মতামত
মতামত নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স


মানচিত্র বললেই আমাদের চোখে সাধারণত একটি ভূখণ্ড ভেসে ওঠে। কিন্তু মানুষ যে ভূখণ্ডে বসবাস করে, তার পরিচয় ভৌগোলিক মানচিত্রে সীমিত নয়। একটি জনপদের আরেকটি গায়েবি ভূগোল থাকে। সেখানে নদীর পাশাপাশি থাকে স্মৃতি, ভাষার পাশাপাশি থাকে উপমা, স্থানের পাশাপাশি থাকে বিশ্বাস, খাদ্যের পাশাপাশি থাকে রুচি, উৎসবের পাশাপাশি থাকে আচার, আর মানুষের পাশাপাশি থাকে তার পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া গল্প। এই অদৃশ্য ভূগোলের বিন্যাসই সাংস্কৃতিক মানচিত্রের বিষয়।
সাংস্কৃতিক মানচিত্র হলো কোনো সমাজের জীবন, স্থান ও অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত অর্থগুলোর বিন্যাস এবং সেই অর্থ নির্মাণ ও বৈধতা দেয়ার ক্ষমতাগুলোর সরহদ্দ।
একটি সমাজ কিভাবে নিজেকে বোঝে, কাকে অর্থপূর্ণ মনে করে, কোন স্মৃতিকে ধারণ করে, কোন প্রতীককে সম্মান করে, কোন জবানে অনুভূতি জাহির করে, কোন জ্ঞানকে মূল্যবান মনে করে এবং কোন জীবনপদ্ধতিকে স্বাভাবিক বলে কবুল করে— তার অর্থবিন্যাস দ্বারা এ মানচিত্র পয়দা হয়।
ভূগোলের প্রধান সওয়াল হলো— আমরা কোথায়? সাংস্কৃতিক মানচিত্র সেখানে যুক্ত করে আরো প্রশ্ন— আমরা কারা? কীভাবে? কেন? কোন স্মৃতি নিয়ে? কোন বিশ্বাস বহন করি? আমরা কোন অর্থে আমরা? উভয়ের ফারাকটা মৌলিক। 
একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের কাছেও একটি স্থান একই অর্থ বহন করে না। একটি নদী কারো কাছে কেবল জলপ্রবাহ, কারো কাছে জীবিকার উৎস, কারো কাছে শৈশবের স্মৃতি, কারো কাছে পবিত্রতার প্রতীক, আবার কারো কাছে একটি কবিতার জন্মভূমি। বস্তু একই; কিন্তু তার সাংস্কৃতিক অবস্থান ভিন্ন। সাংস্কৃতিক মানচিত্র সেই অর্থের ভূগোলকে দৃশ্যমান করে।
এর সাথে যুক্ত হয় স্থান। ভূগোলের কোনো জায়গা যখন মানুষের স্মৃতি, বিশ্বাস, শ্রম, সম্পর্ক, আচার ও অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হয়, তখন তা হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক জমি। একটি নদীকে ঘিরে তৈরি হয় বহু স্মৃতি। তাতে থাকে নৌকা, গান, পেশা, বাজার, প্রেম, বন্যা, উৎসব ও শৈশব। তখন নদীটি হয়ে উঠে সাংস্কৃতিক অর্থবাহী স্থান। একটি পুরনো মাজার, পাঠশালা, বাজার, কবরস্থান কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রও একটি সমাজের সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। মানুষ স্থানকে অর্থ দেয়, আবার স্থানও মানুষের জীবন, আচরণ ও স্মৃতিকে গঠন করে। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্র আঁকতে হলে জানতে হয়— এখানে মানুষের জন্য কী অর্থ নিহিত আছে?
