সোনাতলায় বাঙালি নদীতে বালু উত্তোলন
সোনাতলার বাঙালি নদী থেকে বালু উত্তোলনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত।

 মিনাজুল ইসলাম মিজান সোনাতলা (বগুড়া)

Advertisement

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাঙালি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীতীর ও ফসলি জমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে ভাঙন তীব্র হয়ে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোড়গাছা ইউনিয়নের সর্জনপাড়া, হলিদাবগা, জোড়গাছা ও খোদাদিলেরপাড়া মৌজার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাঙালি নদীর দুই তীর প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হয়। এতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 
ভাঙন ঠেকাতে কয়েক বছর আগে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন অংশে ব্লক স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সোনাকানিয়া শতবর্ষী জামে মসজিদ, হলিদাবগা জামে মসজিদ, বাঙালি হাট ও আশপাশের জনবসতি রয়েছে। এ ছাড়া হুয়াকুয়া-সর্জনপাড়া বাঙালি সেতু এবং বগুড়া-গাবতলী-সোনাতলা-মোকামতলা সড়কের বিভিন্ন অংশও ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব স্থাপনা ও কৃষিজমির কাছাকাছি একটি চক্র ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। এতে নদীর তীরের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন বাড়তে পারে। স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এর আগে অভিযান চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপরও বালু উত্তোলনের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মাঝে মধ্যে কৃষকদের হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। নতুন করে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হলে নদীভাঙন বেড়ে মসজিদ, হাট-বাজার, বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা সর্জনপাড়া-হুয়াকুয়া বাঙালি সেতু থেকে সোনাকানিয়া মসজিদ, হলিদাবগা বাঙালি হাট হয়ে সাতবেকী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় বালু উত্তোলনে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
সোনাতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ এ ধরনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।