মতামত
মতামত। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

আন্তর্জাতিক অর্থনীতির মানচিত্রে যখন কোনো স্বস্তির রেখা ফুটে ওঠে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কপালে তখন কেন চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘ হয়? এই প্রশ্নটি এখন দেশের প্রতিটি চায়ের দোকান থেকে উপরের তলার করপোরেট হাউজে ধ্বনিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন নিম্নমুখী, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের বাজারে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনো সাধারণ গাণিতিক হিসাবের ফ্রেমে মেলানো যাচ্ছে না। কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি বা গণশুনানির সুযোগ না দিয়ে মধ্যরাতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম একলাফে আকাশচুম্বী করা হয়েছে। 
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পেছনে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ-উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের তেল সরবরাহ লাইন স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা এই দরপতনকে বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন। বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী গ্রাফের সুবিধা দেশের মানুষের পাওয়ার কথা থাকলেও, তারা পাচ্ছেন কেবল মূল্যবৃদ্ধির নির্মম কশাঘাত। 
অর্থনীতিতে জ্বালানি তেল কেবল একটি পণ্য নয়; এটি পুরো সাপ্লাই চেইনের স্নায়ুকেন্দ্র। ডিজেলের দাম এক টাকা বাড়লে পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে তার চক্রাকার প্রভাব পড়ে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ এক দমবন্ধ করা মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 
বাজারের ফর্দ মেলাতে গিয়ে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠছে, আর নিম্নবিত্তের মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের এই ২০ টাকার উল্লøম্ফন সেই জ্বলন্ত আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজন রাইড-শেয়ারিং চালকের কথাই ধরা যাক। মহামারীর পর করপোরেট চাকরি হারিয়ে যিনি বাইকের চাকায় নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ খুঁজছিলেন, তেলের এই দাম বৃদ্ধি তার সেই বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকুও কেড়ে নেয়ার উপক্রম করেছে। একদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় যাত্রী মিলছে না, অন্যদিকে পাম্পে গিয়ে তেলের দাম মেটাতে গিয়ে পকেট শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এই একই চিত্র মহাসড়কে ছুটে চলা ট্রাকচালকদের বেলায়ও প্রযোজ্য, যারা হিসাব মেলাতে না পেরে মালিকের কাছে গাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার কথা ভাবছেন।
কৃষিপ্রধান এই দেশে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় শিকার হবেন প্রান্তিক কৃষকরা। সেচযন্ত্র থেকে শুরু করে পাওয়ার টিলার— সবকিছুর জ্বালানি এই ডিজেল। সামনেই বোরো মৌসুম, যখন সেচের জন্য সবচেয়ে বেশি পানির প্রয়োজন হয়। ঠিক এই সময়ে ডিজেলের দাম ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো— কৃষকের উৎপাদন খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়া। এই বাড়তি খরচের বোঝা কৃষক নিজে বইতে পারবেন না, আবার বাজারে ফসলের ন্যায্যমূল্যও তিনি সবসময় পান না। ফলে শেষ পর্যন্ত এই দাম বৃদ্ধির ফলাফল গিয়ে পড়বে শহরের খুচরা বাজারে চাল, ডাল আর সবজির দামে। শিল্প খাতের চিত্রও ভিন্ন নয়। বিদ্যুৎসঙ্কটের কারণে দেশের বহু তৈরী পোশাক কারখানা ক্যাপটিভ পাওয়ার বা নিজস্ব জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল, যা চলে ডিজেলে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশের প্রধান রফতানি খাত। 
সরকারের বিপণন সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত লোকসানের আখ্যান তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের দাবি— আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকার কারণে গত কয়েক মাসে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে সংস্থাটি নাকি দেউলিয়া হওয়ার পথে। কিন্তু অর্থনীতির ধারণা রাখা যেকোনো সচেতন নাগরিক যদি বিপিসির গত এক দশকের ব্যালান্সশিট বা আর্থিক খতিয়ানের দিকে তাকান, তবে তার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। গত ১০ বছরে বিপিসি নিট মুনাফা করেছে প্রায় অর্ধ লাখ কোটি টাকার বেশি। এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারীর সময় যখন বিশ্বজুড়ে তেলের দাম তলানিতে ছিল, তখনো দেশের বাজারে দাম না কমিয়ে সংস্থাটি হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা লুটেছে। বর্তমানেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, বছরের পর বছর জনগণের পকেট কেটে যে মুনাফার পাহাড় গড়া হলো, সেই টাকা সঙ্কটের সময় কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না?
