
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সঙ্ঘাতে কোনো পক্ষই পিছু হটার প্রস্তুতি নিচ্ছে না। প্রত্যেকেই অন্যের পিছু হটার অপেক্ষায় আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য পিছু হটা সেই আখ্যানকে ভেঙে দেবে, যা তিনি নিরলসভাবে তৈরি করেছেন যে, তার দেশ জিতেছে এবং ইরান পরাজিত হয়েছে। গত মাসে ডেইলি বিস্টের এক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অন্তত ৬৬ বার বিজয় ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। এত বেশিবার বিজয় ঘোষণার পর পিছু হটা গুরুতর রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হবে।
তেহরান একটি ভিন্ন যুক্তির ফাঁদে আটকা পড়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এই সঙ্ঘাতকে অপরিহার্য মনে করে। এর নেতৃত্ব মনে করে, ওয়াশিংটনকে এটি না বুঝিয়ে যুদ্ধ শেষ করা উচিত নয় যে, ইরানের ওপর আক্রমণের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে ইরান আক্রমণের ব্যাপারে হয়তো তাদের অতি উৎসাহের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। তেহরানের জন্য, টিকে থাকার লক্ষ্যে প্রতিরোধব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন, কোনো বিরতি নিশ্চিত করা নয়।
এটিই এই অচলাবস্থার মূল কথা। কোনো পক্ষই পিছু হটাকে নিরাপদ মনে করছে না। শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং ওয়াশিংটনেই ভাঙবে।
ইরান ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতার কৌশলের ওপর বাজি ধরছে বলে মনে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট চাপ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে হাউছি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে জ্বালানি সরবরাহের দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর তেহরান বাড়তি নিয়ন্ত্রণ বা সুবিধা লাভ করেছে।
এর পেছনে রাজনৈতিক যুক্তিটি অত্যন্ত স্পষ্ট : দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তেলের দাম চড়া রাখে, যার ফলে পেট্রল, ডিজেল, পণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুয়েটস আমহার্স্টের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ইরান-সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
এ ছাড়া রয়টার্স-ইপসোসের এই মাসের একটি জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ কংগ্রেসনাল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে আছে (৪৪ শতাংশ বনাম ৩৭ শতাংশ); কারণ তেলের সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি রিপাবলিকানদের প্রতি জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পূর্বাভাস প্রদানকারী ওয়েবসাইট ‘রেস টু হোয়াইট হাউজ’ সম্প্রতি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ) জয়ের সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ এবং সিনেট জয়ের সম্ভাবনা ৬৮ শতাংশেরও বেশি। যুদ্ধের শুরুতে সিনেট ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা ছিল ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ নতুন তথ্যে সম্ভাবনার হারে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, সেখানে আগে রিপাবলিকানরা ৫৪ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়েছিল, এখন সেখানে ডেমোক্র্যাটরা ৩৭ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে।
রিপাবলিকানদের পরাজিত করলে ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করবে— এমন কী প্রমাণ আছে? কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও তারা গত কয়েক মাস ধরেই এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিনেটর ডেমোক্র্যাটরা ইরানবিষয়ক যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর একাধিকবার ভোটাভুটির ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ভিন্নমতের লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে : গত সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদ ২২০-২০৪ ভোটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যাতে ট্রাম্পকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক সঙ্ঘাত বা অভিযানে যেন মার্কিন বাহিনী ব্যবহার না করা হয়। প্রতিনিধি পরিষদে এ ধরনের প্রস্তাব পাসের ঘটনা এটি তৃতীয়বার।
কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে জিতলেও, ট্রাম্প একটি যৌথ যুদ্ধ বিলে ভেটো দিতে পারেন এবং সেই ভেটো বাতিল করতে হলে উভয়পক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে, যেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তাদের আরো শক্তিশালী অস্ত্র হলো কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা। ৯৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট রূপরেখা অনুমোদিত হয়েছে, যা ইরান যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা ব্যয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। রিপাবলিকানরা ‘রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে এটিকে এগিয়ে নেয়ার আশা করছে— যেটি একটি দ্রুত বাজেটপ্রক্রিয়া এবং এর জন্য সিনেটে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়।
তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা হলো প্রতিনিধি পরিষদ, যেখানে ৭৩ বিলিয়ন ডলারের ইরান যুদ্ধ প্যাকেজের বাজেট প্রস্তাবটি ২১৬-২১৪ ভোটে পাস হয়েছে, সেখানে দু’জন রিপাবলিকান সদস্য বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর একজন রিপাবলিকান সদস্য হ্যাঁ থেকে না-তে ভোট দিলে ২১৫-২১৫ ভোটে ফলাফল সমান হয়ে যেত এবং বিলটি বাতিল হয়ে যেত।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে আরো একজন রিপাবলিকান সদস্যের অবস্থান পরিবর্তন বা ভিন্নমত পোষণ করাটা খুব একটা আশ্চর্যজনক হবে না। গত জুনে প্রতিনিধি পরিষদের চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে যোগ দিয়ে ২১৫-২০৮ ভোটে ‘ওয়্যার পাওয়ারস অ্যাক্ট বা যুদ্ধ ক্ষমতাবিষয়ক আইন পাস করেছিলেন। এতে ট্রাম্পকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেন কোনো সঙ্ঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ওই মাসের শেষের দিকে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সময় আরো চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না— এই প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থানের সাথে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বেশ কয়েকটি সূচকে খারাপ পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন ৩৩ শতাংশ নেমেছে। ৬৭ শতাংশ বলেছেন, তারা ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দেন না। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদে সিএনএনের জরিপে সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। রয়টার্স বা ইপসপের সেপ্টেম্বরের জরিপে ও ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন ৩২ শতাংশে নেমে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএনএনের জরিপে ইরান যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ। অন্য দিকে ৪৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোট ট্রাম্পের বিরোধিতার বার্তা দেবে। ট্রাম্পকে সমর্থনের বার্তা দিতে ভোট দেবেন বলেছে ১৯ শতাংশ।
যদিও রিপাবলিকানদের দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ভোট দেয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তবে সে ভোটগুলো দেয়া হয়েছিল সমসাময়িক ‘ওয়্যার পাওয়ারস রেজলু্যুশন’ এর (যুদ্ধবিষয়ক ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাব) ওপর; কোনো যৌথ প্রস্তাব বা বিলের ওপর নয়, প্রেসিডেন্টের কাছে যেত এবং সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত হতো। নির্বাচনের পর দলের মূল অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভিন্নমত পোষণের রাজনৈতিক তাগিদ আরো বাড়তে পারে। নভেম্বরে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ) রিপাবলিকানরা ২০২৮ সালের নির্বাচনের দিকে নজর দিতে শুরু করবেন। সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর কারণে ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে পারবেন না, অথচ প্রতিনিধি পরিষদের ওই সদস্যদের ২০২৮ সালে আবারো ভোটারদের মুখোমুখি হতে হবে।
