পশ্চিমবঙ্গে সিএএ কার্যকর

আমাদের সজাগ থাকতে হবে

ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ভারতকে একটি ধর্মরাষ্ট্রে রূপ দেয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির একটি নতুন মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। তাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে কল্পিত ওই রাষ্ট্র্রের অংশ দেখানো হয়েছে।

ধর্মীয় পরিচয় সবচেয়ে বড় করে তুলেছে ভারত সরকার। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন সিএএ এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-এনআরসিসহ নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে। এগুলোর একটিই লক্ষ্য- হিন্দুত্ববাদের জজবা তৈরির পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকারহীন করে দেয়া। এ নিয়ে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার চরম সাম্প্রদায়িক নানা ক্রিয়াকলাপ পুরো অঞ্চলে ভীতি ছড়াচ্ছে। সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিএএ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশকে নিশানা করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণ করে তার বাস্তবায়ন শুরু করলেন।

কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে তিনটি ডি-এর কথা উল্লেখ করেছে। ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। শব্দগুলোর অর্থ- চিহ্নিত করো, মুছে ফেলো এবং ফেরত পাঠাও। এর মাধ্যমে তাদের ধারণামতে, যেসব বাংলাদেশী মুসলমান ভারতে অবৈধভাবে আছেন, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এ প্রচারণা বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় প্রতিটি রাজ্যে এক দশক ধরে বিজেপি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ভারতে লাখো মুসলমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হয়েছেন। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে বন্দিশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। বিগত হাসিনা সরকার এই নিপীড়নমূলক আচরণের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করেনি। মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিল।

সিএএ একটি নিবর্তনমূলক আইন। এতে হিন্দুদের শরণার্থী এবং মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আইনের নিশানা যে দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলমানরা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে মুসলমান পীড়ন একটি কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। এই আইন নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের সঙ্কীর্ণ ধর্মীয় স্বার্থে আইন প্রণয়নের নজির নেই। যেখানে মৌলিক অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা একমাত্র ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ধরনের একটি কালো আইন নিয়ে বাংলাদেশে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করা হয়নি। যেখানে আইনটির নিশানা বাংলাদেশ।

শুভেন্দু গত বুধবার সিএএ কার্যকরের ঘোষণা দেন। এতে করে কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হবে। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কাছে তুলে দেবে। যদিও বিএসএফের সীমান্তে পুশইনের সংস্কৃতি বহু আগে থেকে চালু আছে। তারা এটিকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। যখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি বিশেষ অবস্থা দেখা দেয়, এর প্রয়োগ করে। অন্তর্বর্তী ড. ইউনূস সরকারের সময়ে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে পুশইনের হিড়িক পড়ে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধরে এনে নিয়মিত বিরতিতে পুশইন করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ভারতকে একটি ধর্মরাষ্ট্রে রূপ দেয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির একটি নতুন মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। তাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে কল্পিত ওই রাষ্ট্র্রের অংশ দেখানো হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে চলা নানামুখী দমন-পীড়ন ও উৎখাত মৌলিক মানবাধিকার হরণসহ প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। বাংলাদেশকে তার স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখতে হলে আসন্ন হুমকির বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে।