
হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এএফপি
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সোমবার দিল্লির রাজপথে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া জোটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান বিচারপতির সাথে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দেয়ার এবং এ বিষয়ে তার সাংবিধানিক হস্তক্ষেপ কামনা করার কথা রয়েছে।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল জানান, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগের প্রতিবাদে বিরোধী জোটের শরিকরা এবং দেশের তরুণ সমাজ একত্রে রাজপথে নেমেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের এই গণজমায়েত পণ্ড করতে প্রশাসন নানামুখী প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত কর্মীদের ওপর পুলিশি অভিযান চালিয়ে রাজধানীতে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। তবে এসব দমনপীড়ন আন্দোলনকে থামাতে পারবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ভোটাধিকারকে নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। এ দিকে দিল্লির এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ একপক্ষে অবস্থান নিলেও অন্য পক্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি ঘোষণা দেন যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে রিট আবেদন দাখিল করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে রাহুল বলেন, যত বেশি সুরক্ষা দেয়া হবে, মূল নিয়ন্ত্রণকারীদের মুখোশ তত দ্রুত উন্মোচিত হবে।
এক বিস্ফোরক দাবিতে রাহুল গান্ধী আরো জানান, বর্তমান সরকারের ভেতরের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা বিরোধীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করছেন। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় বা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার এবং সংবিধানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তরুণদের এই আন্দোলন অবিরাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। অন্য দিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলার সময় গ্রেফতার হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে শর্ত সাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ভারতের জন্য লজ্জা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন এবং বর্তমান প্রশাসনকে ‘কাপুরুষ ও ভীতিপ্রদর্শনকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার সাথে আটক হওয়া প্রভাবশালী সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব ধ্রুব রাঠিও মুক্তি পেয়েছেন। এ দিকে নির্বিচারে রাজনৈতিক আটকদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক দফতর। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার ফলে দেশজুড়ে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সমালোচকদের জোরালো অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে মুসলমানরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য দিকে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি এবং জাল বা একাধিক নিবন্ধন বাদ দিতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ও ধরপাকড়ের পরও বিরোধী দলগুলো তাদের ঘোষিত কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








