মতামত
মতামত। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি, আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’
কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭) নৈতিকতা ভাব-ভাবনার নৈতিক কবিতা যখন লিখেছিলেন, (১৮৬১ সালে প্রকাশিত ‘সদ্ভাব শতক’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত ‘অপব্যয়ের ফল’ নামে) তখন বঙ্গদেশে তথা বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যুতের আগমন ঘটেনি। শিক্ষক ও সংবাদপত্র সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ১৮৯৩ সালে যখন অবসরে যান, তখনো তার বাসায় ও মাথায় বিদ্যুৎ ছিল না। ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথম ঢাকার রাস্তায়, আহসান মঞ্জিলে বিদ্যুতের বাতি জ্বলে। 
কবি দিনের আলোতে মনের হরষে মোমের বাতি জ্বালানোকে নীতি ও নৈতিকতাবর্জিত কাজ বলে ভর্ৎসনা করেছেন এবং তার পরিণতি বিষয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। কৃষ্ণচন্দ্র বাবু ভাবতে পারেননি, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও ব্যবহারের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক হবে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোটা সরকারের দায়িত্ব হিসেবে পারস্পরিক দোষারোপের হেতুতে পরিণত হবে, ভাবেননি উৎপাদন ও সঞ্চালনে দুর্নীতি এবং ব্যবহারপর্বে দৈবদুর্বিপাকের মতো বিদ্যুতের অপচয় ও অপব্যবহারে জন্য জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা নেমে আসতে পারে, বিদ্যুতের অপব্যয় ও অপব্যবহার করে প্রয়োজনের সময় বেচইন অবস্থা সৃষ্টি হবে। 
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার ব্যবস্থাপনায় যে অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে তা দেশ ও সমাজের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সহযোগী হতে পারেনি; বরং সভ্যতার সঙ্কট ও সম্ভাবনা তৈরির সাথে সাযুুজ্য সহগামী হয়েই চলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বদেশী সক্ষমতা বা সম্ভাবনাকে যথাসময়ে কাজে না লাগিয়ে, টেকসই ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শেষের দশকগুলোতে বড্ড দেরিতে রূপান্তরযোগ্য কিংবা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারকে ঢিমেতেতালায় উসকে দিলেও বিদ্যুৎ খাত রাজনৈতিক ব্যবসাবাণিজ্য ব্যাপদেশে ভূরাজনীতির ভায়রাভাইদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহারের উপায় উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। খনা তার বচনে যেমনটি বলেছিলেন, ‘রুয়ে কলা না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।’ নিজেদের উৎস ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিজের মধ্যে রাখতে দেয়নি পুঁজিবাদী বিশ্ব এবং বিদ্যুৎকে মহার্ঘ্য করে তুলতে ক্রয় আইন-কানুন পরিপালনে ইনডেমনিটি দিয়ে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ব্যবসা হয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে সমাজ ও পরিবারকে বিদ্যুৎ ব্যবহারকে উসকে দেয়া হয়েছে আর্থসামাজিক রূপান্তরে। ছেলে বিদেশে চাকরি করে গ্রামে তার মায়ের আরামের জন্য এসি এবং ফ্রিজ কিনে দিয়ে আয়বৈষম্যের ব্যবধান বেড়েছে। মহার্ঘ্য বিদ্যুৎ অপব্যবহৃত হচ্ছে, অপচয় হচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধির পেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেন বহু দেশে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশে সেগুলো পরিপালিত অনুসৃত হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান হয়। বিদ্যুৎ কেন নেই তার দোষ ও দায়ভার কর্তৃপক্ষের ওপর চাপানো হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনাবলি জারির আগে ও পরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ যাচাই করলে বোঝা যাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ায় জাতীয় মনোযোগ নিবদ্ধ হয়নি বা অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি। করিডোরে ও পথে গণবিদ্যুৎ ব্যবহারের সেন্সর পদ্ধতি (যেমন— পায়ের শব্দে বাতি জ্বলে ওঠার প্রযুক্তি) প্রয়োগে অগ্রগতি হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল বা আছে। সোলার প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা অটোমেটিক্যাল কাজ করবে। সৌরবিদ্যুৎ সহজপ্রাপ্য করতে সময় লাগছে, এ জন্য আমদানি ও শুল্ক কর হার কমাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই, এটি জাতীয় জীবন সাধনার