
গত কয়েক দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। একই সাথে তারা রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশানে একটি ঝটিকা মিছিলও করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো— এসব ঘটনা ঘটছে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় এবং অনেকটা পুলিশের একটি অংশের সহযোগিতায়! কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দল যদি এভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নাশকতা করে, তাহলে মানুষ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কাদের ওপর ভরসা করবে?
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পালানো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েক হাজার মাঝারি ও তৃণমূল নেতাকর্মী বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা ঢাকার বিভিন্ন সাধারণ আবাসিক এলাকা, ব্যাচেলর মেস, সস্তা হোটেল এবং আত্মীয়স্বজনদের বাসাবাড়িতে ছদ্মবেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ঢাকার মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, মুগদা, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী এবং পুরান ঢাকার সূত্রাপুর-কোতোয়ালি এলাকার কিছু মেস ও ফ্ল্যাট বাড়িতে এরা ঘন ঘন যাতায়াত ও গোপন বৈঠক করছেন। এসব নেতাকর্মী রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিল করছেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাজ করার কথা, তাদেরই একটি অংশ গোপনে তাদের সহযোগিতা করছে। এই অংশ বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে পুলিশের ভেতরে বৈষম্যের শিকার দাবি করে বর্তমান সরকারে ভালো পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এরাই এখন ভেতরে থেকে আইনশৃঙ্খল বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন এবং গোপনে আওয়ামী লীগকে অপারেশনের তথ্য সরবরাহ করছেন।
নাশকতা করার সুযোগ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে পাচ্ছে শুধু তা নয়; বরং গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর আওয়ামীবিরোধী শক্ত অবস্থান না থাকার কারণও তা হতে পারছে। বিস্ময়ের সাথে আমরা লক্ষ করেছি, চব্বিশের ছাত্র-জনতা হত্যাকারী আওয়ামী লীগের প্রতি গণ-অভ্যুত্থানের অংশ নেয়া অনেক দলই সহানুভূতি দেখাচ্ছে। দল ভারী করা এবং পুরনো অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেয়ার জন্য যদি তা করে, সেটি বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী-বিশেষত পুলিশ একাকার হয়ে গিয়েছিল। একে-অপরের সহযোগিতায় তারা শেখ হাসিনার লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকা পালন করেছে। এমতাবস্থায় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশকে আরো বেশি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা দরকার ছিল; কিন্তু তা করা হয়নি। তার বদলে আমরা বরং দেখছি, সেই আওয়ামী আমলের মতোই এখন পুলিশে দলীয়করণ হচ্ছে। এটি বিপজ্জনক একটি প্রবণতা।
ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেয়া বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। বাসে আগুন দেয়ার পরে নয়, আগেই এসব আওয়ামী দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করতে হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করতে রাজধানীতে অব্যাহত অভিযান চালাতে হবে। পতিত আওয়ামী লীগের নাশকতা বন্ধ করা কোনো কঠিন কাজ নয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে সংস্কার করে তাদের পেশাদার অবস্থানে আনতে হবে।







