লোড হচ্ছে...
নেপালের জনসংখ্যার দু’টি বড় অংশ হিন্দু ও বৌদ্ধ। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে, নেপালের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে তিনি একটি শ্লোকে তুষ্ট করলেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক দিকে আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক সমস্যা-সঙ্কটের উপস্থাপন, সমাধানের দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বমোড়লদের সীমাবদ্ধতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার এই যে দুরন্ত সাহস, এর চেয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কী চাইতে পারে তার দেশ! আমরা বালেন্দ্রর মধ্যে এক স্বাধীনচেতা বিশ্বনেতার ছায়া দেখছি। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
২৭ দিন আগে

কূটনীতিতে কখনো কখনো প্রকাশ্য বৈঠকের চেয়ে নীরব সফর বেশি তাৎপর্য বহন করে। কারণ, প্রকাশ্য সফরের বার্তা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত ও পরিমার্জিত থাকে; কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা...
২৮ দিন আগে

সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের অর্থ তাদের প্রতিটি কাজ প্রশ্নহীনভাবে সমর্থন করা নয়; বরং এর অর্থ হলো ন্যায়সঙ্গত, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং জাতীয় জীবনে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা উপলব্ধি করা। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা এমন একটি সেনাবাহিনী দেখতে চাইবে, যা তার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এমন একটি জনগোষ্ঠী চাইবে, যারা দেশের প্রতিরক্ষাকারীদের বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক অপব্যবহার কিংবা দায়িত্বহীন অনলাইন তৎপরতার মাধ্যমে সেই দূরত্ব সৃষ্টি করা অনুচিত। জনগণ ও সশস্ত্রবাহিনীর মধ্যকার আস্থা ও সংহতি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার এক অমূল্য সম্পদ। এই সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর নয়; সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং প্রতিটি সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিকেরও।
২৮ দিন আগে

একটি কল্যাণমুখী ও দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জ্যেষ্ঠতা এবং অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন অপরিহার্য। বেতন স্কেলের মূল উদ্দেশ্যই হওয়া উচিত জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সবার জন্য সমতার নীতি নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান গাণিতিক মডেলটি জুনিয়র ও সিনিয়রের মধ্যকার আনুপাতিক ব্যবধানকে সঙ্কুুচিত ও ম্লান করে দিচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে প্রবীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও বঞ্চনা বোধের জন্ম দিতে পারে।
২৮ দিন আগে

সরকারের পক্ষে সব সমস্যার এখনই সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দেয়া সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষ বোঝে, দেশের অনেক সমস্যা দীর্ঘদিনের। তারা বোঝে বড় অবকাঠামো ও জ্বালানি সংস্কারে সময় লাগে। তারা এটিও বোঝে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সবকিছু কোনো একটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কিন্তু তারা দেখতে চায়, দেশটি একটি সুস্পষ্ট দিকে এগোচ্ছে। এ কারণে সরকার নিয়মিত একটি নীতি ও বাস্তবায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ, লোডশেডিং, গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুতের দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকারের অগ্রগতি তুলে ধরা যেতে পারে।
২৮ দিন আগে

চিকিৎসাবিদ্যার প্রধান লক্ষ্যই যেখানে হওয়ার কথা দুস্থ-পীড়িতজনকে রোগমুক্তির সন্ধান দেয়া, সেখানে স্রেফ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কেন মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে এ মহৎ পেশায়। অসুস্থ ব্যক্তির উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া যেখানে মৌলিক অধিকার, সেখানে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসাব্যবস্থা এতই নাজুক ও অবহেলায় ন্যুব্জ যে, ক্লিনিকের কসাইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে অগণিত অসহায় অসুস্থ মানুষকে। এনজিও দ্বারা কমিউনিটি চিকিৎসাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে— সেখানে হাসিমুখে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে নবীন-প্রবীণ স্বাস্থ্যকর্মী। কিন্তু সরকার পরিচালিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কেন সেবার মান আদৌ উন্নত হবে না; যদিও সেখানে বাজেটের বিপুল বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় দেখানো হয়ে থাকে। জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাজেটে বিপুল ব্যয় বরাদ্দ দেখানো হবে, আর সেই সেবা পাওয়ার জন্য আবার বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কেন বহন করতে হবে রাষ্ট্রের নাগরিককে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অবহেলা, অনাদরের পরও কৃষকরা এক দিনের জন্যও বসে থাকেন না। তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঠিকমতো সাড়া পাচ্ছেন না। সাড়া পাওয়া তো দূরের কথা, মানসম্পন্ন বীজের সরবরাহও পাচ্ছেন না কৃষক। বিএডিসির বীজের মান নিয়ে কৃষকের অভিযোগের শেষ নেই; প্রাইভেট কোম্পানির নিম্নমানের বীজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। সারের মৌসুমে হাহাকার করতে হয় তাদের। ঝড়-বাদল, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি— সব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয় কৃষকদের। ফসলের ঠিকঠাক দাম না পেয়ে রাস্তায় ধান ঢেলে প্রতিবাদও জানাতে হয়। তাদের চাহিদা খুব বেশি নয়— সময়মতো ভালো বীজ, ন্যায্যমূল্যে সার আর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য। এ সামান্য সুবিধা পেলে পুরো জাতির খাবারের ভার তুলে নিতে প্রস্তুত তারা।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে প্রচুর ওভেন ও নিট ফেব্রিকস, তুলা, সুতা, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পকারখানার ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের (যেমন সিচুয়ান বা চংকিং) শিল্পাঞ্চল থেকে এই পণ্যগুলো প্রথমে হাজার কিলোমিটার পথ ঘুরে পূর্ব উপকূলের সাংহাই বা গুয়াংজু বন্দরে নেয়া হতো, তারপর জাহাজে করে বাংলাদেশে আসত। এখন পিংলু খালের কারণে পণ্যগুলো সরাসরি দক্ষিণের বেইবু উপসাগর হয়ে খুব দ্রুত ও কম খরচে চট্টগ্রাম কিংবা মংলা বন্দরে পৌঁছাতে পারবে। এতে পণ্যের লজিস্টিকস খরচ কমবে, যার সুফল বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা পাবেন।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যে মসজিদগুলোর নিজেদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতে চাঁদা তুলতে হয়, তারা কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে আনবে? কিন্তু জালেমের অত্যাচার তো এমনই, সে প্রহারও করবে, আবার শিকারকে কাঁদতে পর্যন্ত দেবে না। এরপর আইনি লড়াই শুরু হয়। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, মসজিদ রক্ষায় আইনি লড়াই পরিচালনাকারী মুসলিম আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো, তাদের নেতা ও সামাজিক কর্মীরা সবসময় কৃতিত্ব নেয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলেন। সাহারানপুরের দুঃখগাথা এর চেয়েও মারাত্মক। কারণ সেখানে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও লড়াই চলছে, যার ফলে মুসলমানদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। বলা হয়ে থাকে, সমস্যার গর্ভ থেকে যোগ্য নেতৃত্বের জন্ম হয়; কিন্তু আমাদের অবস্থা এমন যে, নেতৃত্বের গর্ভ থেকে নানা সমস্যার জন্ম হচ্ছে
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমরা বর্তমানে যে মেধা-দেউলিয়াত্বের মুখোমুখি হচ্ছি, তা সমাধানের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ সমাজের কল্যাণে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও লিখতে অনুপ্রাণিত হবে। একটি সমাজে অবশ্যই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি থাকতে হবে, যারা সঙ্কীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেশের সেবা করাকে অগ্রাধিকার দেবেন। জাতির জন্য স্বাধীন বুদ্ধিজীবীদের আত্মপ্রকাশ ও বিকাশে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি এখন দেশের জন্য এক জরুরি দাবি। সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য সত্যবাদী এবং নিঃস্বার্থ দিকনির্দেশনা অপরিহার্য, তা কেবল তখনই সম্ভব যখন সমাজে স্বাধীন বুদ্ধিজীবী থাকবেন। আমরা যেন কোনো অজানা দ্বীপে বা ধ্বংসের এমন চূড়ান্ত বিন্দুতে না পৌঁছে যাই, যেখান থেকে ফেরার উপায় নেই, তাই সরকারকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রের উচিত জ্বালানি খাতকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে বিইআরসির মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া। বিপিসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অপচয়, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ বন্ধ করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের ওপর থেকে অযৌক্তিক শুল্ক ও কর কমিয়ে আপাতত সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়া জরুরি। কারণ, যে দেশের কৃষক সেচের অভাবে ফসল ফলাতে পারে না, যে দেশের পরিবহন শ্রমিক তেলের দাম জোগাতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখের আহার কেড়ে নিতে বাধ্য হয়, সে দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প আর প্রবৃদ্ধির গালভরা পরিসংখ্যান অর্থহীন
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কূটনৈতিক সম্পর্কের বদলে সীমিত যোগাযোগ, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততা এবং অধিকার রক্ষা করে টেকসই প্রত্যাবাসন, এই হতে হবে বাংলাদেশের মূল পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশ কোনোভাবে রোহিঙ্গাদের আত্তীকরণ মেনে নেবে না; বরং আন্তর্জাতিক মহলকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ ফেরা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কৌশল সাজাতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ গত দুই দশকে মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির সাফল্য দেখিয়েছে। তবে বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে তুলনা করলে কিছু মৌলিক জায়গায় এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। দেশের বড় শহরগুলোতে বিশেষায়িত নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠলেও প্রান্তিক বা তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এখনো স্পষ্ট। এর বাইরে সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো চিকিৎসায় রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে খরচের উচ্চ হার, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী, চিকিৎসায় সরকারি অনুদান বা বীমা ব্যবস্থার সুদৃঢ় কাঠামো থাকা জরুরি, যেন সাধারণ মানুষকে হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে না হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি— যা ২০১১ সালে প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে আটকে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও এই চুক্তি আদায় করতে পারেনি— কেননা, ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল আনুগত্যের, সমতার নয়। ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্নে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মার পানি প্রবাহ হ্রাস, উত্তরবঙ্গে মরুকরণ প্রক্রিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি— এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত অস্তিত্বের প্রশ্ন যা আওয়ামী লীগের ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির কারণে কখনো জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়নি। আওয়ামী লীগ ভারতকে খুশি রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের পানি অধিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে, এটি জাতির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের সামনে এখন দু’টি পথ, রেটিংয়ের সাময়িক স্বস্তিতে সন্তুষ্ট থাকা অথবা এই স্বস্তিকে কাঠামোগত সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা। মুডিসের বার্তা মূলত দ্বিতীয় পথটির প্রয়োজনীয়তাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের উন্নতি অর্থনীতিকে কিছুটা সময় দিয়েছে; কিন্তু সেই সময় উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, ব্যাংক সংস্কার ও রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে না পারলে বর্তমান স্থিতিশীল ‘আউটলুক’ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সুতরাং মুডিসের সর্বশেষ মূল্যায়নের প্রকৃত তাৎপর্য হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে; কিন্তু মৌলিক দুর্বলতাগুলো এখনো রয়ে গেছে। সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এই আস্থাকে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রূপান্তর করা।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে শুধু অতীতের অনিয়মের হিসাব-নিকাশ হিসেবে দেখা উচিত নয়; এটি ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। এখন প্রয়োজন অস্থিরতা দীর্ঘায়িত না করে আইনসম্মতভাবে বিরোধের নিষ্পত্তি, সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কোনো আইনগত বা ন্যায়সঙ্গত প্রশ্ন থাকলে তার সমাধানও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত পথেই হওয়া উচিত। একই সাথে আমানতকারী ও গ্রাহকের স্বার্থ, ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও রক্ষা করতে হবে
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শুধু জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ নয়, কমাতে হবে নদীদূষণ, করতে হবে ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ। জেলেদের দাদন প্রথা থেকে রক্ষার বিকল্প নেই। বিদেশী ইলিশ আমদানি রোধ করতে হবে যেকোনো মূল্যে। ইলিশের সিন্ডকেট-ভাঙার কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি মূল্য নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে জাতীয় মাছ ইলিশ। বাজারে এবং রান্নাঘরে রাজত্ব করবে বিদেশী বিজাতীয় ইলিশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাতীয় মাছের সাথে পরিচিতির জন্য নিয়ে যেতে হবে ফিশ মিউজিয়ামে।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রতিটি শিশু যেন নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বের হতে পারে, বিদ্যালয় বা খেলাধুলা শেষে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এবং মা-বাবা যেন প্রতিদিন সন্তানের অপেক্ষায় আতঙ্কিত না থাকেন— এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। অপ্রতিমের মায়ের মতো আর কোনো মা-বাবাকে যেন সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ শনাক্ত করতে না হয়— এটাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংস্কৃতি একদম স্থির নয়। একরৈখিক কিংবা জড়ো নয় সে। মানুষ সবসময় গ্রহণ করে, প্রত্যাখ্যান করে, রূপান্তরিত করে এবং নতুন অর্থ সৃষ্টি করে। একটি সংস্কৃতির শক্তি তার পরিবর্তনশীলতার মধ্যেও নিহিত। এই পরিবর্তনের মধ্যেই সাংস্কৃতিক মানচিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। এ মানচিত্র একই সাথে প্রাচীন উত্তরাধিকার ও নতুন নির্মাণ। মানুষ পূর্বপুরুষের কাছ থেকে ভাষা, স্মৃতি, প্রতীক, বিশ্বাস ও জ্ঞান গ্রহণ করে। আবার নিজের সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেগুলোর অর্থ পুনর্নির্মাণ করে। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্রে থাকে চলমান জীবনপ্রক্রিয়ার প্রচ্ছদও।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে যে, দেশের তরুণসমাজ যখন ঐক্যবদ্ধ এবং সঙ্কল্পবদ্ধ হয়, তখন তারা যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। এই জাগ্রত তরুণসমাজকে এখন সঠিক দিশা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। তরুণসমাজকে যদি সামরিক বিদ্যায় দীক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোনো ধরনের সঙ্কটে ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


