লোড হচ্ছে...
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে যে, দেশের তরুণসমাজ যখন ঐক্যবদ্ধ এবং সঙ্কল্পবদ্ধ হয়, তখন তারা যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। এই জাগ্রত তরুণসমাজকে এখন সঠিক দিশা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। তরুণসমাজকে যদি সামরিক বিদ্যায় দীক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোনো ধরনের সঙ্কটে ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত এখন জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য হাসিনার সব চুক্তি জনসমক্ষে উন্মুক্ত করতে হবে। এগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। এরপর দেশের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি চিহ্নিত করতে হবে। এ ছাড়া চুক্তি-সমঝোতার যেসব শর্ত ও ধারা দেশের স্বার্থবিরোধী এবং জাতীয় মর্যাদা ও সম্মানের সাথে সাংঘর্ষিক, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাজ করার কথা, তাদেরই একটি অংশ গোপনে তাদের সহযোগিতা করছে। এই অংশ বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে পুলিশের ভেতরে বৈষম্যের শিকার দাবি করে বর্তমান সরকারে ভালো পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এরাই এখন ভেতরে থেকে আইনশৃঙ্খল বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন এবং গোপনে আওয়ামী লীগকে অপারেশনের তথ্য সরবরাহ করছেন।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ধাপ, গ্রাহক নির্বাচন এবং প্রযুক্তি স্থাপনের গুণগত মান কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মাধ্যমে এই অর্থ প্রকৃত উদ্যোক্তা ও সেবাগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, জ্বালানি বিদ্যুতের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে এই ঋণের সুষম ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবহার করা হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিপদ আসে বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকে— যখন নাগরিকরা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থেকে বিরত হয়, যখন ক্ষমতাসীনরা জনগণকে কেবল ভোটদাতা হিসেবে দেখেন, অংশীদার হিসেবে নয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই বিপদ বারবার ফিরে এসেছে। বাকশাল থেকে একাদশ সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক পশ্চাৎপসরণের মূলে ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন এবং জনগণের প্রান্তিকীকরণ। বর্তমান সরকারের সামনে সুযোগ আছে সেই চক্র ভাঙার— জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তমূল্যে অর্জিত এই সুযোগ হাতছাড়া হলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনপদ্ধতি নয়, এটি একটি জীবনদর্শন, একটি সভ্যতার মানদণ্ড, একটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রকাশ। সেই মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের, বিরোধী দলের, নাগরিক সমাজের এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু শুধু ছাত্র প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার। ক্ষমতা, প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা যেমন জাতীয়...
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ হবে— এ কথা সরকারপ্রধান কতবার উচ্চারণ করেছেন, হিসাব নেই। অথচ গত ছয় মাসে যত নিয়োগ হয়েছে, সবই দলীয় পরিচয়ে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে। যেন দেশের সব মেধাবীই সরকারি দলে একত্রিত হয়েছেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে— সুকৌশলে আবারো কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার আয়োজন। সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষায় ৪০০ নম্বর নিয়ে সমস্ত প্রশাসনে নিজদলীয় লোকদের নিয়োগের নীলনকশা তৈরি করে মেধাকে পেছনে ঠেলে দেয়া হয়েছে
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পরবর্তী যুদ্ধের কেন্দ্র কোথায় হবে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সৌদি আরব ইতোমধ্যে যুদ্ধের অভিঘাত নিজের ভূখণ্ডে অনুভব করছে। তবে ইরান ও সৌদি আরব উভয়েই জানে, সরাসরি যুদ্ধের মূল্য ভয়াবহ। তাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হলো— পূর্ণাঙ্গ ইরান-সৌদি যুদ্ধ নয়; বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্সি ও অবকাঠামোগত যুদ্ধ। কিন্তু প্রক্সি যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো— কোনো একটি হামলা হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় যুদ্ধের দরজা খুলে দিতে পারে। তখন প্রশ্ন হবে— মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কে নির্মাণ করবে? যুক্তরাষ্ট্র? চীন? ইরান? সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান? নাকি শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মধ্যপ্রাচ্য এমন এক বহুমেরু সঙ্ঘাত অঞ্চলে পরিণত হবে, যেখানে কোনো একক শক্তিই আর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না? সম্ভবত দ্বিতীয়টিই বেশি বাস্তবসম্মত।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তারেক রহমানের গত ছয় মাসের পদক্ষেপগুলো অন্তত একটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে, বাংলাদেশের রাজনীতি হয়তো ধীরে ধীরে ক্ষমতার জৌলুশ থেকে মানুষের আস্থার দিকে, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে প্রতিষ্ঠানমুখিতার দিকে এবং কথার রাজনীতি থেকে কাজের রাজনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। কারণ ক্ষমতার সবচেয়ে বড় অলঙ্কার কোনো বিশেষণ নয়, সবচেয়ে বড় অলঙ্কার হলো মানুষের আস্থা।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশকে একই সাথে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অংশীদারের সাথে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। তৈরী পোশাকের প্রধান বাজার পশ্চিমা বিশ্বে; চীন বৃহৎ বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন অংশীদার; মধ্যপ্রাচ্য রেমিট্যান্স ও জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস; আর ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত, নদী, যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। কোনো প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের ফলে এসব সম্পর্ক, রফতানি, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা কিংবা প্রবাসী শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, হিসাব করতে হবে। বাংলাদেশের যথাযথ জবাব হওয়া উচিত শান্ত, দৃঢ় ও কূটনৈতিক। ঢাকা বলতে পারে, ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ শুনতে বাংলাদেশ প্রস্তুত; কিন্তু নিজের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি নির্ধারণের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


