মোবাইল ব্যালান্সে ভ্যাটের নতুন নজরদারি

বিশেষ সংবাদদাতা 

Advertisement

মোবাইল ফোনের ব্যালান্স এখন আর শুধু কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম নয়। এটি ধীরে ধীরে ডিজিটাল পেমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে। গুগল প্লে, অ্যাপ স্টোর, ইন-অ্যাপ পারচেজ, বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন, ই-টিকিটিং ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা কিনতেও মোবাইল ব্যালান্স ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এই লেনদেনের ওপরও নজর বাড়িয়েছে রাজস্ব প্রশাসন। 
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাধারণ আদেশ নং ০৭/মূসক/২০২৬-এর মাধ্যমে ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং বা ডিওবি ব্যবস্থায় সেবামূল্য আদায়, ভ্যাট জমা, কর সমন্বয় এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।
আদেশটির উদ্দেশ্য ডিজিটাল সেবা থেকে প্রাপ্য ভ্যাট সঠিকভাবে আদায় করা হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশী সেবাদাতার প্রকৃত আয় যাচাই, একই লেনদেনে দু’বার ভ্যাট কাটা ঠেকানো, মোবাইল অপারেটরের কমিশনের ওপর ভ্যাট এবং সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কর পরিশোধের প্রমাণ যাচাই- এসব বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। 
মোবাইল ব্যালান্স এখন পেমেন্টের মাধ্যম 
ডিওবি হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে গ্রাহক মোবাইল অপারেটরের ব্যালান্স ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা কিনতে পারেন; অর্থাৎ গ্রাহকের মোবাইল ব্যালান্স এখানে অনেকটা পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটর শুধু টেলিযোগাযোগ সেবা দেয় না; অন্য কোনো সেবাদাতার পক্ষে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থও সংগ্রহ করে। বিনিময়ে অপারেটর কমিশন বা ফি পায়। 
সহজভাবে বলা যায়- গ্রাহক ম মোবাইল অপারেটর ম দেশীয় বা বিদেশী সেবাদাতা 
এর পাশাপাশি লেনদেনের প্রযোজ্য ভ্যাট যায় সরকারি কোষাগারে এবং অপারেটরের কমিশন হয় তার নিজস্ব আয়। এই অর্থের প্রবাহ আলাদা করে দেখানোই এনবিআরের নতুন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
ভ্যাট কার আয়ের ওপর? 
আদেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- বিদেশী সেবাদাতার সেবামূল্যকে মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব আয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। অপারেটর শুধু সেবাদাতার পক্ষে অর্থ সংগ্রহ করবে। অন্য দিকে অপারেটর যে কমিশন বা ফি পাবে, সেটি হবে তার নিজস্ব আয় এবং এর ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট দিতে হবে। 
বিষয়টি একটি উদাহরণে পরিষ্কার করা যায়। ধরা যাক, একজন গ্রাহক একটি বিদেশী ডিজিটাল সেবা কিনতে এক হাজার টাকা দিলেন। এর মধ্যে বিদেশী সেবাদাতার প্রাপ্য ৯০০ টাকা এবং মোবাইল অপারেটরের কমিশন ১০০ টাকা। 
এই পুরো এক হাজার টাকা মোবাইল অপারেটরের আয় হিসেবে দেখানো হলে হিসাবটি ভুল হবে। কারণ ৯০০ টাকা আসলে বিদেশী সেবাদাতার প্রাপ্য। অপারেটরের প্রকৃত আয় ১০০ টাকা। এখানেই কর ব্যবস্থাপনার মূল চ্যালেঞ্জ। কোন অংশটি সেবাদাতার আয় এবং কোন অংশটি অপারেটরের কমিশন; তা সঠিকভাবে আলাদা করতে হবে। 
দ্বৈত ভ্যাট কর্তনের ঝুঁকি 
আদেশে দ্বৈত ভ্যাট কর্তন ঠেকানোর একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোবাইল অপারেটর বিদেশী সেবাদাতার পক্ষে প্রযোজ্য ভ্যাট জমা দিয়ে তার প্রমাণপত্র দিলে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সময় ব্যাংককে আবার একই লেনদেনের ওপর ভ্যাট কাটতে হবে না। 
নীতিগতভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই অর্থের ওপর একবার মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়বার ব্যাংকের মাধ্যমে ভ্যাট কাটা হলে ব্যবসায়িক লেনদেন জটিল হয়ে পড়বে। তবে এখানেই একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে- কর একবার পরিশোধ হয়েছে, তার প্রমাণ কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা হবে? 