যদি যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতির কারণে ২০২৬ সালে ভোটাররা রিপাবলিকানদের শাস্তি দেয় (অর্থাৎ ভোট না দেয়), তবে নবনির্বাচিত বা পুনর্নির্বাচিত সদস্যদের বিশেষ করে যারা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচনী এলাকা থেকে এসেছেন— তাদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী বা অনির্দিষ্টকালের সঙ্ঘাত থেকে নিজেদের দূরে রাখার জন্য একটি শক্তিশালী প্রণোদনা পাবেন, অথবা উচ্চ জ্বালানি মূল্যের জন্য দায়ী হয়ে আরো দুই বছর কাটাবেন এবং একটিমাত্র ভোটের ওপর ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি জোটে আটকে থাকবেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে যদি রিপাবলিকানরা নভেম্বরে হাউজ বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তারা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন অধিবেশন চালু রাখবে, যখন নতুন কংগ্রেস অসমাপ্ত আইন গ্রহণ করবে, যা পরে বাতিল হয়ে যাবে এবং আবার এই আইন উত্থাপন করতে হবে।
এর ফলে রিপাবলিকানদের হাতে ৭৩ বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়ার জন্য শুধু এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়টুকুই থাকবে, যা তাদের বিপক্ষে কাজ করতে পারে। পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ও অস্ত্রের জন্য অর্থায়নের সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের আগে প্রত্যাশিত নয় এবং ২০২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট সিদ্ধান্ত এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। এর তাৎপর্য সহজবোধ্য। হার্স্টের সময়সূচি থেকে বোঝা যায়, অর্থায়নের লড়াই ডিসেম্বরের আগে শুরু নাও হতে পারে এবং তা ৩ জানুয়ারির পরও যেতে পারে। সুতরাং ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে এই কংগ্রেসকে সুরক্ষিত করার জন্য রিপাবলিকানদের হাতে হয়তো মাত্র চার সপ্তাহ সময় থাকবে।
যেহেতু অনেক বর্তমান সদস্য আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন এবং হাউজের ভোটের ব্যবধান কার্যত মাত্র এক ভোটের, তাই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর একটি যুদ্ধের জন্য অর্থায়ন প্যাকেজ নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ বলে প্রমাণিত হতে পারে।
এমনকি যদি রিপাবলিকানরা জানুয়ারির আগে ৭৩ বিলিয়ন ডলারের বিলটি পাসও করে, পরবর্তী কংগ্রেস যুদ্ধের জন্য আগে বরাদ্দকৃত কিন্তু অব্যয়িত তহবিল ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের নজিরটি বিশেষভাবে শিক্ষণীয়। ১৯৭৩ সালে রিচার্ড নিক্সন প্রাথমিকভাবে মার্কিন বোমাবর্ষণ বন্ধ করার একটি সম্পূরক অর্থায়ন বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। কংগ্রেস এর জবাবে অপরিহার্য ব্যয়সংক্রান্ত বিলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কংগ্রেসের নথিতে পরে উল্লেখ করা হয়, নিক্সন যদি অপরিহার্য খাতে ভেটো দিতেন, তবে তিনি সরকারকে ব্যয়ের ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার ঝুঁকি নিতেন। এই বিলটি ইন্দো-চায়নায় আরো মার্কিন যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দও নিষিদ্ধ করেছিল। তিনি অবশেষে একটি সমঝোতায় আসেন, যেখানে ১৯৭৩ সালের ১৫ আগস্টকে শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। একটি গণতান্ত্রিক কংগ্রেস ইরানের ব্যাপারেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য উদ্যোগ নিতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা যদি উভয় চেম্বার নিয়ন্ত্রণ করে তারা নতুন তহবিল এবং ব্যয়িত অর্থকে আবার ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযানে অর্থায়ন করা থেকে বিরত রাখতে পারে।
ট্রাম্প এ ধরনের একটি বিলে ভেটো দিতে পারেন, কিন্তু সেখানেই কংগ্রেসের লিভারেজ শক্তিশালী হতে পারে : তাকে তার নিজস্ব পেন্টাগন বা আরো বিস্তৃত পর্যায়ের সরকারের জন্য অর্থায়নে ভেটো দিতে হবে, কারণ কংগ্রেস ইরান যুদ্ধে অর্থায়ন করতে অস্বীকার করেছিল। একটি স্বতন্ত্র যুদ্ধবিরোধী ব্যবস্থায় ভেটো দেয়ার চেয়ে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক, যা নিক্সনকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য করেছিল।
ডেমোক্র্যাটরা যদি শুধু প্রতিনিধি পরিষদে জয়ী হয়, তবে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা কমে যাবে; কিন্তু এখনো তাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের সম্মতি ছাড়া ইরান যুদ্ধের জন্য নতুন করে কোনো অর্থায়ন আইনে পরিণত হতে পারবে না। যুদ্ধক্ষেত্র হয়তো এই অচলাবস্থা ভাঙতে পারবে না। তবে মার্কিন ব্যালটবক্স অচলাবস্থা ভাঙতে পারে।
লেখক : যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, নয়া দিগন্ত
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








