লোড হচ্ছে...
চিকিৎসাবিদ্যার প্রধান লক্ষ্যই যেখানে হওয়ার কথা দুস্থ-পীড়িতজনকে রোগমুক্তির সন্ধান দেয়া, সেখানে স্রেফ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কেন মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে এ মহৎ পেশায়। অসুস্থ ব্যক্তির উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া যেখানে মৌলিক অধিকার, সেখানে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসাব্যবস্থা এতই নাজুক ও অবহেলায় ন্যুব্জ যে, ক্লিনিকের কসাইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে অগণিত অসহায় অসুস্থ মানুষকে। এনজিও দ্বারা কমিউনিটি চিকিৎসাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে— সেখানে হাসিমুখে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে নবীন-প্রবীণ স্বাস্থ্যকর্মী। কিন্তু সরকার পরিচালিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কেন সেবার মান আদৌ উন্নত হবে না; যদিও সেখানে বাজেটের বিপুল বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় দেখানো হয়ে থাকে। জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাজেটে বিপুল ব্যয় বরাদ্দ দেখানো হবে, আর সেই সেবা পাওয়ার জন্য আবার বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কেন বহন করতে হবে রাষ্ট্রের নাগরিককে।
৯ দিন আগে

অবহেলা, অনাদরের পরও কৃষকরা এক দিনের জন্যও বসে থাকেন না। তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঠিকমতো সাড়া পাচ্ছেন না। সাড়া পাওয়া তো দূরের কথা, মানসম্পন্ন বীজের সরবরাহও পাচ্ছেন না কৃষক। বিএডিসির বীজের মান নিয়ে কৃষকের অভিযোগের শেষ নেই; প্রাইভেট কোম্পানির নিম্নমানের বীজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। সারের মৌসুমে হাহাকার করতে হয় তাদের। ঝড়-বাদল, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি— সব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয় কৃষকদের। ফসলের ঠিকঠাক দাম না পেয়ে রাস্তায় ধান ঢেলে প্রতিবাদও জানাতে হয়। তাদের চাহিদা খুব বেশি নয়— সময়মতো ভালো বীজ, ন্যায্যমূল্যে সার আর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য। এ সামান্য সুবিধা পেলে পুরো জাতির খাবারের ভার তুলে নিতে প্রস্তুত তারা।
৯ দিন আগে

বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে প্রচুর ওভেন ও নিট ফেব্রিকস, তুলা, সুতা, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পকারখানার ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের (যেমন সিচুয়ান বা চংকিং) শিল্পাঞ্চল থেকে এই পণ্যগুলো প্রথমে হাজার কিলোমিটার পথ ঘুরে পূর্ব উপকূলের সাংহাই বা গুয়াংজু বন্দরে নেয়া হতো, তারপর জাহাজে করে বাংলাদেশে আসত। এখন পিংলু খালের কারণে পণ্যগুলো সরাসরি দক্ষিণের বেইবু উপসাগর হয়ে খুব দ্রুত ও কম খরচে চট্টগ্রাম কিংবা মংলা বন্দরে পৌঁছাতে পারবে। এতে পণ্যের লজিস্টিকস খরচ কমবে, যার সুফল বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা পাবেন।
৯ দিন আগে

যে মসজিদগুলোর নিজেদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতে চাঁদা তুলতে হয়, তারা কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে আনবে? কিন্তু জালেমের অত্যাচার তো এমনই, সে প্রহারও করবে, আবার শিকারকে কাঁদতে পর্যন্ত দেবে না। এরপর আইনি লড়াই শুরু হয়। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, মসজিদ রক্ষায় আইনি লড়াই পরিচালনাকারী মুসলিম আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো, তাদের নেতা ও সামাজিক কর্মীরা সবসময় কৃতিত্ব নেয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলেন। সাহারানপুরের দুঃখগাথা এর চেয়েও মারাত্মক। কারণ সেখানে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও লড়াই চলছে, যার ফলে মুসলমানদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। বলা হয়ে থাকে, সমস্যার গর্ভ থেকে যোগ্য নেতৃত্বের জন্ম হয়; কিন্তু আমাদের অবস্থা এমন যে, নেতৃত্বের গর্ভ থেকে নানা সমস্যার জন্ম হচ্ছে
১০ দিন আগে

আমরা বর্তমানে যে মেধা-দেউলিয়াত্বের মুখোমুখি হচ্ছি, তা সমাধানের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ সমাজের কল্যাণে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও লিখতে অনুপ্রাণিত হবে। একটি সমাজে অবশ্যই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি থাকতে হবে, যারা সঙ্কীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেশের সেবা করাকে অগ্রাধিকার দেবেন। জাতির জন্য স্বাধীন বুদ্ধিজীবীদের আত্মপ্রকাশ ও বিকাশে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি এখন দেশের জন্য এক জরুরি দাবি। সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য সত্যবাদী এবং নিঃস্বার্থ দিকনির্দেশনা অপরিহার্য, তা কেবল তখনই সম্ভব যখন সমাজে স্বাধীন বুদ্ধিজীবী থাকবেন। আমরা যেন কোনো অজানা দ্বীপে বা ধ্বংসের এমন চূড়ান্ত বিন্দুতে না পৌঁছে যাই, যেখান থেকে ফেরার উপায় নেই, তাই সরকারকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে
১০ দিন আগে