সার্টিফিকেটের ওপর কতটা নির্ভরতা? 
এনবিআরের আদেশে কর পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে সেবাদাতার নাম, ঠিকানা, বিআইএন, সেবামূল্য, ভ্যাটের পরিমাণ, ট্রেজারি চালান নম্বর, তারিখ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তথ্য রাখার সুযোগ রয়েছে। কাগজে-কলমে এটি একটি ভালো ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে শুধু কাগজ বা পিডিএফ সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করলে প্রশ্ন থেকেই যায়। 
একই সার্টিফিকেট একাধিকবার ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটি ব্যাংক কিভাবে নিশ্চিত হবে? কোনো সার্টিফিকেটে ভুল তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে কিভাবে ধরা পড়বে? সার্টিফিকেটটি সত্যিই সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া অর্থের সাথে সম্পর্কিত কি না; তার স্বয়ংক্রিয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। 
এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে শুধু প্রত্যয়নপত্রের ওপর নির্ভর না করে সার্টিফিকেট, ট্রেজারি চালান, বিআইএন, লেনদেন নম্বর এবং এনবিআরের অনলাইন তথ্যভাণ্ডার- সব কিছুকে একই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। 
বিদেশী সেবাদাতাকে ঘিরে বড় প্রশ্ন 
আদেশে এমন বিদেশী সেবাদাতার ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাদের বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন বা ভ্যাট এজেন্ট নেই। 
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে। যে প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে বিআইএন নেই, ভ্যাট এজেন্ট নেই এবং নির্দিষ্ট প্রত্যয়নপত্রও প্রয়োজন হচ্ছে না, তার প্রকৃত করযোগ্য আয় কিভাবে যাচাই করবে এনবিআর? 
ডিজিটাল সেবার বড় একটি অংশই বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসে। তাই এই জায়গায় তথ্য-যাচাই দুর্বল হলে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিদেশী সেবাদাতার মোট বিক্রি, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া অর্থ এবং প্রকৃত করযোগ্য সেবামূল্য- এ তিনটি তথ্যের মধ্যে মিল থাকা জরুরি। 
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, একই কর পরিশোধের প্রমাণপত্র দিয়ে একাধিকবার বিদেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে কি না। 
ধরা যাক, ১০ লাখ টাকার লেনদেনের বিপরীতে একটি সার্টিফিকেট দেয়া হলো। পরে একই সার্টিফিকেট দেখিয়ে ১৫ বা ২০ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হলে রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হবে। এ ধরনের ঝুঁকি ঠেকাতে প্রতিটি সার্টিফিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ, তারিখ, ট্রেজারি চালান এবং ব্যাংক পেমেন্টকে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন। 
অপারেটরের কমিশনেও ভ্যাট 
ডিওবি ব্যবস্থায় মোবাইল অপারেটরের কমিশন বা ফি-ও করের আওতায় আসছে। এনবিআর বলেছে, এই কমিশন অপারেটরের নিজস্ব আয়। এটি মোবাইল সিম বা রিচার্জ বিক্রির আয় হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে কমিশনের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট দিতে হবে; অর্থাৎ একই লেনদেনে দু’টি আলাদা অর্থনৈতিক কার্যক্রম রয়েছে- এক. গ্রাহক যে ডিজিটাল সেবা কিনছেন, তার মূল্য। দুই. সেই মূল্য সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য মোবাইল অপারেটরের পাওয়া কমিশন বা ফি। এই দুইয়ের কর হিসাব আলাদা রাখতে হবে। 
ভবিষ্যতে এখানেও প্রশ্ন উঠতে পারে- কমিশন আগে বাদ দিয়ে বাকি অর্থের ওপর হিসাব হবে, নাকি পুরো সেবামূল্যকে অন্যভাবে বিবেচনা করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে আরো স্পষ্ট উদাহরণ ও হিসাবপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। 
দেশীয় ও বিদেশী সেবাদাতার ক্ষেত্রে পার্থক্য 
দেশীয় সেবাদাতার ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক সহজ। মোবাইল অপারেটর ভ্যাটসহ সেবামূল্য সংগ্রহ করবে এবং সেবাদাতাকে অর্থ দেবে। সেবাদাতা তার ভ্যাট রিটার্নে আয় ও প্রযোজ্য ভ্যাট দেখিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন। একই সাথে অপারেটর তার কমিশনের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট দেবে। 
কিন্তু বিদেশী সেবাদাতার ক্ষেত্রে অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। ফলে সেখানে ভ্যাট আদায়, কর পরিশোধের প্রমাণ, ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো এবং পরে সেই লেনদেনের হিসাব মিলিয়ে দেখার বিষয় যুক্ত হয়। 
এ কারণে দেশীয় ও বিদেশী সেবাদাতার জন্য আলাদা উদাহরণসহ আরো সহজ নির্দেশনা থাকলে বাস্তবায়ন সহজ হতো। 
‘হ্রাসকারী সমন্বয়’ কেন গুরুত্বপূর্ণ 
আদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হ্রাসকারী সমন্বয়। মোবাইল গ্রাহক আগে থেকেই টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করেছেন এবং সেই পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট করও পরিশোধ হয়ে থাকলে, একই অর্থ ব্যবহার করে অন্য ডিজিটাল সেবা কেনার সময় আবার একই ধরনের করের বোঝা তৈরি না হয়- সে জন্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 
কিন্তু এই হিসাব সঠিকভাবে না হলে বিপরীত সমস্যাও হতে পারে। একই অর্থের ওপর দু’বার কর পড়তে পারে। আবার ভুল সমন্বয়ের কারণে সরকারের রাজস্ব কমেও যেতে পারে। তাই এই সমন্বয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাবপদ্ধতি ও স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
শেষ পর্যন্ত খরচের বোঝা কার? 
