আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে পায়রা বন্দরে এলো মাদার ভেসেল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

Advertisement

আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি নিয়ে চীন থেকে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনালে ভিড়েছে মাদার ভেসেল ‘ফান ঝৌ-৬’। দীর্ঘ দুই বছর পর এই টার্মিনালে সরাসরি কোনো মাদার ভেসেল এলো। চীনের পতাকাবাহী জাহাজটি গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরে নোঙর করে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটিতে রয়েছে বন্দরের জন্য কেনা পাঁচটি আধুনিক যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দু’টি কোয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন আছে। প্রথম টার্মিনালে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং আরো আধুনিক ও দ্রুত করতেই এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।
বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড করা হবে। আরটিজি ক্রেন দিয়ে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ করা হবে। অন্য দিকে এমএইচসির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার খালাসের কাজ আরো দ্রুত ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ছয় মিটার ড্রাফটের জাহাজটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। নতুন সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় বন্দরের কার্গো অপারেশন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে বেশি ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আনা সম্ভব হবে। এতে বিপুল পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরো বাড়বে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এমভি জেইন এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এমভি ডা হং-১৬ নামের দু’টি মাদার ভেসেল সরাসরি প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু নাব্যতা সঙ্কটই মূল সমস্যা।’ তিনি জানান, সক্ষমতা বাড়াতে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা সঙ্কট দূর করতে ড্রেজিং চলছে। পাশাপাশি পায়রাকে ডিজিটালাইজড বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার কাজও চলমান আছে।