা, মানসম্পন্ন বীজের সরবরাহও পাচ্ছেন না কৃষক। বিএডিসির বীজের মান নিয়ে কৃষকের অভিযোগের শেষ নেই; প্রাইভেট কোম্পানির নিম্নমানের বীজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। সারের মৌসুমে হাহাকার করতে হয় তাদের। ঝড়-বাদল, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি— সব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয় কৃষকদের। ফসলের ঠিকঠাক দাম না পেয়ে রাস্তায় ধান ঢেলে প্রতিবাদও জানাতে হয়। তাদের চাহিদা খুব বেশি নয়— সময়মতো ভালো বীজ, ন্যায্যমূল্যে সার আর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য। এ সামান্য সুবিধা পেলে পুরো জাতির খাবারের ভার তুলে নিতে প্রস্তুত তারা।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে প্রচুর ওভেন ও নিট ফেব্রিকস, তুলা, সুতা, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পকারখানার ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের (যেমন সিচুয়ান বা চংকিং) শিল্পাঞ্চল থেকে এই পণ্যগুলো প্রথমে হাজার কিলোমিটার পথ ঘুরে পূর্ব উপকূলের সাংহাই বা গুয়াংজু বন্দরে নেয়া হতো, তারপর জাহাজে করে বাংলাদেশে আসত। এখন পিংলু খালের কারণে পণ্যগুলো সরাসরি দক্ষিণের বেইবু উপসাগর হয়ে খুব দ্রুত ও কম খরচে চট্টগ্রাম কিংবা মংলা বন্দরে পৌঁছাতে পারবে। এতে পণ্যের লজিস্টিকস খরচ কমবে, যার সুফল বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা পাবেন।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলবাজির অভিযোগ আছে। চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর এ নিয়ে গণমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় হয়। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসার পর সংবাদমাধ্যমে তা থিতিয়ে এলেও মাঠের বাস্তবতা যে আদৌ পাল্টায়নি মিরপুরের ঘটনা তার সবশেষ নজির। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে বর্তমান সরকারের সতর্ক হওয়া জরুরি।
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যে মসজিদগুলোর নিজেদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতে চাঁদা তুলতে হয়, তারা কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে আনবে? কিন্তু জালেমের অত্যাচার তো এমনই, সে প্রহারও করবে, আবার শিকারকে কাঁদতে পর্যন্ত দেবে না। এরপর আইনি লড়াই শুরু হয়। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, মসজিদ রক্ষায় আইনি লড়াই পরিচালনাকারী মুসলিম আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো, তাদের নেতা ও সামাজিক কর্মীরা সবসময় কৃতিত্ব নেয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলেন। সাহারানপুরের দুঃখগাথা এর চেয়েও মারাত্মক। কারণ সেখানে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও লড়াই চলছে, যার ফলে মুসলমানদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। বলা হয়ে থাকে, সমস্যার গর্ভ থেকে যোগ্য নেতৃত্বের জন্ম হয়; কিন্তু আমাদের অবস্থা এমন যে, নেতৃত্বের গর্ভ থেকে নানা সমস্যার জন্ম হচ্ছে
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমরা বর্তমানে যে মেধা-দেউলিয়াত্বের মুখোমুখি হচ্ছি, তা সমাধানের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ সমাজের কল্যাণে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও লিখতে অনুপ্রাণিত হবে। একটি সমাজে অবশ্যই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি থাকতে হবে, যারা সঙ্কীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেশের সেবা করাকে অগ্রাধিকার দেবেন। জাতির জন্য স্বাধীন বুদ্ধিজীবীদের আত্মপ্রকাশ ও বিকাশে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি এখন দেশের জন্য এক জরুরি দাবি। সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য সত্যবাদী এবং নিঃস্বার্থ দিকনির্দেশনা অপরিহার্য, তা কেবল তখনই সম্ভব যখন সমাজে স্বাধীন বুদ্ধিজীবী থাকবেন। আমরা যেন কোনো অজানা দ্বীপে বা ধ্বংসের এমন চূড়ান্ত বিন্দুতে না পৌঁছে যাই, যেখান থেকে ফেরার উপায় নেই, তাই সরকারকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায় আছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শক্তিগুলো এ দায় এড়াতে পারে না। এ অবস্থায় একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা দরকার। