জাল সনদে বরখাস্ত, ১২ বছর পর গেজেটের সুপারিশ

মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা 

Advertisement

রংপুরের মিঠাপুকুরে জাল সনদে চাকরিতে যোগ দিয়ে বরখাস্ত হওয়া এক প্রধান শিক্ষককে ১২ বছর পর নতুন সনদ দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গেজেটে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক সহসভাপতি মো: রাসেল মিয়া জেলা প্রশাসক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাংনী ইউনিয়নের রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শফিকুল ইসলাম ২০১০ সালের ২৭ জুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তার দাখিল করা এইচএসসি ও স্নাতকের সনদ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় সনদগুলো সঠিক নয় বলে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২০১৩ সালের ৩ জুলাই তাকে বরখাস্ত করে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০১৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শফিকুল চাকরিতে যোগদানের সময় যে স্নাতক সনদ দাখিল করেন, তাতে ২০১১ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস দেখানো হয়। অথচ তিনি ২০১০ সালেই ওই যোগ্যতা দেখিয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরখাস্তের পর নতুন সনদ সংগ্রহ করে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করানো হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের সময় সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ার পর নতুন সনদ দিয়ে এ সুপারিশ বিধিসম্মত নয় বলে অভিযোগ তাদের।
শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি এইচএসসি পাস করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, জেলা অফিস থেকে ফাইল পাঠানোর পর নতুন সনদ অনলাইনে যাচাই করে সঠিক পাওয়ায় গেজেটের সুপারিশ করেছেন। মাঠপর্যায়ে তদন্ত না করার বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা অফিসের নির্দেশেই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। টাকা নেয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাবেক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শফিকুলের বিরুদ্ধে করা মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় গেজেটের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সুপারিশ করলেই গেজেট হয়ে যায় না; অধিদফতরে তা যাচাই হবে।