ঈদবাজারে জাল টাকার বিস্তার, চোরাকারবারি রুখতে চাই সতর্কতা

এবার রাজধানীতে সিটি করপোরেশন মোট ২৬টি হাটের অনুমতি দিয়েছে। এসব হাটে ১৫-২০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে সরকার চার হাজার ২৫৯টি হাট এবার কোরবানির পশু কেনাবেচায় ইজারা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সারা দেশে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতে পারে। জালনোটের কারবারিরা এই বিপুল কেনবেচা সামনে রেখে তৎপরতা চালাচ্ছে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান সামনে রেখে দেশে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা হয়। সারা বছরে যা লেনদেন হয়, এ সময় তার চেয়ে বেশি হয়। এ সুযোগে অপরাধী চক্রও সক্রিয় হয়ে ওঠে। জাল নোটের কারবারিরা এ সময় নকল টাকা ছড়িয়ে দেয়। কোরবানির ঈদে বাজারে সবচেয়ে বড় অর্থের লেনদেন হয়। এ সময় এক কোটির বেশি পশু কেনাবেচা হয়। চোরাকারবারিরা কোরবানির পশুর হাটগুলো নিশানা বানায়। পশু কেনার হাটে সুচতুরভাবে জালনোট ছড়িয়ে দেয়। আসন্ন ঈদে এবারো বিপুল জালনোট ছড়িয়ে দেয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে অসাধু চক্র।

এবার রাজধানীতে সিটি করপোরেশন মোট ২৬টি হাটের অনুমতি দিয়েছে। এসব হাটে ১৫-২০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে সরকার চার হাজার ২৫৯টি হাট এবার কোরবানির পশু কেনাবেচায় ইজারা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সারা দেশে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতে পারে। জালনোটের কারবারিরা এই বিপুল কেনবেচা সামনে রেখে তৎপরতা চালাচ্ছে।

সব হাটে জালনোট শনাক্তে ব্যাংকের বুথ ও মেশিন থাকবে। এগুলো জালা টাকা আটকানোয় যথেষ্ট কি না সে প্রশ্ন আছে। তবে জালনোট তার আগে কায়দা করে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আবার টাকা শনাক্ত করতে সব নোট বুথে আসে না। একটি দৈনিকের খবর, গত সপ্তাহে রাজধানীর মতিঝিলে জালনোট তৈরির সরঞ্জামসহ দু’জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ৪০টি ৫০০ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। একই দিন পৃথক অভিযানে রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরে জালনোটের তিন কারবারিকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকার জালনোট এবং তা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। ধরা পড়ার আগে তারা ১০ লাখ টাকার একটি চালান ডেলিভারি দিয়েছে।

এপ্রিলের মাঝামাঝিতে রাজধানীর পৃথক এলাকা থেকে দু’টি ঘটনায় চারজন আটক হয়। তাদের কাছ থেকে ৯০ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার হয়। এ ছাড়া ১ মে রংপুরের পীরগাছায় জালনোটসহ দু’জন এবং ৩ মে পিরোজপুরের নাজিরপুরে জালনোটসহ তিনজন আটক হয়। সাম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে জাল টাকা, নোট তৈরির সরঞ্জামসহ আরো বেশ কয়েকজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। তাতে বোঝা যাচ্ছে, জালনোটের অসাধু চক্র সক্রিয়। তাদের নেটওয়ার্ক দেশব্যাপী বিস্তৃত। আছে সীমান্তের ওপার থেকে জালনোট বিস্তারের অপরাধ চক্রও। জালিয়াত চক্র নিখুঁত নোট তৈরি করছে। বোঝার উপায় থাকে না, তা আসল না নকল। শঙ্কার বিষয়, জালনোট তৈরির সরঞ্জামের সহজলভ্যতা। আবার এগুলো তৈরির খরচও কমছে। মাত্র আড়াই হাজার টাকা ব্যয়ে ১০০টি নোট তৈরি করা যায়। ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা আগেও জালনোটসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখায় এটি একটি বাধা। অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে অধিক উৎসাহে একই অপকর্ম করছে। এ অবস্থায় আইনি ফাঁক বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে; যাতে জাল টাকা সহজে ছড়িয়ে দিতে না পারে অপরাধী চক্র। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানো যেতে পারে।