বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্ত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে কেউ কোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। পথে পথে বাধা দিতো। আর তারেক রহমানের সরকার গণতান্ত্রিক সরকার; বিরোধী দল নির্বিঘ্নে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন, টাঙ্গাইল হয়ে বগুড়া হয়ে রংপুরে পৌঁছেছেন। কোথাও একটা ‘টু’ শব্দ কিংবা একটা ছোট পাথরের নুড়ি পর্যন্ত কেউ নিক্ষেপ করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় আছে, কিন্তু ক্ষমতার জোর দেখিয়ে বিএনপি কখনোই রাজনীতি করেনি। বিএনপি জোর দেখায় একটাই, সেটা হচ্ছে জনগণের শক্তির জোর। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলপূর্বক এসব কথা বলেন তিনি। মিছিলটি নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে থেকে শুরু করে শান্তি নগর মোড়ে গিয়ে শেষে হয়। 

রিজভী বলেন, দেশে একটি শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে। বিরোধী দল এখানে কর্মসূচি করছে, তাতে কোনো আপত্তি নেই। গণতন্ত্রে পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে কথা বলা যায়, তাতে কারো অসুবিধা হয় না। সেই গণতন্ত্র এখন বিদ্যমান ও বিরাজমান। সুতরাং, সেই গণতন্ত্রের সুবিধা নিয়ে আপনারা কর্মসূচি করুন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, যে সমস্ত ছেলেপেলেরা এখন নেতা হচ্ছে হোক, তাতেও আপত্তি নেই; কিন্তু হুমকি দিচ্ছেন, ধামকি দিচ্ছেন, অসভ্য কথা বলছেন, মিথ্যা কথা বলছেন, অপপ্রচার করছেন, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে। এইটা ভাই কোন রুচি, কোন শিক্ষা?

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট আট দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন আর লংমার্চ করছেন। আট দফার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক কথা নিয়ে এসেছে বিরোধী দল। আরে ভাই, আপনারা কি বুঝতে পারেন না? আমি ১১ দলের নেতৃবৃন্দকে বলছি, আপনারা তো বড় বড় কথা বলছেন। তো আপনারা যে রংপুরে গেলেন লংমার্চ নিয়ে, যমুনা ব্রিজে যেখানে টোল আদায় করা হয়, তার রিপোর্ট অনুযায়ী ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে তারা রংপুরে গেছেন। এই ৪৫০টি গাড়ির জ্বালানি কত লেগেছে? যেখানে জ্বালানির অভাবে বিদ্যুতের ন্যাশনাল গ্রিডে বিদ্যুৎ দেয়া যাচ্ছে না, ডিজেল দেয়া যাচ্ছে না, এই জ্বালানির জন্য আমাদের অনেক কাজ বন্ধ হয়ে আছে; সেখানে আপনারা কোন ইস্যুতে, কিসের জন্য, কি এমন জরুরি প্রয়োজনে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করলেন? ওতে জ্বালানি তেল খরচ হয়নি? ওই জ্বালানি যদি ন্যাশনাল গ্রিডে থাকত, তা দিয়ে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত, তাহলেও তো জনগণের অনেক উপকার হতো।

তিনি বলেন, বিরোধী দল হুংকার দিচ্ছেন এক দফার কথা বলে। আপনাদের এক দফার কথা শুনে আমরা কি গলিতে গিয়ে দাঁড়াব, নাকি প্রাচীরে লাফ দেবো? যে দল রাজপথের ইটের সাথে, কাঠের সাথে, ধুলার সাথে, পানির সাথে সম্পৃক্ত—সেই দল বিএনপি। সেই দল ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোকে আপনারা এক দফার ভয় দেখাচ্ছেন? শেখ হাসিনাকে আপনারা দেখেছেন; তারেক রহমান কি জোর করে ক্ষমতায় এসেছে? আবার সুষ্ঠু নির্বাচন, যে নির্বাচনের জন্য বিএনপি ১৭ বছর ধরে তাদের সন্তানদের রক্তে শার্ট লাল করে, সেই রক্ত পতাকা বানিয়ে বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পতপত করে উড়িয়েছে; সেই শহীদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে বিএনপি ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। আপনারা কয়দিন করেছেন? তার তালিকা দিন।

রিজভী বলেন, জুলাই বিপ্লব ও আগস্টে শেখ হাসিনার পতন—ভীত শৃগালের মতো, ভীত শিয়ালের মতো শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া—এটার পেছনে ১৬-১৭ বছর ধরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের নেতৃত্বে এদেশের জনগণ সুসংগঠিত হয়ে প্রস্তুত ছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাইয়ে, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আগস্টে। এই কথা বলে আপনারা ভয় দেখান এক দফা? আর আমরা চুপচাপ চকলেট খেতে থাকব, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনারা রাজনীতি করেন, পার্লামেন্টে কথা বলেন, বাইরেও কথা বলেন—তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করার দায় কি আপনাদের নয়? মধ্যবাড্ডা, আজকে কাফরুল, আজকে মিরপুরে বাসে আগুন ধরাচ্ছে কে? বোমাবাজি করছে হাইকোর্টের সামনে কে? এর উত্তর কে দেবে? এটা কি শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টদের কাজ, নাকি মানুষ বলছে নতুন নতুন দোসর তৈরি হয়েছে, এখন তারাও ফ্যাসিস্টদের সাথে মিলিত হয়েছে? না হলে এই প্রেসে যখন আগুন দেয়া হলো, তারপরে যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা তো জামায়াতের লোক। আপনারা খবরের কাগজ খুলে দেখেন। 

তিনি বলেন, বিরোধী দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন, ওভাবে মাছ শিকার করা যাবে না। কারণ, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি এবং বিএনপির জোট সরকার তার সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে এই দেশকে অস্থিতিশীল করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। বিএনপি অবলম্বনহীন, খুঁটিবিহীন রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপির খুঁটি কোনো বাঁশের খুঁটি নয়; বিএনপির খুঁটি জনগণের খুঁটি। ওই জনগণের খুঁটির ওপর বিএনপি দাঁড়িয়ে থাকে। এই খুঁটি এত শক্ত যে, হিমালয় পর্বতের শক্তি দিয়ে আঘাত করলেও এই খুঁটিকে টলানো যাবে না।