আশুলিয়ায় ৬০০ টাকা বেশিতে বিক্রি এলপিজি, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ
আশুলিয়ায় ৬০০ টাকা বেশিতে বিক্রি এলপিজি, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ।

তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)

Advertisement

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে বিভিন্ন দোকানে এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম দুই হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির অতিরিক্ত দাম নেয়ার বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও প্রশাসনের অভিযান হলেও আশুলিয়ায় এ ধরনের তদারকি কম। ফলে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন।
আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস না থাকায় রান্নার কাজে তাদের এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ’ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
গোহাইলবাড়ি এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মমতা আক্তার মাসে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় করেন। দুই মেয়ের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সিলিন্ডারের দামও বেশি হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কুটুরিয়া বাঘেরচালা এলাকার ডেকো গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর আসাদুল ইসলাম বলেন, তার মাসিক আয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও খাবারের খরচের পর গ্যাস কেনার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে। স্থানীয় দোকানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য দুই হাজার ২০০ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের দাম দোকানভেদে ভিন্ন। গোহাইলবাড়ি এলাকার মুদি দোকানি দেলোয়ার হাসান বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার প্রায় এক হাজার ৯০০ টাকা দরে কিনতে হয়। তাই ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।
টেংগুরি এলাকার এক গ্যাস ডিলারের সাপ্লাইম্যান সবুজ বলেন, কোম্পানির কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা ডিলারদের তথ্য দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।