রাষ্ট্রের উচিত জ্বালানি খাতকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে বিইআরসির মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া। বিপিসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অপচয়, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ বন্ধ করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের ওপর থেকে অযৌক্তিক শুল্ক ও কর কমিয়ে আপাতত সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়া জরুরি। কারণ, যে দেশের কৃষক সেচের অভাবে ফসল ফলাতে পারে না, যে দেশের পরিবহন শ্রমিক তেলের দাম জোগাতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখের আহার কেড়ে নিতে বাধ্য হয়, সে দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প আর প্রবৃদ্ধির গালভরা পরিসংখ্যান অর্থহীন
১১ দিন আগে

কূটনৈতিক সম্পর্কের বদলে সীমিত যোগাযোগ, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততা এবং অধিকার রক্ষা করে টেকসই প্রত্যাবাসন, এই হতে হবে বাংলাদেশের মূল পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশ কোনোভাবে রোহিঙ্গাদের আত্তীকরণ মেনে নেবে না; বরং আন্তর্জাতিক মহলকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ ফেরা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কৌশল সাজাতে হবে।
১১ দিন আগে

বাংলাদেশ গত দুই দশকে মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির সাফল্য দেখিয়েছে। তবে বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে তুলনা করলে কিছু মৌলিক জায়গায় এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। দেশের বড় শহরগুলোতে বিশেষায়িত নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠলেও প্রান্তিক বা তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এখনো স্পষ্ট। এর বাইরে সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো চিকিৎসায় রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে খরচের উচ্চ হার, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী, চিকিৎসায় সরকারি অনুদান বা বীমা ব্যবস্থার সুদৃঢ় কাঠামো থাকা জরুরি, যেন সাধারণ মানুষকে হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে না হয়।
১১ দিন আগে

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি— যা ২০১১ সালে প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে আটকে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও এই চুক্তি আদায় করতে পারেনি— কেননা, ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল আনুগত্যের, সমতার নয়। ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্নে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মার পানি প্রবাহ হ্রাস, উত্তরবঙ্গে মরুকরণ প্রক্রিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি— এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত অস্তিত্বের প্রশ্ন যা আওয়ামী লীগের ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির কারণে কখনো জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়নি। আওয়ামী লীগ ভারতকে খুশি রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের পানি অধিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে, এটি জাতির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা
১২ দিন আগে

বাংলাদেশের সামনে এখন দু’টি পথ, রেটিংয়ের সাময়িক স্বস্তিতে সন্তুষ্ট থাকা অথবা এই স্বস্তিকে কাঠামোগত সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা। মুডিসের বার্তা মূলত দ্বিতীয় পথটির প্রয়োজনীয়তাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা সময় দিয়েছে; কিন্তু সেই সময় উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, ব্যাংক সংস্কার ও রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে না পারলে বর্তমান স্থিতিশীল ‘আউটলুক’ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সুতরাং মুডিসের সর্বশেষ মূল্যায়নের প্রকৃত তাৎপর্য হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে; কিন্তু মৌলিক দুর্বলতাগুলো এখনো রয়ে গেছে। সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এই আস্থাকে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রূপান্তর করা।
১২ দিন আগে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে শুধু অতীতের অনিয়মের হিসাব-নিকাশ হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। এখন প্রয়োজন অস্থিরতা দীর্ঘায়িত না করে আইনসম্মতভাবে বিরোধের নিষ্পত্তি, সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কোনো আইনগত বা ন্যায়সঙ্গত প্রশ্ন থাকলে তার সমাধানও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত পথেই হওয়া উচিত। একই সাথে আমানতকারী ও গ্রাহকের স্বার্থ, ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও রক্ষা করতে হবে
১২ দিন আগে

শুধু জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ নয়, কমাতে হবে নদীদূষণ, করতে হবে ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ। জেলেদের দাদন প্রথা থেকে রক্ষার বিকল্প নেই। বিদেশী ইলিশ আমদানি রোধ করতে হবে যেকোনো মূল্যে। ইলিশের সিন্ডকেট-ভাঙার কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি মূল্য নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে জাতীয় মাছ ইলিশ। বাজারে এবং রান্নাঘরে রাজত্ব করবে বিদেশী বিজাতীয় ইলিশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাতীয় মাছের সাথে পরিচিতির জন্য নিয়ে যেতে হবে ফিশ মিউজিয়ামে।
১২ দিন আগে

