সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সেরা ব্যাংক। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুদমুক্ত জীবনযাপনের ধর্মবিশ্বাসের আলোকে গড়ে উঠায় ব্যাংকটি শুরু থেকেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ব্যাপকভাবে লাভ করতে সক্ষম হয়। ফলে দ্রুত দেশের সব জায়গায় ইসলামী ব্যাংকের শাখা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ব্যাংকের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে একের পর এক আরো ইসলামী ব্যাংক গড়ে ওঠে। প্রচলিত ধারার অন্যান্য ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকিং উইং খুলতে বাধ্য হয়। ইসলামী ব্যাংকের এই সফলতার নেপথ্যে ছিল ব্যাংকটির একদল সৎ, যোগ্য ও দক্ষ জনবল।  
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একের পর বিরূপ প্রচারণা চালানো হয়। আওয়ামী মদদে ব্যাংকটি ধ্বংসে হীন কোনো কাজ নেই যা সে সময় করা হয়নি। দেশের তথাকথিত অর্থনীতিবিদদের দিয়ে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটি লুটপাট করতে সরকারের সহযোগিতায় জোরপূর্বক দখলে নেন ব্যাংক খাতের মাফিয়া এস আলম। 
২০১৭ সালে ব্যাংকটি দখলে নিয়ে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পর্যায়ে একের পর এক অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে থাকেন এস আলম। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে— তখন এস আলম ব্যাংকটিতে এমন সব লোকদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয় যাদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতাই ছিল না। এসব ব্যক্তির মধ্যে ছিল পানের দোকানদার, গৃহকর্মী, অটোরিকশাচালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী এবং রংমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এসব মানুষকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি করে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। 
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে ছয় হাজার ৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি তিন হাজার ৯৯১ জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তির বড় অংশই চট্টগ্রামের— বিশেষ করে এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়ার। 
এসব অযোগ্য ও অদক্ষ লোকবল নিয়োগের ফলে ইসলামী ব্যাংক দিনে দিনে রুগ্ণ হতে থাকে। সেবার মান কমে যায়। মানুষ আমানত তুলে নিতে থাকে। পরবর্তী সাত বছরে এসব অযোগ্য ব্যক্তির পেছনে ব্যাংকটির অপচয় হয় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। একই সময় এস আলম ব্যাংকের এক লাখ কোটি টাকা লুুটে এটিকে একেবারে দুর্বল করে দেন। 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি নিয়মের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। একটি বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তার এক তদন্তে এর সত্যতা পেয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের জন্য এখন প্রয়োজন অতীতের হারানো ইতিবাচক ইমেজ ফিরিয়ে আনা। এ জন্য ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, এ যাত্রায় তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।  ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের অবৈধ নিয়োগ 
ইমেজ ফেরাতে হবে
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সেরা ব্যাংক। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুদমুক্ত জীবনযাপনের ধর্মবিশ্বাসের আলোকে গড়ে উঠায় ব্যাংকটি শুরু থেকেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ব্যাপকভাবে লাভ করতে সক্ষম হয়। ফলে দ্রুত দেশের সব জায়গায় ইসলামী ব্যাংকের শাখা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ব্যাংকের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে একের পর এক আরো ইসলামী ব্যাংক গড়ে ওঠে। প্রচলিত ধারার অন্যান্য ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকিং উইং খুলতে বাধ্য হয়। ইসলামী ব্যাংকের এই সফলতার নেপথ্যে ছিল ব্যাংকটির একদল সৎ, যোগ্য ও দক্ষ জনবল।  
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একের পর বিরূপ প্রচারণা চালানো হয়। আওয়ামী মদদে ব্যাংকটি ধ্বংসে হীন কোনো কাজ নেই যা সে সময় করা হয়নি। দেশের তথাকথিত অর্থনীতিবিদদের দিয়ে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটি লুটপাট করতে সরকারের সহযোগিতায় জোরপূর্বক দখলে নেন ব্যাংক খাতের মাফিয়া এস আলম। 
২০১৭ সালে ব্যাংকটি দখলে নিয়ে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পর্যায়ে একের পর এক অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে থাকেন এস আলম। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে— তখন এস আলম ব্যাংকটিতে এমন সব লোকদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয় যাদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতাই ছিল না। এসব ব্যক্তির মধ্যে ছিল পানের দোকানদার, গৃহকর্মী, অটোরিকশাচালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী এবং রংমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এসব মানুষকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি করে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। 
