সম্পাদকীয়
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, দেশে বন্যার শঙ্কা
আকস্মিক বন্যা স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘস্থায়ী যাই হোক, মানুষের দুর্ভোগ নিশ্চিত। সতর্কীকরণের ফলে মানুষ নিজেদের পক্ষে যতটা সম্ভব প্রস্তুতি হয়তো নিতে পারে; কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারের এবং সামাজিক মানুষের দায়িত্ব বেশি। জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিবন্দী মানুষের নিরাপদ উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার সার্বিক প্রস্তুতি সরকারকে আগেভাগে নিয়ে রাখতে হবে। একই ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, সমাজসেবী সংস্থাগুলোকে, যাতে প্রয়োজনের সময় কেবল সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়।
অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করুন
পরিবর্তিত বাণিজ্য পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী ও কার্যকর বাণিজ্য কূটনীতি। প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা জোরদার করা। যুক্তরাষ্ট্র সৃষ্ট শুল্কসঙ্কটের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারের হয়ে ওয়াশিংটনে ড. খলিলুর রহমান মার্কিন নীতিনির্ধারক, বাণিজ্য প্রতিনিধি ও সিনেটরদের কাছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, শ্রম খাতের সংস্কার এবং মার্কিন তুলা ব্যবহারের ওপর বাংলাদেশী পোশাকের নির্ভরশীলতার কৌশলগত দিকগুলো দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছিলেন। এতে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের প্রাথমিক অবস্থান থেকে সরে এসেছিল।
বাপেক্সই হতে পারে উপযুক্ত
জ্বালানিনীতির সাফল্য শুধু বর্তমান সঙ্কট মোকাবেলায় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে নিহিত। অতীতের সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি, তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ জ্বালানি কৌশল গ্রহণের সময় এখন এসেছে। যেখানে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় আমদানির মধ্যে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় থাকবে।
জুলাইকে কটাক্ষ ও অবমাননা, ফ্যাসিবাদী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই
গত দুই বছরে প্রমাণিত হয়েছে, জুলাইকে বিতর্কিত করে অন্তঃসারশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে। দ্বিতীয় বছরে তাদের আক্রমণ আরো জোরালো হয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলো যদি সচেতন না হয়; তাহলে আখেরে পস্তাতে হবে। জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ এবং এর শক্তি সদা জাগরূক রাখতে রাষ্ট্র্রীয় পর্যায় থেকে বড় ধরনের আয়োজন রাখতে হবে।
শিল্পকারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই, সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে হবে
সম্প্রতি দেশে পোশাক খাতে ট্রেড ইউনিয়ন আইন প্রণয়ন এবং বন্ধ কারাখানা চালু করার জন্য প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনেক মালিক কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের অধিকার দিতে চায় না। তারা ট্রেড ইউনিয়ন আইন এড়িয়ে চলার উদ্দেশে শ্রমিক সংখ্যা সীমিত রাখতে ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নেন। আবার কিছু মালিক প্রণোদনার অর্থ পাওয়ার লোভে কারখানা বন্ধ দেখান বলে অভিযোগ আছে।




