ইরান-প্রেসিডেন্ট-মাসউদ পেজেশকিয়ান, নিউ ইয়র্ক, জাতিসঙ্ঘ-সাধারণ পরিষদ-অধিবেশন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ওয়ানা

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে এই সফরে প্রেসিডেন্ট ও তার সাথে থাকা প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিয়ে তেহরানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার ইরান-আজারবাইজান সীমান্তের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এতে রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। কিছু বিশ্লেষক এখনো ঘটনাটিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত পরিকল্পনায় পরিচালিত সন্ত্রাসী অভিযান হিসেবে দেখেন।

পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফর নিশ্চিত হওয়ার পর ওয়ানাকে এক ইরানি সূত্র জানায়, সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে পারে বা কোনো ধরনের নাশকতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাইসির মতো ঘটনা থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে থাকা অবস্থায় ইরানে বড় ধরনের হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে।

সূত্রটি জানায়, সফর ঘিরে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি তেহরান ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করেছে। নাশকতা বা হামলার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে জবাব দেয়া হবে, সে প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।

এবারের জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে পেজেশকিয়ানের সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত চলছে।

সফরের ফাঁকে কয়েকজন বিশ্বনেতার সাথে বৈঠক করবেন পেজেশকিয়ান। সেখানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তারা যে সংঘাতকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করছেন, তা গুরুত্ব পাবে।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠকের বিষয়টি তিনি স্বাগত জানাবেন। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা বলার পাশাপাশি ইরানকে সতর্কও করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, 'কোনো চুক্তি না হলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়বে অথবা ধ্বংসের মুখে পড়বে।'

যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার মুখে এমন সময়ে পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরের বিরোধিতা করছেন তেহরানের অনেকে।

ইরানের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ আজারি জাহরোমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কূটনীতিতে কখনো কখনো কিছু সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সমাবেশে না যাওয়াটাও প্রয়োজন হয়। তার মতে, এবারের জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে অংশ না নেয়ার সুবিধা অংশ নেয়ার সুবিধার চেয়ে বেশি।