চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল। নয়া দিগন্ত

বায়ুমণ্ডল, সমুদ্র, মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে কার্বনের স্বাভাবিক চলাচলকে কার্বনচক্র বলা হয়; কিন্তু মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এ প্রাকৃতিক চক্রের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এক দিকে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড যোগ হচ্ছে, অন্য দিকে বন ও মাটির মতো প্রাকৃতিক সম্পদের কার্বন শোষণ ও সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। কেমন বাড়ছে তার একটি পরিসংখ্যান দেয়া যেতে পারে। যেমন— ১৭০০-এর দশকের শেষভাগে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের গড় ঘনত্ব ছিল প্রায় ২৮০ পিপিএম। ২০২১ সালে বেড়ে হয় প্রায় ৪১৪ পিপিএম। অর্থাৎ, এই সময়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। 

Advertisement

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো প্রকট হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের কার্বন ফাইন্যান্স ইউনিটের তথ্যানুযায়ী, ২০০৫ সালে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড-সমতুল্য নির্গমন লেনদেন করা হয়েছিল। এটি ২০০৪ সালের তুলনায় ২৪০ শতাংশ বেশি। ২০০৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ১১০ মিলিয়ন টন এবং ২০০৩ সালে ছিল ৭৮ মিলিয়ন টন। সুতরাং  কার্বন বাণিজ্য, এর নির্গমন কমাতে এবং জ্বালানি সংক্রান্ত ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে।

১৯৯২ সাল থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন কমাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৯৯৭ সালে কিয়োটো প্রটোকল  গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত কপপি২১ সম্মেলনে ১৯৬টি পক্ষ প্যারিস চুক্তি গ্রহণ করে।  চুক্তিটি ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর কার্যকর হয়। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার নীতিগুলো প্রধানত দুই ধরনের। প্রথমত, প্রশমন নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন কমানো। এর মধ্যে আছে জ্বালানি ও পরিবহনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো। বায়ু, সৌর ও জলবিদ্যুতের মতো কম-কার্বন জ্বালানি ব্যবহার করা, যানবাহনের জ্বালানি-দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করা।
 
দ্বিতীয়, অভিযোজন নীতির উদ্দেশ্য হলো পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সমাজের সক্ষমতা বাড়ানো। উদাহরণস্বরূপ, ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপদ্ধতি পরিবর্তন করা এবং উপকূলীয় শহরগুলোকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুত করা।

বাংলাদেশ কিয়োটো প্রোটোকল এবং রিও সম্মেলনের তিনটি পরিবেশবিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ।  ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামোগত কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) গৃহীত হয়। এই কনভেনশনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন কমাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানের কিয়োটোতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অব পার্টি জের (সিওপি৩) সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৬০টির বেশি দেশ কিয়োটো প্রটোকল গ্রহণ করে। গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন কমাতে এটি ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি। 

এ চুক্তির অধীনে ৩৮টি উন্নত দেশ নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমা অনুযায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন কমাতে সম্মত হয়। দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার পর ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রটোকলটি কার্যকর হয়। কিয়োটো প্রটোকলের ১৯২টি পক্ষ আছে। এ প্রটোকল জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামোগত কনভেনশনকে কার্যকরের ব্যবস্থা তৈরি করে। 

শিল্পোন্নত দেশ এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশগুলোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন সীমিত ও হ্রাস করতে হয়। এই কনভেনশন দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত প্রতিবেদন প্রদানের আহ্বান জানায়। জলবায়ু পরিবর্তনে বনভূমির উৎপাদনশীলতাও প্রভাবিত হতে পারে। উষ্ণ পরিবেশে কিছু ক্ষেত্রে সালোক-সংশ্লেষণ বৃদ্ধি পেলেও স্থানীয় পরিবেশের পরিবর্তনে অনেক বন ও উদ্ভিদপ্রজাতির টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। 

মানুষের অতিরিক্ত কর্মকাণ্ড ও বনসম্পদের ওপর চাপে বনভূমি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রতি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের কার্বন নির্গমনের পরিমাণ কম হওয়ায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দেশটির অবদান তুলনামূলকভাবে নগণ্য; কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের দিক থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।  