অংশ হওয়া উচিত। নতুবা বিদ্যুতের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কুইকরেন্টালের মতো দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে, বিদেশী বস্তাপচা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ কেনার এবং নিজ দেশের পরিবেশ বিপন্নকারী যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প স্থাপনের মতো আত্মঘাতী কার্যক্রম হাতে নিয়ে দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে পরনির্ভর করার পাঁয়তারা রোধ করা যাবে না। যেমন দিনের বেলায় হরিষ করে মোমবাতি জ্বালিয়ে (বিদ্যুৎ অপচয় করে), শিল্পোৎপাদন ব্যাহত করে অর্থনীতিকে রাতের অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার শামিল হচ্ছে বা হবে। 
চলতি ২০২৬ সালের ২১ মে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল  ৩২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট (আমদানি ক্ষমতাসহ)। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। মোট গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটি চার লক্ষাধিক (৫,০৩,৭১,৮৮৩ জন)। খাতভিত্তিক ব্যবহার (আনুমানিক) আবাসিক খাত ৫০-৫৫ শতাংশ, শিল্প খাত ৩০-৩৫ শতাংশ, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য খাত প্রায় ১০ শতাংশ। যদিও পরিসংখ্যান সঠিক কি না তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ আছে, তথাপি এটি স্পষ্ট বাস্তবতা আরো সুশাসন ও জবাবদিহিহীনতায় আকীর্ণ।  
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্প্রতি একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ছাড়িয়ে গেছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি উৎস ও সাম্প্রতিক পরিবর্তন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ— ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ ৩.৯২ টেরাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছায়। দেশের কয়লাভিত্তিক বড়  মেগা প্রকল্পগুলো পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ায় এটি এখন শীর্ষ উৎপাদক জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে। একসময় দেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ৯০ শতাংশের বেশি গ্যাস থেকে আসত। তবে স্থানীয় গ্যাসের স্বল্পতা এবং আমদানিকৃত এলএনজি সঙ্কটের কারণে এর অনুপাত আগের চেয়ে বেশ কমে এসেছে। ফার্নেস অয়েল (তেল), ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি (যা বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৬৯৬ মেগাওয়াট) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি (যেমন— সৌর ও জলবিদ্যুৎ)। আমদানি (ভারত থেকে), আদানি পাওয়ার এক হাজার ৪৮৮ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা গ্রিড ৭৮১ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা ১৬৮ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের দশকওয়ারি বিবর্তন পরিসংখ্যান ও তুলনামূলক রূপরেখার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর গ্রিড থেকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের মেগা পরিকাঠামোয় পদার্পণ করেছে। শুরুর দশকে (১৯৭২-৮০) বিদ্যুৎ ব্যবহার মূলত শহরকেন্দ্রিক ও কিছু নির্দিষ্ট শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও বর্তমানে গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের ফলে আবাসিক ও কৃষি খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ব্যাপক বেড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলা হলেও সেখানে সংগ্রাম চলছেই। 
দেশ ও জাতির অর্থনৈতিক এই সঙ্কটময় মুহূর্তে বিদ্যুৎ উৎপাদন সরবরাহ ও ব্যবহারে এটি সবার উপলব্ধির আওতায় আসা আবশ্যক যে, যে ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগের দ্বারা কল্যাণকর পণ্য বা সামগ্রী উৎপন্ন তথা বিপণন হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, দেশজ সম্পদ উৎপাদনে গঠনমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে সবাইকে। বিদ্যুৎ প্রাপ্তিকে কল্যাণকর পর্যায়ে আনতে হবে। ঠিক এ সময় অপ্রয়োজনীয় বাড়তি ব্যয় পরিহার অপরিহার্য। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। দেখা যায়, তোষামোদি ও চাটুকারিতায় অনেকেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অর্থনীতির জন্য ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন পরিবর্তন প্রেক্ষাপট দেখা যায় চাটুকার, বর্ণচোরা, দুষ্টুবুদ্ধি চাঁদাবাজ খয়ের খাঁরাই জাতীয় নেতৃত্বকে ডুবিয়েছে। এসব ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেই সবাইকে সম্পৃক্ত করে দেশ রাজনীতি তথা সমাজ সংসার অর্থনীতির সংস্কার সাধনে সাধনার প্রয়োজন হবে। 