মানুষ সেরেফ কোনো জায়গায় বাস করে না; সে একটি অর্থবিশ্বের মধ্যে বাস করে। সেখানে সবলে আছে ভাষা, আপন কায়দায় চিনে নেয়া, চেনানো।
একটি শিশুর পৃথিবীকে চিনে নেয়ার প্রক্রিয়াই এর পয়লা উদাহরণ। সে মাতৃভাষায় পয়লা শিখে কিছু শব্দ। যেমন— ‘মা’, ‘বাড়ি’, ‘মাটি’, ‘পানি’, ‘আকাশ’, ‘আপন’, ‘পর’, ‘ভালো’-‘মন্দ’। যখন এগুলো শিখে, সেরেফ শব্দ শেখে না; পৃথিবীকে দেখার একটি তরিকাও উত্তরাধিকার সূত্রে গ্রহণ করে। ভাষা তাই সংস্কৃতির বাহন, ভাষা আবার সংস্কৃতির দৃষ্টিও। একটি সমাজ যে শব্দ তৈরি করে, যে শব্দকে বিশেষ অর্থ দেয়, যে উপমায় অনুভূতি বয়ান করে, যে প্রবাদে অভিজ্ঞতা জমিয়ে রাখে, তার মধ্যে অঙ্কিত থাকে সেই সমাজের জীবনবোধের রেখাচিত্র। এই কারণে সাংস্কৃতিক মানচিত্রের প্রথম স্তর ভাষা।
কিন্তু ভাষার গভীরে থাকে স্মৃতি। একটি সমাজ তার অতীতকে কীভাবে স্মরণ করে, কোন ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, কোন মানুষকে নায়ক হিসেবে ধারণ করে, কোন আঘাতকে প্রজন্মান্তরে বহন করে এবং কোন গল্পের কাছে বারবার ফিরে যায়— এসবের মধ্য দিয়ে তার সাংস্কৃতিক স্মৃতি তৈরি হয়।
ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি এক জিনিস নয়। ইতিহাস দলিল, প্রমাণ ও গবেষণার মাধ্যমে অতীতকে অনুসন্ধান করে; সাংস্কৃতিক স্মৃতি মানুষের জীবনযাপনে অতীতের হাজিরিকে বহন করে। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো স্মৃতির ভূগোল। কাকে মনে রাখা হয়েছে এবং কাকে ভুলে যাওয়া হয়েছে, তারও একটি মানচিত্র আছে।
সংস্কৃতি আবার প্রতীকের মাধ্যমে নিজেকে জাহির করে। একটি পতাকা, স্থাপত্যের কোনো বিশেষ রীতি, পোশাক, অলঙ্কার, খাদ্য, যন্ত্র, ধর্মীয় চিহ্ন, কোনো বৃক্ষ, প্রাণী কিংবা সিল, শিলালেখা বস্তুর সীমানা পার হয়ে যায়। মানুষ তাদেরকে প্রতীকে পরিণত করে। 
একটি ছোট প্রতীকে থাকে বিপুল ঐতিহাসিক স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিক অনুভূতি কিংবা সামাজিক পরিচয়। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্রে প্রতীক হলো গায়েবি অর্থের জাহেরি শরীর।
সাংস্কৃতিক মানচিত্রে কাজ করে আচরণ ও রীতি। 
মানুষ কী করে, তা যেমন সংস্কৃতি, তেমনি তা কেন করে, সেটিও সংস্কৃতির আলাপ। কোন আচরণ সম্মানের, কোনটি অসম্মানের; অতিথির সাথে কেমন আচরণ করতে হয়; বৃদ্ধ, শিশু, প্রতিবেশী, গরিব কিংবা অপরিচিত মানুষের প্রতি কী দায়িত্ব; কোন ধরনের জিন্দেগিকে আদর্শ মনে করা হয়— এসবের সামাজিক উত্তরও সাংস্কৃতিক মানচিত্রের হিস্যা।
এর সাথে আসে মূল্যবোধ। মানে আমরা কোনটিকে ভালো, ন্যায় ও সুন্দর মনে করি? মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি আচরণ থেকে জীবনদর্শনে উত্তীর্ণ হয়। এখানে মানুষের আচরণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের বিচারবোধ। কোনটি সুন্দর, কোনটি অসুন্দর; কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়; কোনটি পবিত্র, কোনটি অপবিত্র; কোনটি কাম্য, কোনটি বর্জনীয়— এসব বোধও একটি সমাজের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে স্থান পায়।
ধর্ম এই অর্থবিন্যাসের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠক। ধর্ম মানুষের কাছে জীবন, মৃত্যু, প্রকৃতি, নৈতিকতা, সময়, পবিত্রতা, দায়িত্ব ও মানুষের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অর্থকাঠামো সৃজন করে। ধর্মীয় বিশ্বাস শুধু উপাসনালয়ে তপজপ করে না; সে দাখিল হয় ভাষা ও স্থাপত্যে, পোশাক ও খাদ্যে, পারিবারিক রীতি ও উৎসবে, দান ও সামাজিক সম্পর্কে। 