বাংলাদেশের বার্ষিক কার্বন নির্গমন প্রায় ৪৬ হাজার ৫২৭ টন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অভিযোজন ও প্রশমন— উভয় ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ, অর্থনীতি এবং পরিবেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পাশাপাশি শিল্পপ্রক্রিয়ায় নির্গত ফ্লোরিনযুক্ত গ্যাসও পরিবেশে ক্ষতিকর। এসব গ্যাসের মধ্যে কিছু গ্যাসের বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি। এগুলো দীর্ঘ সময় বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করতে পারে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান— সবার দায়িত্ব আছে। প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে উন্নত দেশগুলোর কাছে সার্টিফায়েড এমিশন রিডাকশন বিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে।  উন্নত দেশগুলো নিজেদের কার্বন নির্গমনের লক্ষ্য পূরণে এসব কার্বন ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারে। কার্বন বাণিজ্য বাস্তবায়নে বনভূমিতে কত পরিমাণ কার্বন সংরক্ষিত আছে, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ কারণে কার্বন স্টক বা কার্বনের মজুদ পরিমাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বন স্টক নির্ধারণে মাটির জৈব কার্বন, জীবন্ত গাছপালা, নিচের স্তরের উদ্ভিদ, মৃত কাঠ, শুকনো পাতা এবং মাটির নিচে সংরক্ষিত কার্বন হিসাব করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গবেষকরা বনসম্পদের কার্বন মজুদ নির্ধারণে বিভিন্ন গবেষণা করেছেন। তবে অনেক গবেষণায় সীমিতসংখ্যক গাছের প্রজাতি ও কিছু নির্দিষ্ট চলকের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে বনভূমির কার্বন মজুদের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণ করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ।

কার্বন মূল্য নির্ধারণ হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে সৃষ্ট বাহ্যিক ক্ষতির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এসব ক্ষতির মধ্যে আছে ফসলের ক্ষতি, তাপপ্রবাহ ও খরায় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি, বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে সম্পত্তির ক্ষতি। এ ব্যবস্থায় পরিবেশ দূষণের ক্ষতির ব্যয় সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হয়, যারা গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে দায়ী এবং যারা তা কমাতে সক্ষম। কার্বনের মূল্য নির্ধারণ নির্গমনকারীদের জন্য এটি একটি অর্থনৈতিক সঙ্কেত হিসেবে কাজ করে। এর ফলে তারা নির্গমন কমাতে প্রযুক্তি ও কার্যক্রম পরিবর্তন করতে পারে অথবা নির্গমন অব্যাহত রাখলে তার জন্য অর্থ প্রদান করতে পারে। কার্বন মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য প্রতি টনের ভিত্তিতে এর মূল্য প্রকাশ করা হয়। 

বাংলাদেশের বনভূমি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর  জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনভূমি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় এসব বন দেখা যায়। তবে বন উজাড়, অবৈধভাবে গাছ কাটা, ভূমি দখল এবং স্থানান্তরিত চাষাবাদে অনেক বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে বৃক্ষরোপণে বাংলাদেশে যথেষ্ট সুযোগ আছে। 

কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে আছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং সমুদ্রের মধ্যবর্তী শৈলশিরা থেকে নির্গমন। এর কিছু অংশ বায়ুমণ্ডলে থেকে যায়, কিছু সমুদ্রে দ্রবীভূত হয়  এবং কিছু জীবন্ত বা মৃত জৈব পদার্থে সংরক্ষিত থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে দেশের বনভূমিতে কত পরিমাণ কার্বন সংরক্ষিত আছে, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বাাংলাদেশ কিয়েটো প্রটোকলের স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়ায় কার্বন বাণিজ্য এবং ক্লি¬ন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্বন মজুদের নির্ভরযোগ্য হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সরকার বনভূমির কার্বন মজুদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রস্তুতি রোডম্যাপ তৈরির মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বনজ উদ্ভিদের মাধ্যমে কার্বন শোষণের পরিমাণ নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা গেলে নীতিনির্ধারক, গবেষক ও উদ্যোক্তারা বন সংরক্ষণ এবং কার্বন বাণিজ্যের উন্নয়নে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, মরুকরণ প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বন সম্পর্কিত আন্তর্জতিক চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জলাধার বা অববাহিকাভিত্তিক শক্তিশালী, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক বন ব্যবস্থাপনা  গড়ে তোলা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বন সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা  করলে এর কার্যকারিতা বাড়তে পারে।

দ্রুত বর্ধনশীল ও বেশি ফলনশীল গাছের প্রজাতি নির্বাচন করে বৃক্ষ আচ্ছাদন বাড়ানো যেতে পারে। সরকারি অনাবৃত জমি, প্রান্তিক জমি, অনুর্বর জমি এবং নতুনভাবে উন্মুক্ত হওয়া জমিতে বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি জমিতে বনায়ন ও পুনঃবনায়নের  সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবক্ষয়িত ও বৃক্ষহীন বনভূমি পুনরুদ্ধারে পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, উৎসাহ এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা প্রয়োজন। অংশগ্রহণমূলক বন ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ, পুনঃবনায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে  বাংলাদেশের বনভূমি সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর ফলে কার্বন শোষণ বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমবে এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগো সৃষ্টি হবে। 

লেখক :  নিরাপত্তা গবেষক ও কলামিস্ট