পাবনায় শুঁটকি চাতালে মাছ সঙ্কট উৎপাদন কমতে পারে ৩০ শতাংশ
ঘুঘুদহ বিলে একটি শুটকির চাতাল : নয়া দিগন্ত।

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)
পাবনার নদ-নদী ও বিলগুলোতে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শুঁটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম শুঁটকি উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চাতাল মালিক ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন, অন্যদিকে শুঁটকি তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকিতে পড়তে পারে।
জেলায় ১৬টি নদী ও ২১২টি বিল রয়েছে। এর মধ্যে সুজানগর উপজেলার গাজনার বিল অন্যতম বৃহৎ। এ উপজেলার মসজিদপাড়া গ্রাম শুঁটকি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এ ব্যবসার সাথে জড়িত। এ ছাড়া কাজলকুড়া, ধলকুড়া, ঘুঘুদহ, মুক্তরধর, সোনাই, জামাইদহ, খোলসাখালি ও কাটিয়াদহসহ বিভিন্ন বিল এবং নদ-নদীতে ধরা পড়া ছোট দেশী মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।
পাবনা জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার শতাধিক চাতালে প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ২০০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিমাণ শুঁটকি তৈরিতে প্রায় ৬০০ টন কাঁচা মাছ প্রয়োজন। কিন্তু নদী-বিলে মাছ কম ধরা পড়ায় চাহিদা মতো কাঁচা মাছ পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
চাতাল মালিকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে চাতাল তৈরি এবং জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের অগ্রিম টাকা দিয়েছেন তারা। এখন মাছের সঙ্কটে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ তুলে আনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
পাবনার শুঁটকির দেশ-বিদেশে চাহিদা রয়েছে। উন্নত মানের শুঁটকি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। দেশের সৈয়দপুর, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। সৈয়দপুরের শুঁটকি ব্যবসায়ী এখলাছ মিয়া বলেন, পাবনার মিঠাপানির শুঁটকির মান ভালো। তবে এবার উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে রফতানিও কমতে পারে।
বর্তমানে জেলায় প্রায় ১০০টি অস্থায়ী চাতালে শুঁটকি তৈরি হচ্ছে। এ কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহস্রাধিক পরিবার জড়িত। শ্রমিকরা কাজের ধরন অনুযায়ী দৈনিক ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা মজুরি পান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাধারণত তিন কেজি কাঁচা মাছ শুকিয়ে এক কেজি শুঁটকি পাওয়া যায়।
শুঁটকি উৎপাদনকারী জামাল উদ্দিন বলেন, এ ব্যবসায় ঝুঁকি অনেক। সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় কখনো কখনো মাছ নষ্ট হয়ে যায়। স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা চালান। ফলে লোকসান হলে ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বলেন, চলতি মৌসুমে ২০০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নদী-বিলে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Advertisement