সম্পাদকীয়

সংস্কারের বিকল্প নেই

সংস্কারের বিকল্প নেই

নির্বাচিত সরকারের হাতে অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, তারও লক্ষণ স্পষ্ট নয়। আর্থিক খাতে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জোরালো প্রয়াস দেখা যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও সরকার ঋণ আদায়ে কঠোরতার বদলে আগের মতোই পুনঃতফসিলের সংস্কৃতি ধরে রেখেছে, ঋণখেলাপিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। সেই সাথে সরকারের ব্যাংক ঋণ দ্রুত বাড়ছে; বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর। শিল্প উৎপাদনও নেতিবাচক। জ্বালানি খাতের ব্যর্থতায় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিবর্তে কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হচ্ছে শ্রমিকরা।

প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেই

প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেই

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগীরা সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে বৈধ উপায়ে কলকাতা গেছেন। দূতাবাস থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভারতে প্রবেশ করেছেন। হিসাব মতে, তারা ভারত সরকারের অতিথি। হোটেল ও গেস্টহাউজ বন্ধ করে দেয়ার আগে প্রশাসনের এদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা দরকার ছিল। সরকার চাইলে দুর্যোগকালে আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা করতে পারত। উন্মুক্ত জায়গায় থাকা বাংলাদেশী রোগীদের বিষয়ে ভারত সরকার একেবারে উদাসীন। দায়দায়িত্বহীন।

ব্যবস্থাপনায় সংস্কার দরকার

ব্যবস্থাপনায় সংস্কার দরকার

কওমি মাদরাসা নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু যৌন অপরাধসহ আরো কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি রয়েছে, যেগুলো প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের নেই। কওমি মাদরাসাগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার জন্য একটি ন্যূনতম প্রশাসনিক নিয়মনীতি চালু করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনার অবসান হতে হবে।

সবার আগে দেশের স্বার্থ

সবার আগে দেশের স্বার্থ

আমরা ভারতের সাথে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বন্ধের পক্ষপাতী নই। তবে তা হতে হবে দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করে। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা ছিল যুক্তিযুক্ত; কিন্তু দু’বছরেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এখন আমাদের প্রত্যাশা— নির্বাচিত সরকার চুক্তিগুলো সংসদে তুলে আলোচনার মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি নয়

পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি নয়

ফ্যাসিবাদী আমলে ডিজিটাল কিংবা সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে গণমানুষের কণ্ঠ রোধ করা হতো। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর বাকস্বাধীনতার আশা ছিল নাগরিকদের; কিন্তু সিফাতের ঘটনা বলে দেয়, পুলিশের সেই পুরনো বদভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। যে অপরাধে সিফাতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, প্রচলিত কোনো সাইবার বা সাধারণ আইনে সেটি সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় পড়ে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপছন্দনীয় কথা বললেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ফাঁসিয়ে দেয়ার এই ‘সহজ পথ’ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অহরহ দেখা যেত। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে তার পুনরাবৃত্তি শুভ লক্ষণ নয়।