সম্পাদকীয়
শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিন
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি সমন্বিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে প্রতিটি যানবাহন ও চালকের নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি, লাইসেন্স ও ফিটনেস পরীক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ, চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া পরিবহন খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের অবসানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তবেই সড়কে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব।
দরকার কাঠামোগত সংস্কার
বিবিএসের বর্তমান উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও শুধু বিশেষজ্ঞদের মতামত নিলেই পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জিত হবে না। প্রয়োজন তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও পেশাগত স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকার পাল্টালেই পরিসংখ্যানের পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগত মানদণ্ড পাল্টে না যায়। সরকারি পরিসংখ্যান হতে হবে রাষ্ট্রের নির্ভুল, অবিতর্কিত ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যভাণ্ডার।
বিমান বাংলাদেশের দুরবস্থা
একটি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি যাত্রী ভোগান্তি ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম ও ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। কেন বারবার এই সমস্যা হচ্ছে তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা উচিত। এজন্য কারো গাফিলতি থাকলে সেটি চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরপর এভাবে ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের আস্থাও তলানিতে ঠেকে। বিমান পরিচালনায় কর্তৃপক্ষকে যে আরো সতর্কতা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে, এই দুই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
জ্বালানি সঙ্কট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় সবাই দিশেহারা। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য এতে আরো অনাস্থা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আশা জাগানিয়া হলেও মানুষ কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চায়। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখতে চায়। গ্যাসের মজুদ ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, এর টেকসই সমাধানে কাজ করতে হবে। বিদ্যুতের জোগান বাড়াতেও বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ নিতে হবে। এ কাজে এমন ব্যক্তিদের যুক্ত করতে হবে, যারা অভিজ্ঞ-দক্ষ ও একই সাথে দেশপ্রেমিক। পুরনো ক্ষতিকর চুক্তিগুলো কেন এখনো বাতিল হয়নি, স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। সর্বোপরি জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ একটি সৎ কর্তৃপক্ষের অধীনে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব ব্যাপারে আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়ার আশায় আছেন নাগরিকরা।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি দূর করুন
বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ অনেক এগিয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। এমন একটি সমাজে কেন দিন দিন অপরাধ ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে ভাবনার সময় এসেছে। সরকারকে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের দিকে জোর দিতে হবে। অপরাধ বৃদ্ধির পথগুলো বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মামলা বাড়বে, বাড়বে বিচারক; কিন্তু সমাজ থেকে অপরাধ দূর হবে না।