এখানে সাধারণ গ্রাহকের জন্যও একটি প্রশ্ন রয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে করের প্রকৃত আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে? 
বিদেশী সেবাদাতা নিজের মুনাফা থেকে তা বহন করতে পারে। মোবাইল অপারেটর তার কমিশন কমিয়ে দিতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেবার মূল্য বাড়িয়ে সেই ব্যয় গ্রাহকের ওপরও চাপানো হতে পারে। 
কোন ক্ষেত্রে কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্য নির্ধারণের নীতির ওপর নির্ভর করবে। তাই ডিওবি ব্যবস্থায় কর আদায়ের পাশাপাশি ভোক্তার ওপর এর প্রকৃত আর্থিক প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। 
সবচেয়ে বড় ঘাটতি তথ্যের 
বাংলাদেশে ডিওবির মাধ্যমে বছরে মোট কত টাকার লেনদেন হচ্ছে, তার মধ্যে দেশীয় ও বিদেশী সেবার অংশ কত, গেমিং, অ্যাপ, স্ট্রিমিং ও বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনে কত অর্থ যাচ্ছে- এসব তথ্যের সমন্বিত চিত্র ছাড়া এই খাত থেকে সম্ভাব্য রাজস্ব কত, তা নির্ভুলভাবে বলা কঠিন। 
এখানে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসি জানে কোন অপারেটর ও সেবা বৈধভাবে চলছে। এনবিআর জানে কত ভ্যাট জমা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানে বিদেশে কত অর্থ যাচ্ছে। 
এই তিন প্রতিষ্ঠানের তথ্য যদি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, তাহলে ডিওবি লেনদেনের প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব হবে। একই সাথে কর ফাঁকি, ভুল হিসাব এবং দ্বৈত কর কর্তনের ঝুঁকিও কমানো যাবে। 
এনবিআরের নতুন আদেশটি সরাসরি ভ্যাটের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়; বরং মোবাইল ব্যালান্সের মাধ্যমে পরিচালিত দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল লেনদেনকে একটি আনুষ্ঠানিক কর কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- মোবাইল অপারেটরকে শুধু টেলিকম সেবাদাতা হিসেবে নয়, তৃতীয় পক্ষের ডিজিটাল সেবার মূল্য সংগ্রহকারী হিসেবেও কর কাঠামোর মধ্যে আনা। 
তবে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে কাগজের সার্টিফিকেটের চেয়ে ডিজিটাল তথ্য মিলিয়ে দেখার সক্ষমতার ওপর। 
মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য যদি একই ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা যায়, তাহলে বিদেশী ও দেশীয় ডিজিটাল সেবা থেকে ভ্যাট আদায় আরো স্বচ্ছ হতে পারে; অন্যথায় একই সার্টিফিকেটের একাধিক ব্যবহার, ভুল কর সমন্বয়, বিদেশী সেবাদাতার প্রকৃত আয় যাচাইয়ে দুর্বলতা এবং দ্বৈত কর কর্তনের মতো সমস্যা নতুন করে সামনে আসতে পারে; অর্থাৎ ডিজিটাল লেনদেনে ভ্যাট আদায়ের নতুন দরজা খুলেছে; এখন প্রশ্ন হলো- এই দরজার ওপাশে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়। আর এর দায় সকার ওপর বর্তায়।