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে মিয়ানমার সেনা নেতৃত্বের বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রাখাইনে পরিবেশ তৈরি। দুটো একসাথে করতে পারলে আশা করা যায়, সঙ্কট সমাধানের পথ প্রশস্ত হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাবিষয়ক কার্যক্রম জোরদার অব্যাহত রাখতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপসংস্কৃতি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপে জোর দেয়া দরকার বলে মনে হয়। যেমন— হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। প্রতিটি থানা এলাকায় সক্রিয় গ্যাং, মূল সমন্বয়ক ও তাদের ব্যবহৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি বাড়ানো। নিবিড় বিট পুলিশিং : নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করা, যেন বড় অপরাধে জড়িতরা প্রশাসনিক বা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে না পারে। কিশোরদের অপরাধ দমনে আইনি সংস্কার ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা না গেলে সাময়িক অভিযানে সুফল মিলবে না। গজিয়ে ওঠা ভয়ঙ্কর কিশোর গ্যাং কালচার উপড়ে ফেলতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিরোধমূলক ও টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক উপায় নিতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রের উচিত জ্বালানি খাতকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে বিইআরসির মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া। বিপিসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অপচয়, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ বন্ধ করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের ওপর থেকে অযৌক্তিক শুল্ক ও কর কমিয়ে আপাতত সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়া জরুরি। কারণ, যে দেশের কৃষক সেচের অভাবে ফসল ফলাতে পারে না, যে দেশের পরিবহন শ্রমিক তেলের দাম জোগাতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখের আহার কেড়ে নিতে বাধ্য হয়, সে দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প আর প্রবৃদ্ধির গালভরা পরিসংখ্যান অর্থহীন
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কূটনৈতিক সম্পর্কের বদলে সীমিত যোগাযোগ, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততা এবং অধিকার রক্ষা করে টেকসই প্রত্যাবাসন, এই হতে হবে বাংলাদেশের মূল পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশ কোনোভাবে রোহিঙ্গাদের আত্তীকরণ মেনে নেবে না; বরং আন্তর্জাতিক মহলকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ ফেরা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কৌশল সাজাতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ গত দুই দশকে মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির সাফল্য দেখিয়েছে। তবে বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে তুলনা করলে কিছু মৌলিক জায়গায় এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। দেশের বড় শহরগুলোতে বিশেষায়িত নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠলেও প্রান্তিক বা তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এখনো স্পষ্ট। এর বাইরে সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো চিকিৎসায় রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে খরচের উচ্চ হার, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী, চিকিৎসায় সরকারি অনুদান বা বীমা ব্যবস্থার সুদৃঢ় কাঠামো থাকা জরুরি, যেন সাধারণ মানুষকে হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে না হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ন্যায্য পাওনা চাইলে কাজ থেকে বাদ দেয়া বা সাময়িক বরখাস্তের হুমকি এবং শ্রমিক সর্দারের যোগসাজশ প্রমাণ করে, এখানে একটি সঙ্ঘবদ্ধ দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো— জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বজ্ঞানহীন নীরবতা ও অনুপস্থিতি, যা এই অনিয়ম পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেয়ার শামিল। শ্রমিকদের বঞ্চিত করে ভালো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। সরকারি ব্যবস্থায় সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন আসে।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি— যা ২০১১ সালে প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে আটকে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও এই চুক্তি আদায় করতে পারেনি— কেননা, ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল আনুগত্যের, সমতার নয়। ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্নে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মার পানি প্রবাহ হ্রাস, উত্তরবঙ্গে মরুকরণ প্রক্রিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি— এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত অস্তিত্বের প্রশ্ন যা আওয়ামী লীগের ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির কারণে কখনো জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়নি। আওয়ামী লীগ ভারতকে খুশি রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের পানি অধিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে, এটি জাতির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের সামনে এখন দু’টি পথ, রেটিংয়ের সাময়িক স্বস্তিতে সন্তুষ্ট থাকা অথবা এই স্বস্তিকে কাঠামোগত সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা। মুডিসের বার্তা মূলত দ্বিতীয় পথটির প্রয়োজনীয়তাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা সময় দিয়েছে; কিন্তু সেই সময় উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, ব্যাংক সংস্কার ও রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে না পারলে বর্তমান স্থিতিশীল ‘আউটলুক’ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সুতরাং মুডিসের সর্বশেষ মূল্যায়নের প্রকৃত তাৎপর্য হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে; কিন্তু মৌলিক দুর্বলতাগুলো এখনো রয়ে গেছে। সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এই আস্থাকে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রূপান্তর করা।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে শুধু অতীতের অনিয়মের হিসাব-নিকাশ হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। এখন প্রয়োজন অস্থিরতা দীর্ঘায়িত না করে আইনসম্মতভাবে বিরোধের নিষ্পত্তি, সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কোনো আইনগত বা ন্যায়সঙ্গত প্রশ্ন থাকলে তার সমাধানও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত পথেই হওয়া উচিত। একই সাথে আমানতকারী ও গ্রাহকের স্বার্থ, ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও রক্ষা করতে হবে
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শুধু জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ নয়, কমাতে হবে নদীদূষণ, করতে হবে ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ। জেলেদের দাদন প্রথা থেকে রক্ষার বিকল্প নেই। বিদেশী ইলিশ আমদানি রোধ করতে হবে যেকোনো মূল্যে। ইলিশের সিন্ডকেট-ভাঙার কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি মূল্য নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে জাতীয় মাছ ইলিশ। বাজারে এবং রান্নাঘরে রাজত্ব করবে বিদেশী বিজাতীয় ইলিশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাতীয় মাছের সাথে পরিচিতির জন্য নিয়ে যেতে হবে ফিশ মিউজিয়ামে।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের জন্য এখন প্রয়োজন অতীতের হারানো ইতিবাচক ইমেজ ফিরিয়ে আনা। এ জন্য ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, এ যাত্রায় তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রতিটি শিশু যেন নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বের হতে পারে, বিদ্যালয় বা খেলাধুলা শেষে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এবং মা-বাবা যেন প্রতিদিন সন্তানের অপেক্ষায় আতঙ্কিত না থাকেন— এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। অপ্রতিমের মায়ের মতো আর কোনো মা-বাবাকে যেন সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ শনাক্ত করতে না হয়— এটাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংস্কৃতি একদম স্থির নয়। একরৈখিক কিংবা জড়ো নয় সে। মানুষ সবসময় গ্রহণ করে, প্রত্যাখ্যান করে, রূপান্তরিত করে এবং নতুন অর্থ সৃষ্টি করে। একটি সংস্কৃতির শক্তি তার পরিবর্তনশীলতার মধ্যেও নিহিত। এই পরিবর্তনের মধ্যেই সাংস্কৃতিক মানচিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। এ মানচিত্র একই সাথে প্রাচীন উত্তরাধিকার ও নতুন নির্মাণ। মানুষ পূর্বপুরুষের কাছ থেকে ভাষা, স্মৃতি, প্রতীক, বিশ্বাস ও জ্ঞান গ্রহণ করে। আবার নিজের সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেগুলোর অর্থ পুনর্নির্মাণ করে। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্রে থাকে চলমান জীবনপ্রক্রিয়ার প্রচ্ছদও।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত বিশাল এক জনগোষ্ঠী কোনো উপযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে নিজেদের ভেতরে ক্রমাগত ক্ষোভ পুষে রাখছে, তুচ্ছ ঘটনায় যার বহির্প্রকাশ ঘটছে চরম হিংস্রতা ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এই অস্থির অবস্থার পরিবর্তনে আমাদের প্রয়োজন সামাজিক ও মানসিক কাঠামোর রূপান্তর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি স্তরে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা পুনরায় শুরু করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ক্ষতিকর প্রযুক্তি আসক্তি থেকে সরিয়ে আনতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে। একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়তে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর জরুরি সংস্কার সময়ের দাবি।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