প্রতিটি শিশু যেন নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বের হতে পারে, বিদ্যালয় বা খেলাধুলা শেষে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এবং মা-বাবা যেন প্রতিদিন সন্তানের অপেক্ষায় আতঙ্কিত না থাকেন— এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। অপ্রতিমের মায়ের মতো আর কোনো মা-বাবাকে যেন সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ শনাক্ত করতে না হয়— এটাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
১৩ দিন আগে

সংস্কৃতি একদম স্থির নয়। একরৈখিক কিংবা জড়ো নয় সে। মানুষ সবসময় গ্রহণ করে, প্রত্যাখ্যান করে, রূপান্তরিত করে এবং নতুন অর্থ সৃষ্টি করে। একটি সংস্কৃতির শক্তি তার পরিবর্তনশীলতার মধ্যেও নিহিত। এই পরিবর্তনের মধ্যেই সাংস্কৃতিক মানচিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। এ মানচিত্র একই সাথে প্রাচীন উত্তরাধিকার ও নতুন নির্মাণ। মানুষ পূর্বপুরুষের কাছ থেকে ভাষা, স্মৃতি, প্রতীক, বিশ্বাস ও জ্ঞান গ্রহণ করে। আবার নিজের সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেগুলোর অর্থ পুনর্নির্মাণ করে। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্রে থাকে চলমান জীবনপ্রক্রিয়ার প্রচ্ছদও।
১৩ দিন আগে

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে যে, দেশের তরুণসমাজ যখন ঐক্যবদ্ধ এবং সঙ্কল্পবদ্ধ হয়, তখন তারা যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। এই জাগ্রত তরুণসমাজকে এখন সঠিক দিশা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। তরুণসমাজকে যদি সামরিক বিদ্যায় দীক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোনো ধরনের সঙ্কটে ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।
১৪ দিন আগে

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিপদ আসে বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকে— যখন নাগরিকরা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থেকে বিরত হয়, যখন ক্ষমতাসীনরা জনগণকে কেবল ভোটদাতা হিসেবে দেখেন, অংশীদার হিসেবে নয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই বিপদ বারবার ফিরে এসেছে। বাকশাল থেকে একাদশ সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক পশ্চাৎপসরণের মূলে ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন এবং জনগণের প্রান্তিকীকরণ। বর্তমান সরকারের সামনে সুযোগ আছে সেই চক্র ভাঙার— জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তমূল্যে অর্জিত এই সুযোগ হাতছাড়া হলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনপদ্ধতি নয়, এটি একটি জীবনদর্শন, একটি সভ্যতার মানদণ্ড, একটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রকাশ। সেই মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের, বিরোধী দলের, নাগরিক সমাজের এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের
১৯ দিন আগে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু শুধু ছাত্র প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার। ক্ষমতা, প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা যেমন জাতীয়...
১৯ দিন আগে

মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ হবে— এ কথা সরকারপ্রধান কতবার উচ্চারণ করেছেন, হিসাব নেই। অথচ গত ছয় মাসে যত নিয়োগ হয়েছে, সবই দলীয় পরিচয়ে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে। যেন দেশের সব মেধাবীই সরকারি দলে একত্রিত হয়েছেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে— সুকৌশলে আবারো কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার আয়োজন। সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষায় ৪০০ নম্বর নিয়ে সমস্ত প্রশাসনে নিজদলীয় লোকদের নিয়োগের নীলনকশা তৈরি করে মেধাকে পেছনে ঠেলে দেয়া হয়েছে
১৯ দিন আগে

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পরবর্তী যুদ্ধের কেন্দ্র কোথায় হবে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সৌদি আরব ইতোমধ্যে যুদ্ধের অভিঘাত নিজের ভূখণ্ডে অনুভব করছে। তবে ইরান ও সৌদি আরব উভয়েই জানে, সরাসরি যুদ্ধের মূল্য ভয়াবহ। তাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হলো— পূর্ণাঙ্গ ইরান-সৌদি যুদ্ধ নয়; বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্সি ও অবকাঠামোগত যুদ্ধ। কিন্তু প্রক্সি যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো— কোনো একটি হামলা হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় যুদ্ধের দরজা খুলে দিতে পারে। তখন প্রশ্ন হবে— মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কে নির্মাণ করবে? যুক্তরাষ্ট্র? চীন? ইরান? সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান? নাকি শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মধ্যপ্রাচ্য এমন এক বহুমেরু সঙ্ঘাত অঞ্চলে পরিণত হবে, যেখানে কোনো একক শক্তিই আর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না? সম্ভবত দ্বিতীয়টিই বেশি বাস্তবসম্মত।
২০ দিন আগে


