
সংসদ প্রতিবেদক
দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সাথে বিদ্যালয়ের চলমান ফিডিং কার্যক্রমে খাবারের গুণগত মান ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতরের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যরা বলেন, দেশের কোনো শিশু যাতে বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে জন্য সব শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে কোনো শিশু বঞ্চিত হচ্ছে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকা শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছে কমিটি।
প্রাথমিক স্তরে শিশুদের পাঠদানের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়। শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর এ সময় গুরুত্ব দেয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের চলমান ফিডিং কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি খাবারের সঠিক গুণগত মান এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি সুপারিশ করেছে। একই সাথে ফিডিং কার্যক্রমে খাবারের মান নিশ্চিত না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ও পুষ্টি কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ও ব্যয়ের খাতওয়ারি বিভাজন উপস্থাপন করা হয়।
বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়েও সুপারিশ করেছে কমিটি। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে কার্যকরভাবে ব্যয় এবং এর সুফল যাতে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।
শুধু বৈঠকে বসে প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা পর্যালোচনার পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিস্থিতি দেখার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটির সব সদস্যকে বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শনের পরামর্শ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বাস্তব অবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো: আব্দুস সালাম, মো: সাদিক রিয়াজ, অধ্যাপক মো: ইলিয়াস মোল্লা, মো: মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশগ্রহণ করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