আরেকটি বড় উপাদান জ্ঞানের সাথে যুক্ত। 
সংস্কৃতির জ্ঞান বিদ্যালয়ে থাকে বটে। তবে সে সেরেফ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার কিংবা গ্রন্থাগারে বন্দী নয়। কৃষক কখন বীজ বুনবেন, জেলে কোন মৌসুমে নদীতে নামবেন, কারিগর কোন কাঠ বা মাটিকে কিভাবে এস্তেমাল করবেন, গ্রামীণ মানুষ কোন উদ্ভিদকে কোন কাজে লাগান, নৌকার মাঝি নদীর স্রোত কিভাবে পড়েন, এগুলোও জ্ঞান। এই জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় মৌখিকভাবে, অনুশীলনের হাত ধরে, গল্পে কিংবা পারিবারিক শিক্ষায়। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্র আসলে একটি জ্ঞানমানচিত্রও। 
এখান থেকে খোলাসা হয় সাংস্কৃতিক মানচিত্রের জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব। কারণ কোনো সমাজের সংস্কৃতির মানচিত্র যেভাবে তার জীবনকে দেখায়, তেমনি সেই জীবনকে দেখার তরিকাও বয়ান করে। একটি সমাজ নিজেকে যে চোখে দেখে এবং অন্য কেউ তাকে একই চোখে দেখে না। এই দুই মানচিত্র সবসময় এক হয় না। এখানে আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটি আরো গভীর হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় মানে নিজের অভিজ্ঞতা, ইতিহাস, ভাষা, জ্ঞান, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজস্ব অর্থবোধ তৈরি করার ক্ষমতা। 
কিন্তু আমাদের অর্থেট মানচিত্র আসলে কে আঁকে? কাজটি করে ক্ষমতা। ক্ষমতার মানচিত্র জানিয়ে দেয়, সংস্কৃতির কতটা দৃশ্যমান হবে, গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত হবে কোনটা, কোন সীমারেখা আঁকা হবে, কোন স্থানকে বলা হবে কেন্দ্র। একই সাথে জরুরি বহু ইস্যু ক্ষমতার হাত দিয়ে পথ পায়। যেমন— কোন স্মৃতি পাঠ্যপুস্তকে থাকবে, কাকে বলা হবে নায়ক। 
 শুধু রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতা সীমিত নয়। পরিবার, শিক্ষা, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য, শিল্প, বাজার এবং দৈনন্দিন সামাজিক আচরণের মধ্য দিয়েও চলে ক্ষমতার কাজ। ফলে কিভাবে কোনো কিছু অর্থপূর্ণ হয়ে উঠছে, কার ভাষায় তা অর্থপূর্ণ হচ্ছে এবং কার অভিজ্ঞতা দৃশ্যমান বা অদৃশ্য হয়ে থাকছে— তার পাঠও সাংস্কৃতিক মানচিত্রের কাজ।
সাংস্কৃতিক মানচিত্র নষ্ট হলে একটি গভীর ঘটনা ঘটে। মানুষ তার নিজের জীবনকে নিজের অর্থের মধ্য দিয়ে পড়তে পারে না। এই ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। এই ধারায় আরো যা যা ঘটে, তার মধ্যে আছে— ক. নিজের ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তিকে অস্বীকার করা; খ. নিজের ঐতিহ্যকে তুচ্ছ ভাবা; গ. নিজের ইতিহাসের ব্যাখ্যা অন্যের কাছ থেকে ধার করা; ঘ. নিজের শিল্প ও জীবনপদ্ধতিকে প্রধানত বাইরের মানদণ্ডে বিচার করা। বাইরের প্রভাব আর পরিবর্তন সবসময় এক নয়। সংস্কৃতি স্বভাবতই পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন তখনই সমস্যা, যখন পরিবর্তনের দিক ও অর্থ নির্ধারণের ক্ষমতাটি নিজের হাতে থাকে না।
এই জায়গায় সাংস্কৃতিক উপনিবেশের প্রশ্ন আসে। কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তারের একটি উপায় হলো তার জ্ঞান, ভাষা, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের ব্যাখ্যাকে জবরদখল করা। এর মধ্য দিয়ে দখলদাররা স্থির করে যে, নিজের দেশকে তুমি কোন চোখে দেখবে?
