
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এক সাথে দুই মহাতারকার উপস্থিতি বিশ্ব ফুটবলে। একজন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অপর জন লিওনেল মেসি। প্রায় একই সময়ে দুইজনে খেলেছেন স্প্যানিশ লা-লিগায়। মেসি ২০০৫ সালে বার্সেলোনা মূল দলে যোগ দেন। আর রোনালদো ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্ব শেষ করে ২০০৯ সালে গায়ে তোলেন রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি। রিয়ালে পর্তুগিজ তারকাটি ছিলেন ২০১৮ সাল পর্যন্ত। আর মেসি বার্সেলোনা ছেড়েছেন ২০২১ সালে। স্প্যানিশ লিগের দুই বিশ্ব সেরা ক্লাবে দুই মহা তারকার উপস্থিতির সময় থেকেই শুরু হয় লড়াই। কে সেরা। মেসি না রোনালদো। এই বিতর্কে অবশ্যই দুইজনকে এক কাতারে রাখতে হবে। যদিও জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি জয়ের বিচারে এগিয়ে থাকবেন আর্জেন্টিনার ফুটবলের কিংবদন্তিটি। রোনলাদো দেশকে ইউরো জিতিয়েছেন ২০১৬ সালে। ইউরো ন্যাশনস লিগে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন ২০১৯ ও ২০২৫ সালে। তবে বিশ্বকাপ তার জেতা হয়নি। না যুব বিশ্বকাপে না মূল বিশ্বকাপে। সেখানে মেসি ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২২ সালে মূল বিশ্বকাপ হাতে তুলেছেন। এ ছাড়া দুইবার কোপা আমেরিকা ও একবার কোপা ফিনালেসিমা জয় করেছেন।
তবে ক্যারিয়ারেরর শেষ দিকে এসে রোনালাদোকে যেভাবে জাতীয় দলে উপেক্ষিত হতে হচ্ছে মেসির ক্ষেত্রে তা হয়নি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেই একাদশে স্থান হারান রোনালদো। এখন উয়েফা ন্যাশনস লিগের সর্বশেষ দুই ম্যাচে তাকে একাদশে সুযোগ দেয়া হয়নি। সাইড বেঞ্চেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ রোনালদো পর্তুগালের ক্যাম্পই ছেড়ে চলে যান। এখন তাকে ফেরানোর নানা চেষ্টা।
তবে ফিট মেসিকে কখনই সাইড লাইনে বসিয়ে রাখার দুঃসাহস দেখাতে পারেননি কোনো আর্জেন্টাইন কোচ। কিভাবে করবেন। ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেখানে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে উজ্জ্বল ছিলেন রোনালদো তা করতে পারছেন না ৪১ বছর বয়সে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে রোনালদো করেছেন তিন গোল। আর মেসির গোল আটটি। মেসি তিনবার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গেছেন। একবার হাতে নিয়েছেন ট্রফি। রোনালদো পারেননি একবারো। যদি পর্তুগালের হেড কোচ রোনালদোকে আর জাতীয় দলে না ডাকেন তাহলে আলাদা ব্যবস্থা করে তার অনুষ্ঠানিক বিদায়ের আয়োজন করতে হবে।
সেখানে পুরোপুরি ব্যতিক্রম মেসি। প্রতিটি মুুহূর্তে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার মহাগুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তাকে ছাড়া একাদশ গড়ার চিন্তাই করতে পারেননি আর্জেন্টিনার কোচ। এটা মেসি নিজ যোগ্যতায় অর্জন করেছেন। এরই ধারাক্রমে গতকাল ভোরে বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্টের সাথে একটি গোল করেছেন। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা দলে উপেক্ষিত নয় পরম সম্মানের সাথে খেলে গেছেন শেষ পর্যন্ত। রোনালদোর মতোই টানা ছয় বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। শেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে একাই ফাইনালে নিয়ে গেছেন। সেখানে রোনালদো কাতার বিশ্বকাপ থেকেই দলে আগের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