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে ছয় হাজার ৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি তিন হাজার ৯৯১ জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তির বড় অংশই চট্টগ্রামের— বিশেষ করে এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়ার। 
এসব অযোগ্য ও অদক্ষ লোকবল নিয়োগের ফলে ইসলামী ব্যাংক দিনে দিনে রুগ্ণ হতে থাকে। সেবার মান কমে যায়। মানুষ আমানত তুলে নিতে থাকে। পরবর্তী সাত বছরে এসব অযোগ্য ব্যক্তির পেছনে ব্যাংকটির অপচয় হয় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। একই সময় এস আলম ব্যাংকের এক লাখ কোটি টাকা লুুটে এটিকে একেবারে দুর্বল করে দেন। 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি নিয়মের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। একটি বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তার এক তদন্তে এর সত্যতা পেয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের জন্য এখন প্রয়োজন অতীতের হারানো ইতিবাচক ইমেজ ফিরিয়ে আনা। এ জন্য ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, এ যাত্রায় তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।  ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের অবৈধ নিয়োগ 
ইমেজ ফেরাতে হবে
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সেরা ব্যাংক। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুদমুক্ত জীবনযাপনের ধর্মবিশ্বাসের আলোকে গড়ে উঠায় ব্যাংকটি শুরু থেকেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ব্যাপকভাবে লাভ করতে সক্ষম হয়। ফলে দ্রুত দেশের সব জায়গায় ইসলামী ব্যাংকের শাখা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ব্যাংকের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে একের পর এক আরো ইসলামী ব্যাংক গড়ে ওঠে। প্রচলিত ধারার অন্যান্য ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকিং উইং খুলতে বাধ্য হয়। ইসলামী ব্যাংকের এই সফলতার নেপথ্যে ছিল ব্যাংকটির একদল সৎ, যোগ্য ও দক্ষ জনবল।  
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একের পর বিরূপ প্রচারণা চালানো হয়। আওয়ামী মদদে ব্যাংকটি ধ্বংসে হীন কোনো কাজ নেই যা সে সময় করা হয়নি। দেশের তথাকথিত অর্থনীতিবিদদের দিয়ে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটি লুটপাট করতে সরকারের সহযোগিতায় জোরপূর্বক দখলে নেন ব্যাংক খাতের মাফিয়া এস আলম। 
২০১৭ সালে ব্যাংকটি দখলে নিয়ে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পর্যায়ে একের পর এক অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে থাকেন এস আলম। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে— তখন এস আলম ব্যাংকটিতে এমন সব লোকদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয় যাদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতাই ছিল না। এসব ব্যক্তির মধ্যে ছিল পানের দোকানদার, গৃহকর্মী, অটোরিকশাচালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী এবং রংমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এসব মানুষকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি করে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। 
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে ছয় হাজার ৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি তিন হাজার ৯৯১ জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তির বড় অংশই চট্টগ্রামের— বিশেষ করে এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়ার। 
এসব অযোগ্য ও অদক্ষ লোকবল নিয়োগের ফলে ইসলামী ব্যাংক দিনে দিনে রুগ্ণ হতে থাকে। সেবার মান কমে যায়। মানুষ আমানত তুলে নিতে থাকে। পরবর্তী সাত বছরে এসব অযোগ্য ব্যক্তির পেছনে ব্যাংকটির অপচয় হয় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। একই সময় এস আলম ব্যাংকের এক লাখ কোটি টাকা লুুটে এটিকে একেবারে দুর্বল করে দেন। 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি নিয়মের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। একটি বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তার এক তদন্তে এর সত্যতা পেয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের জন্য এখন প্রয়োজন অতীতের হারানো ইতিবাচক ইমেজ ফিরিয়ে আনা। এ জন্য ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, এ যাত্রায় তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।