চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনা ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাচ্ছে আজ

 বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

Advertisement

বহুল আলোচিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-এনসিটি পরিচালনা অবশেষে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পিপিপি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানিটির সাথে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হচ্ছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আজ বেলা ৩টায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই হবে। একটি সূত্র চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার আভাস দিয়েছেন। তবে অনুষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রে বিডা চেয়ারম্যান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান উভয়কেই দাওয়াতকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। 
এর আগে গত ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৪০ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। 
প্রাথমিকভাবে ১৫ বছরের জন্য দেয়া হলেও নেগোসিয়েশন সাপেক্ষে তা আরো ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ চুক্তিতেই থাকবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 
এর আগে গত জুনে ‘অপারেশন অ্যান্ড মেনটেইনেন্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) বাই প্রাইভেট টার্মিনাল অপারেটর আন্ডার পিপিপি’ শীর্ষক পিপিপি প্রকল্পের ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের  লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডইর সাথে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। 
টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের দরকষাকষির বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তার নীতি অবলম্বন করা হয় শুরু থেকেই। এনসিটিতে বর্তমানে বার্ষিক হ্যান্ডলিং হয় ১.৩ মিলিয়ন(১৩ লাখ) টিইইউএস। টার্মিনালটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ রাজস্ব আয় হয়। লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের নামে দেশের ডলার সঙ্কট কাটাতে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার সংযুক্ত আমিরাতকে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালসহ বন্দর খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী দুবাইয়ে পিপিপি জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুবাই সরকারের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পিপিপি কর্তৃপক্ষের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। 
২০২৩ সালের ২৩ মার্চ অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে প্রথম নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। আর গত ১ অক্টোবরের অনুমোদনের মাধ্যমে কনসেশন চুক্তি সইয়ের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে যায়। 
এ দিকে টার্মিনালটি বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার বিরুদ্ধে সরকারদলীয় শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন চালাচ্ছে। চুক্তি করা হলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।