এই সঙ্কট সাংস্কৃতিক মানচিত্রের আজাদি থাকা না থাকার ফয়সালার দিকে এগিয়ে যায়। কারণ যে ব্যক্তি অন্যের তৈরি শ্রেণিবিন্যাসে নিজের সমাজকে পাঠ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে নিজের বাস্তবতাকে দেখলেও তার অর্থ নিজে নির্মাণ করে না। নিজের ইতিহাসকে অন্যের ব্যাখ্যায়, নিজের জ্ঞানকে অন্যের মানদণ্ডে, নিজের সৌন্দর্যকে অন্যের রুচিতে এবং নিজের সভ্যতাকে অন্যের কাঠামো দিয়ে বিচার করতে করতে একটি সাংস্কৃতিক নির্ভরতা তৈরি হয়। সাংস্কৃতিক মানচিত্র তখন অন্যের অধীন।
এই কারণে সাংস্কৃতিক মানচিত্রের মালিকানার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমাজ সম্পর্কে বাইরের গবেষক তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন; কিন্তু তথ্য সংগ্রহ আর সাংস্কৃতিক আত্মপ্রতিনিধিত্ব এক জিনিস নয়। অন্যের চোখে একটি জনগোষ্ঠীকে আঁকা এবং সেই জনগোষ্ঠীকে নিজের ভাষায় নিজেকে আঁকার সুযোগ দেয়ার মধ্যে মৌলিক ফারাক আছে। সাংস্কৃতিক মানচিত্র চায় অংশীদারত্ব। যখন মানুষ নিজের সাংস্কৃতিক বাস্তবতা সম্পর্কে কথা বলার, স্মৃতি সংরক্ষণ করার, জ্ঞান শনাক্ত করার এবং নিজের অর্থবোধ ব্যাখ্যা করার সক্রিয় অংশীদার হয়, তখন মানচিত্রটি সজাগ, প্রাণবন্ত।
সংস্কৃতি একদম স্থির নয়। একরৈখিক কিংবা জড়ো নয় সে। মানুষ সবসময় গ্রহণ করে, প্রত্যাখ্যান করে, রূপান্তরিত করে এবং নতুন অর্থ সৃষ্টি করে। একটি সংস্কৃতির শক্তি তার পরিবর্তনশীলতার মধ্যেও নিহিত। এই পরিবর্তনের মধ্যেই সাংস্কৃতিক মানচিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। এ মানচিত্র একই সাথে প্রাচীন উত্তরাধিকার ও নতুন নির্মাণ। মানুষ পূর্বপুরুষের কাছ থেকে ভাষা, স্মৃতি, প্রতীক, বিশ্বাস ও জ্ঞান গ্রহণ করে। আবার নিজের সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেগুলোর অর্থ পুনর্নির্মাণ করে। ফলে সাংস্কৃতিক মানচিত্রে থাকে চলমান জীবনপ্রক্রিয়ার প্রচ্ছদও।
সাংস্কৃতিক মানচিত্র কেবল অতীতের মোহাফেজখানা নয়। সে বরং বর্তমানকে বোঝার, নিজের অবস্থান নির্ণয়ের এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকরণ। সে জানায়— আমরা কোথায় আছি? সে সওয়াল করে— আমরা কী অর্থের মধ্যে আছি, কোন স্মৃতি আমাদের বহন করছে, কোন জ্ঞান আমাদের পথ দেখাচ্ছে, কোন ক্ষমতা আমাদের মানচিত্র আঁকছে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেদের মানচিত্র নিজেই আঁকতে পারছি কি না? পরাধীন মানুষ এসব সওয়ালের মুখোমুখি হতে ভয় পায়! 


লেখক : কবি, গবেষক 

72.alhafij@gmail.com