ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আনা হচ্ছে রাজধানীতে। বাজারের যে অবস্থা তাতে স্পষ্ট, পশুর যথেষ্ট সরবরাহ আছে। তবে বেচাকেনা এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। ঢাকার বাসিন্দাদের বড় অংশই বাসাবাড়িতে পশু রাখার জায়গার অভাব এবং পরিচর্যার সঙ্কটে থাকেন। এ জন্য তারা চেষ্টা করেন ঈদের এক-দু’দিন আগে পশু কেনার। এখন হাটে গিয়ে কেবল দরদাম যাচাই করছেন অনেকে। মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দিকেই আগ্রহ তাদের। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের পকেটের অবস্থা এখন ভালো নয়। এ কারণে বিশাল বিশাল গরুর দিকে চোখ না দিয়ে সাধ্যের মধ্যে গরু খুঁজছেন তারা।
অন্য দিকে গরুর খাবার খৈল, ভুসি ও ওষুধের দাম বেড়ে গেছে। এতে বেড়েছে পশু পালনের খরচ। তার ওপর পশু পরিবহনে গুনতে হচ্ছে উচ্চ অঙ্ক। সেই সাথে তারা যে কয়দিন হাটে থাকবেন, সেই দিনগুলোর খাওয়াদাওয়ার খরচও আছে। এসব বিবেচনায় গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। ফলে পশুর দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে।
ক্রেতা ও খামারি, উভয় পক্ষের যৌক্তিক অবস্থানের মাঝখানে ভারসাম্যপূর্ণ বাজার পরিস্থিতি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভারত থেকে গরু আসা একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ বছর বৈধ বা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো গরু ঢুকতে দেয়া হবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জানিয়েছেন, পশুর চাহিদার চেয়ে দেশের ভেতরেই জোগান বেশি আছে। চোরাই গরু কোরবানি না করতে ধর্মীয় ও নৈতিক সচেতনতার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। এই আহ্বান ইতিবাচক। খামারিদের জন্যও লাভজনক। দীর্ঘমেয়াদে সেটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক; কিন্তু গণমাধ্যমে উঠে আসছে ভিন্ন চিত্র- চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে গভীর রাতে ট্রাকে করে ভারতীয় গরু আনা হচ্ছে। বিজিবির নজরদারি এড়িয়ে এই গরুগুলো কিভাবে আসছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ভারতীয় গরু এসে বাজার সয়লাব হলে দেশীয় খামারিরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস যদি বাস্তব না হয়, সেটি হবে দুর্ভাগ্যের।
এ বছর অনলাইনে পশু কেনাবেচায় ভাটা দেখা যাচ্ছে। এর আগে ছবিতে একরকম দেখিয়ে বাস্তব্যে অন্যরকম পশু গছিয়ে দেয়ার মতো প্রতারণা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি হাটে গিয়ে দেখেশুনে গরু কেনার দিকেই ঝুঁকছেন। হাটে গিয়ে ক্রেতারা যেন প্রতারিত না হন, সেই দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। হাটের নিরাপত্তা, জাল টাকা প্রতিরোধে বুথ স্থাপন, অসুস্থ পশুর চিকিৎসায় মেডিক্যাল ক্যাম্প করা এবং ইজারাদার যেন অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করতে পারে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কোরবানি ত্যাগের উৎসব, সেই সাথে আনন্দেরও। খামারিরা ন্যায্যমূল্য পেলে তাদের ঘরে আনন্দ আসবে। সেই সাথে সাধ্যের মধ্যে সুস্থ পশু কিনে নিয়ে যেতে পারলে আনন্দ আসবে কোরবানি যারা দেবেন, তাদের ঘরেও। আমরা আশা করি, সরকার দুই দিকই রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে। সীমান্তে পশু চোরাচালান বন্ধে দেখাতে হবে জিরো টলারেন্স। হাটে মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন কারসাজি করতে না পারে, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।



