সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও  কিছু প্রার্থীর নিয়োগ না পাওয়াটা অনাকাক্সিক্ষত। দুঃখজনক হলো— বাদ পড়া এসব চাকরিপ্রার্থী জানেও না কেন তাদের নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। অবাক করা বিষয় হলো— নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীদের উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে খবর হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে তার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। 
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। 
চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া চাকরি প্রার্থীর দুই হাজারের অধিক নিয়োগপত্র পাননি বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।  
বাংলাদেশে সরকারি চাকরি সোনার হরিণ। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর একজন প্রার্থী চাকরি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে তার ও তার পরিবারের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। যাচাই-বাছাইয়ের নামে যখন  চাকরি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো প্রার্থীকে বাদ দেয়া  হয়, তখন উত্তীর্ণ প্রার্থী ও তার পরিবারে দুঃখ, ক্ষোভ ও হতাশা নেমে আসে। সিলেটের বানিয়াচংয়ের বাদ পড়া এক চাকরিপ্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘যে মুখ দিয়ে মাকে বলছিলাম— মা, প্রাইমারিতে চাকরি হয়ে গেছে; সেই মুখ দিয়ে এখন মাকে কিভাবে বলব— মা, ভেরিফিকেশনে আটকাই দিছে।’
পতিত শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা এমন অবস্থা দেখেছি। তখন চাকরির পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরি আটকে দেয়া হয়েছিল। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ছিল এমন জুুলুম থেকে মুক্তির আন্দোলন। যে আন্দোলনে সম্মুখভাগে ছিল আজকের প্রাথমিকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাওয়াদের মতো অসংখ্য শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী যখন শেখ হাসিনার আমলের মতো চাকরি থেকে বঞ্চিত হন তখন দুঃখ শুধু বাড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন চাকরির ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিলের সুপারিশ করেছিল। তখন সেই সুপারিশ আমলে নেয়া হয়নি। এখন নির্বাচিত বিএনপি সরকারও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আমলে নিচ্ছে না। তাহলে এই রাষ্ট্র কি এভাবেই চলবে? এর কোনো সংস্কার হবে না? 
প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা থাকলে সে ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু দুই হাজারের উপরে চাকরিপ্রার্থীর সবার বিরুদ্ধেই কি ফৌজদারি মামলা আছে? 
প্রাথমিকের চাকরি থেকে বাদ পড়াদের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছলচাতুরী চলবে না। রাজনৈতিক কারণে  কেউ যাতে বাদ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।