ভারতের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ মোদির ভাবমূর্তি চুরমার
ভারতের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ মোদির ভাবমূর্তি চুরমার।

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ককরোচরা ফিরে এসেছে এবং বলছে যে ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা সারা দেশে বিক্ষোভ করতে যাচ্ছে। কারণ একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্র এমন একটি কেলেঙ্কারি উন্মোচন করেছে যে ভারতের নির্বাচন এখন পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’ সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ এখানে দেয়া হলো।
প্রশ্ন : ঠিক কী জিনিস আপনাকে ককরোচ আন্দোলনের দিকে টেনেছিল?
অরুন্ধতী রায় : আমাকে টেনেছে তাদের ইনস্টাগ্রাম, রিল ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ানো বার্তার এই নতুন পদ্ধতি। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তিল তিল করে গড়ে তোলা ভাবমূর্তিকে ধসিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন : এটি কি ভারতে কোনো প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে?
অরুন্ধতী রায় : এটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোদি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি সেই সত্য থেকে নির্বাচন নিয়ে কেলেঙ্কারি রয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি রয়েছে, ব্যাপক বেকারত্ব রয়েছে। সুতরাং সবকিছু এক সাথে মিলে এক  গুরুতর বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রাজার আসল রূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে এবং তিনি তার শক্তি হারিয়েছেন।
প্রশ্ন : ভারত প্রকাশ্যে বলে থাকে, একটি অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প, তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক। কিন্তু আপনার কাছে আধুনিক ভারত আসলে কী?
অরুন্ধতী রায় : দেখুন, আধুনিক ভারত হলো অত্যন্ত দরিদ্র মানুষে ভরা একটি অত্যন্ত ধনী দেশ। মানে, আমার মনে হয় না পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে মানুষ এত গভীর দারিদ্র্যে, এমন চরম অপমানজনক পরিস্থিতিতে বসবাস করে। আর এটি নিয়ে কোনো দেশের একটি সুপার অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বড়াই করাটা লজ্জাজনক। ভারত আসলে চরম দরিদ্র একটি দেশ। অবশ্যই এখানে অত্যন্ত ধনী কিছু মানুষ আছে, অত্যন্ত ধনী শিল্পপতিরা রয়েছে যারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু তার খুব কমই দরিদ্রদের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। তাই জনগণকে এভাবে ক্ষমতাহীন করে রেখে ভারতকে একটি সুপার পাওয়ার বা অর্থনৈতিক শক্তি বলাটা একটা কেলেঙ্কারি ছাড়া কিছুই নয়।
আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ভয় দেখানো হচ্ছে। গত স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে মোদি বলেছিলেন, সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ হলো ‘দিমাগি নকশাল’, যার অর্থ বুদ্ধিবৃত্তিক মাওবাদী; আর তার মধ্যে অবশ্যই আমরা সবাই অন্তর্ভুক্ত! এবং আমাদের নাকি একঘরে করে রাখতে হবে।
প্রশ্ন : ভারত কি এখনো বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র- যা উদযাপন করার মতো কিছু? নাকি আপনি মনে করেন এটি একটি লোকদেখানো ভুয়া গণতন্ত্র?
অরুন্ধতী রায় : ঠিক এই জায়গাটিতেই আঘাতটা হানা হয়েছে। মোদি সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াটাই বদলে দিয়েছে। তিনি নিজে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেছেন। পূর্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনে বিরোধী দল এবং প্রধান বিচারপতির একটি ভূমিকা থাকত কিন্তু এখন আর তা নেই। বিশেষ করে সংখ্যালঘু বা বিজেপি-বিরোধী হিসেবে পরিচিত ভোটারদের- সরাসরি ভোট দিতে দেয়া হয়নি। নির্বাচনই গণতন্ত্রের প্রমাণ নয়। আপনার একটি সংবিধান প্রয়োজন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রয়োজন। সেগুলোর সবই ফাঁপা করে ফেলা হয়েছিল। মোদি শাসনের অধীনে যারা একরকম ভেঙে পড়েছিল এবং কেঁপে উঠছিল, তারা হঠাৎ করে শিরদাঁড়া না হলেও অন্তত কয়েকটি মেরুদণ্ডের হাড় খুঁজে পাচ্ছে এবং এটি ছোট ছোট স্পেস তৈরি করছে।