
বিশেষ সংবাদদাতা
জীবনযাত্রার ব্যয় যে গতিতে বাড়ছে, সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপরীতে শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৭.৯০ শতাংশে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় সঙ্কুচিত হয়ে নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় অস্বস্তি আরো বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে প্রস্তুত করা এ প্রতিবেদনে দেখা যায়- জাতীয়, গ্রামীণ ও নগর তিন স্তরেই খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮.৩৪ শতাংশ, যা গত আগস্টে ছিল ৮.২৬ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের (৮.৩৬ শতাংশ) তুলনায় তা প্রায় একই উচ্চ পর্যায়ে আটকে আছে। ২০০১-২২ ভিত্তি বছরের তুলনায় সাধারণ মূল্য সূচক এখন ১৫০ ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪১-এর কাছাকাছি।
সেপ্টেম্বরে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.২২ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ৭.০২ শতাংশ। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের (৭.৬৪ শতাংশ) তুলনায় খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম।
অন্য দিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৩০ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৯.৩২ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৮.৯৮ শতাংশ। এতে স্পষ্ট যে, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন ও পোশাকের মতো খাদ্যবহির্ভূত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে সাধারণ মানুষের খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
গ্রাম ও শহরের বৈষম্য
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি।
সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৪৭ শতাংশে, আর শহরাঞ্চলে এই হার ৮.২৮ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামের মানুষকে শহরের তুলনায় ০.১৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি মূল্যস্ফীতি বহন করতে হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭৮ শতাংশে (আগস্টে ছিল ৭.০১%) এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৫৭ শতাংশ। বিপরীতে শহরাