
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মিশিগানে মুসলিম প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়িদকে ঠেকাতে সেখানকার ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস উইম্যান হ্যালি স্টিভেন্স প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হ্যালি ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের সাথে প্রকাশ্যে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার ডেট্রয়েটের একটি চার্চে ডেমোক্র্যাট সদস্য স্টিভেন্স এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে একসাথে দেখা যায়। রজার্সের প্রচার দলের মুখপাত্র অ্যাবি রনসন দুই প্রার্থীর চার্চে পাশাপাশি উপস্থিত থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করলে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।
অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই দিনে স্টিভেন্সের নিজ দলের প্রার্থী আল-সাইয়িদের সাথে একটি 'ডেমোক্রেটিক ঐক্য' মূলক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক নির্বাচনে স্টিভেন্সকে পরাজিত করেই মূল দলীয় মনোনয়ন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন মুসলিম ও প্রগতিশীল নেতা আব্দুল আল-সায়েদ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন জীবনযাত্রার ব্যয়ভার এবং ইসরাইল নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্ক। সম্প্রতি একটি বহিরাগত গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির পেছনে ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তাকে দায়ী করে একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার করে। স্টিভেন্স—যিনি মূলধারার প্রথাগত ইসরাইল-সমর্থক রাজনীতিবিদ—দাবি করেন, আল-সাইয়িদ যেন এই বিজ্ঞাপনের কঠোর ও প্রকাশ্যে নিন্দা জানান।
আল-সাইয়িদ বিজ্ঞাপনটির মূল বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করলেও পরে বিষয়টি তুচ্ছ ঘোষণা করে মন্তব্য করেন যে, 'ভোটাররা রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক বিরোধের চেয়ে নিজেদের জীবনযাত্রার খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন।' আল-সায়েদের এই হালকাভাবে নেওয়াকে স্টিভেন্স ভালোভাবে নেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-সাইয়িদের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই স্টিভেন্স নিজ দলের নির্ধারিত ঐক্য কর্মসূচি বয়কট করেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থীর সাথে চার্চের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থীর সাথে প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়াকে প্রথাগত রাজনীতির এক বড় ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনাটি মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ ফাটল, ইসরাইল ইস্যুকেন্দ্রিক আদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক মেরুকরণকে নতুন করে উসকে দিলো।
সূত্র: সিএনএন
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