এখানেই উন্মোচিত হয় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার এক চরম অস্বচ্ছতার দিক। বিপিসি যখন বিপুল মুনাফা করতে শুরু করল, তখন সেই টাকা দিয়ে কোনো আপৎকালীন তহবিল বা ‘প্রাইস স্টেবিলাইজেশন ফান্ড’ গঠন করা হয়নি। উল্টো, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর অলস অর্থ সরকারি কোষাগারে নেয়ার আইন পাস করে সরকার বিপিসির তহবিল থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি মেটাতে তুলে নেয়। অর্থাৎ, জনগণের কাছ থেকে তেলের দামের মাধ্যমে পরোক্ষ কর আদায় করে রাষ্ট্র নিজের অন্যান্য খরচ মিটিয়েছে। বিপিসিকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজস্ব আদায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক হাতিয়ার হিসেবে। সেই টাকা যদি সরকার না টানত, তবে আজ বিপিসির তহবিলের যে আকার থাকত, তা দিয়ে অনায়াসেই আগামী কয়েক বছর আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো অস্থিরতা মোকাবেলা করা সম্ভব ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র যখন জনকল্যাণের চেয়ে কোষাগার ভারী করার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়, তখন সাধারণ মানুষই বলির পাঁঠা হয়।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত। ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণের কিস্তি পাওয়ার জন্য জ্বালানি খাত থেকে সব ধরনের ভর্তুকি তুলে নেয়ার যে শর্ত দেয়া হয়েছিল, সরকার তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করছে। এই শর্ত মানতে গিয়েই দেশে ‘স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার নামে যা চলছে, তা রীতিমতো প্রহসন। আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) উন্মুক্ত গণশুনানি হতো। সেখানে ভোক্তাদের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বিপিসির আয়-ব্যয়ের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতেন। কিন্তু আইন সংশোধন করে বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে দাম নির্ধারণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এখন সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কয়েকজন আমলা বসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দাম ঠিক করেন। সেখানে কোনো জবাবদিহি নেই, নেই কোনো স্বচ্ছতা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সাথে সাথেই তা দেশের বাজারে কার্যকর হয়; কিন্তু দাম কমলে ডলার সঙ্কট বা আগের লোকসান সমন্বয়ের নানা খোঁড়া যুক্তিতে মাসের পর মাস দাম কমানো হয় না।
অনেকেই মনে করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে লোকসান নয়; বরং রাষ্ট্রের বিশাল প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর তাগিদ কাজ করছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা শতভাগ বৃদ্ধির একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য প্রয়োজন লাখো কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ। জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিলে সরকারের কোষাগারে বছরে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা জমা হবে। সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে, অর্থনীতিকে শ্লথ করে দিয়ে রাষ্ট্রের এই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোকে খুশি রাখার যে আয়োজন, তা কোনোভাবেই একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না। জনগণের ঘামের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই করভার যখন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকেই হুমকির মুখে ফেলে, তখন সেই নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।
সরকারের তরফ থেকে ডলারের উচ্চমূল্য এবং তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কথা বলা হচ্ছে। এটি সত্য যে, অপরিশোধিত তেল আর পাম্পে বিক্রি হওয়া রিফাইনড তেলের দাম এক নয়। পরিবহন, বীমা, পরিশোধন খরচ এবং শুল্ক যোগ হওয়ার পর তেলের দাম বাড়ে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানিকারকের খরচও বেড়েছে। কিন্তু তাই বলে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে দাম কমতির দিকে, সেখানে রাতারাতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর কোনো যৌক্তিক গাণিতিক হিসাব সরকার জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এক লিটার তেল আমদানিতে ঠিক কত টাকা খরচ হচ্ছে, ডলার রেট কত ধরা হয়েছে, সরকারের শুল্ক ও করের পরিমাণ কত এবং ডিলারদের কমিশন কত— এই সম্পূর্ণ ব্রেকডাউন বা বিভাজন প্রকাশ করা হলে মানুষ বুঝতে পারত এই ২০ টাকার মধ্যে কতটুকু আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব আর কতটুকু সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই স্বচ্ছতাটুকু দেখানোর সাহস বা সদিচ্ছা নীতিনির্ধারকদের নেই।
এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দাম কম থাকায় তেল পাচার হয়ে যাওয়ার যে যুক্তি সরকার দিচ্ছে, তা রাষ্ট্রের নিজস্ব ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি। ভারত বা মিয়ানমারে দাম বেশি থাকলে তেল পাচার হতে পারে— এই আশঙ্কায় নিজেদের ১৭ কোটি মানুষকে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য করা কি কোনো সমাধান? বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকতে দেশের সীমান্ত দিয়ে লাখ লাখ লিটার তেল পাচার হয়ে যাবে, আর রাষ্ট্র তা ঠেকাতে পারবে না— এমন দুর্বল যুক্তি দিয়ে দেশের মানুষের পকেট কাটা অগ্রহণযোগ্য। পাচার রোধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তার দায়ভার সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপিয়ে দেয়া যায় না।
শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কাঠামোগতভাবে আমাদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া কতটা জনবিচ্ছিন্ন। বিশ্ববাজারে যখন দাম বাড়ে, তখন সরকার তড়িঘড়ি করে দাম বাড়িয়ে দেয় আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে সেই সুবিধা দেশের মানুষকে দেয়া হয় না। মুনাফার সময় রাষ্ট্র একা সব লাভ ঘরে তোলে, আর লোকসানের সামান্য সম্ভাবনা দেখা দিলেই তার পুরো বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের ভাঙা মেরুদণ্ডের ওপর। এই অসম নীতি কেবল বৈষম্যই বাড়াচ্ছে না; বরং সাধারণ মানুষের মনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি এক গভীর অনাস্থা তৈরি করছে।
রাষ্ট্রের উচিত জ্বালানি খাতকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে বিইআরসির মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া। বিপিসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অপচয়, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ বন্ধ করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের ওপর থেকে অযৌক্তিক শুল্ক ও কর কমিয়ে আপাতত সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়া জরুরি। কারণ, যে দেশের কৃষক সেচের অভাবে ফসল ফলাতে পারে না, যে দেশের পরিবহন শ্রমিক তেলের দাম জোগাতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখের আহার কেড়ে নিতে বাধ্য হয়, সে দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প আর প্রবৃদ্ধির গালভরা পরিসংখ্যান অর্থহীন। 
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
rintuanowar.com