সীমান্তে বিজিবির পাল্টা জবাব

সার্বভৌমত্বের স্বাক্ষর

বার্তাটি স্পষ্ট, বাংলাদেশের মানুষ কোনো পর্যায়েই ভারতের অধীনতা আর মেনে নেবে না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক- সব দিক থেকেই বাংলাদেশ পরিপূর্ণ স্বাধীন নীতি অনুসরণ করবে। ভারতকে এই সমমর্যাদার নীতি মেনেই বাংলাদেশের সাথে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। এর বাইরে সম্পর্কের অন্য কোনো বিকল্প নেই।

সিলেট সীমান্তে গত সোমবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের পাল্টা জবাব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। বিএসএফ কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই গুলিবর্ষণ করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছর ধরে বিএসএফের এমন আচরণই দেখে এসেছে বাংলাদেশের মানুষ। বিনা উসকানিতে সীমান্তে কৃষকের ওপর গুলি, বাংলাদেশের ভূমিতে বেআইনি অনুপ্রবেশ, কথিত চোরাচালানিদের হত্যা, এমনকি বিনা কারণে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের হত্যা করতেও তারা দ্বিধা করেনি। এসব বিষয়ে সীমান্ত সম্মেলনে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে একটি বিষয় তারা পরিষ্কারভাবে বোঝাতে চেয়েছে, বাংলাদেশকে কোনো রকম প্রশ্ন না তুলেই ভারতের অধীনতা মেনে নিতে হবে। বাংলাদেশী সাধারণ পর্যটকদের সাথে বিএসএফের আচরণেও এই মনোভাব স্পষ্ট। সীমান্তে বাংলাদেশের পর্যটকদের উদোম করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, এমন দৃশ্য বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভোলেনি। ফেলানী বা স্বর্ণা হত্যার মতো আন্তর্জাতিক শিরোনাম হওয়া ঘটনাও তাদের মনে গভীর ক্ষত রেখে গেছে। বছরের পর বছর ধরে এই গোঁয়ার্তুমি চলে এসেছে যার কোনো প্রতিকার করা যায়নি। কারণ, বাংলাদেশের কোনো সরকারই ভারতের সাথে টক্কর দেয়ার সাহস করেনি। পরিস্থিতি প্রথমবারের মতো পাল্টে যায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর। অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবিও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যেকোনো অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি রুখে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের মানুষ আশা করে, সরকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে যা কিছু করণীয় তা করবে। গত সোমবারের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে বিজিবির পাল্টা জবাব দেয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হওয়া এই জন-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।

জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ভারত প্রশ্নে তাদের ভূমিকা কেমন হতে পারে- তা নিয়ে জনমনে কিছুটা সংশয় ছিল। আমাদের ধারণা, সীমান্তের সর্বশেষ ঘটনায় সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা ঠিক পথে হাঁটছেন বলে মনে হচ্ছে।

এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য একটিই- ভারতের উসকানির ফাঁদে যেন আমরা পা না দিই। বিজিবিকে সবসময় আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির আওতা মেনেই কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ- পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে তারা সেটিই করছে। সীমান্ত সুরক্ষার অর্থ শুধু দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা নয়; সীমান্তবাসীর নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাও, এটিই জাতীয় নিরাপত্তা।

বার্তাটি স্পষ্ট, বাংলাদেশের মানুষ কোনো পর্যায়েই ভারতের অধীনতা আর মেনে নেবে না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক- সব দিক থেকেই বাংলাদেশ পরিপূর্ণ স্বাধীন নীতি অনুসরণ করবে। ভারতকে এই সমমর্যাদার নীতি মেনেই বাংলাদেশের সাথে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। এর বাইরে সম্পর্কের অন্য কোনো বিকল্প নেই।