১৩ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের ডাক শিক্ষার্থী শ্রমিক সংগঠনগুলোর

ফ্রান্স থেকে প্রতিনিধি

Advertisement

ফ্রান্সে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোট আগামী ১৩ অক্টোবর দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নীতি, অর্থ বরাদ্দ এবং কর্মীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে চলমান অসন্তোষের মধ্যেই এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হলো।
বিএফএমটিভি ও ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে, গত বৃহস্পতিবার প্যারিসে আয়োজিত এক সমাবেশে শিক্ষার্থী ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না আলোচনার টেবিলে ১০ বিলিয়ন ইউরো রাখা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
খারবাখ বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি দেশজুড়ে চলমান কর্মসূচিতে আরো বেশি মানুষকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে আগের তুলনায় আরো বড় জনসমাগম ঘটাতে হবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে হবে।
শিক্ষা খাতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে। ফরাসি শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন সিন্ডিকাল ইউনিটেয়ার- এফএসইউর প্রতিনিধি ক্যারোলিন শেভে বৃহস্পতিবার বিএফএমটিভিকে বলেন, তারা জাতীয় শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের ধর্মঘটে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। শ্রমিক সংগঠন সিজিটির হিসেবে, সারা দেশে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৭১ হাজার ৫০০ বলে জানিয়েছে।
দুই পক্ষের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই একমত যে, বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ মঙ্গলবারের কর্মসূচির তুলনায় কম ছিল। এর পরও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত না করে বরং আগামী মঙ্গলবার আরও বড় আকারে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৮ অক্টোবর প্যারিসের বাস্তিল চত্বরে শিক্ষার্থীদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারকে শিক্ষা খাত ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে এবং কর্মীদের আর্থিক ও পেশাগত সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে শিক্ষক ও কর্মীদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
১৩ অক্টোবরের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তঃইউনিয়ন জোটের নেতারা জানিয়েছেন, ওই দিন দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ১০ বিলিয়ন ইউরোর দাবির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। ফলে আগামী দিনের আলোচনায় সরকার কী অবস্থান নেয় এবং আন্দোলনকারীদের সাথে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় কিনা, সেদিকেই নজর রয়েছে।