অথচ ব্যষ্টি ও সমষ্টির মধ্যে নিয়ত এ প্রয়াস প্রত্যাশিত থেকে যায় যে, তীব্র প্রতিযোগিতাময় প্রাগ্রসরমান বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে তুলনামূলক সমৃদ্ধি অর্জনের। এটি অত্যন্ত জরুরি ও প্রয়োজন যে, প্রতিনিয়ত সফলতা-ব্যর্থতার খতিয়ান পর্যালোচনা, ভুল পদক্ষেপকে শনাক্ত করে শ্রেয়তর পদক্ষেপ গ্রহণের ঐকান্তিকতার পরিপোষণ এবং বিভ্রান্তি ও বিভক্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র প্রশ্রয় পেয়ে যাতে উন্নয়নের ধারায় বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র একসূত্রে গাঁথা এবং তার বর্তমান অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যমণ্ডিত অতীতকে সফল বর্তমানে যুক্তিগ্রাহ্য করে তুলতে পারলেই তা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সোপান হিসেবে স্বীকৃত হবে। আজকের বর্তমানও একদিন ইতিহাসের বিবেচ্য বিষয় হবে। সবসময় অতীত বন্দনা ও প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টি ও মনোযোগ নিবদ্ধ থাকলে বর্তমানের কী হবে? কোন পরিচয়ে বর্তমান ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে সে বিবেচনাও যথেষ্ট জরুরি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই বর্তমানকে বিনির্মাণ প্রয়াস প্রচেষ্টার দ্বারা বিদ্যুতে সোনালি ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠার স্বাপ্ন সার্থক হতে পারে।
মোটা বুদ্ধিও যেকোনো মানুষ দিব্যচোখে দেখতে পান বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও কিংবা উন্নয়নকামী যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবায়নযোগ্যতার এবং বাস্তবায়নের দৃঢ়চিত্ততার বিষয় বিবেচনা অগ্রগণ্য না হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রয়াস নিশ্চিত হয় না। সীমাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা ঠুনকো কার্যকারণকে উপলক্ষ করে নেয়া পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী ফল বয়ে আনে না। শুধু নিজেদের মেয়াদকালে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহণ করলে, পরবর্তী জন পূর্ববর্তী জনের কার্যক্রমকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার রেওয়াজ শুরু হলে টেকসই উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়তে বাধ্য। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য দূরদৃষ্টি রূপকল্প প্রণয়নকারীর, প্রগাঢ় প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ়প্রত্যয় প্রয়োজন হয়। সমস্যা গোচরে এলে ব্যবস্থা নিতে নিতে সব সামর্থ্য ও সীমিত সম্পদ নিঃশেষ হতে দিলে প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পুঁজি ও প্রত্যয়ে ঘাটতি তো হবেই। সমস্যারা পরস্পরের মিত্র— একটির সাথে একটির যেন নাড়ির যোগাযোগ। আইনশৃঙ্খলার সাথে ব্যক্তিনিরাপত্তার, ব্যক্তিনিরাপত্তার সাথে সামাজিক নিরাপত্তার, সামাজিক নিরাপত্তার সাথে আয় উপার্জনের সব কার্যক্রমের কার্যকারণগত সম্পর্ক রয়েছে। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে চাই আয় উপার্জনের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ। শিক্ষা কর্মদক্ষতাকে, স্বাস্থ্যসেবা কর্মক্ষমতাকে, কর্মদক্ষতা ও কর্মক্ষমতা উৎপাদন ও ব্যবসাবাণিজ্যে প্রসার ঘটবে— এটিই প্রত্যাশা। সর্বত্র সেই পরিবেশের সহায়তা একান্ত অপরিহার্য যেখানে সীমিত সম্পদের ও সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব। একটিকে উপেক্ষা মানে যুগপৎভাবে অন্য অনেক সমস্যাকে ছাড় দেয়া। সমস্যার উৎসে গিয়ে সমস্যার সমাধানে ব্রতী হতে হবে। এ কাজ কারো একার নয়, এ কাজ সবার। সমস্যার মোকাবেলায় প্রয়োজন সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা পরিপোষণের জন্য নয়। যেকোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য জনমত সৃষ্টিতে, আস্থা আনয়নে ও একাগ্রতা পোষণে গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। সংস্কার বাস্তবায়ন কোনো মতেই সহজসাধ্য নয় বলেই সর্বত্র দৃঢ়চিত্ততা আবশ্যক। এখানে দ্বিধান্বিত হওয়া দ্বিমত পোষণ কিংবা প্রথাসিদ্ধবাদী বশংবদ বেনিয়া মুৎসুদ্দি মানসিকতার সাথে আপস করার সুযোগ থাকতে নেই।
লেখক : সাবেক সচিব, উন্নয়ন অর্থনীতির বিশ্লেষক 

Advertisement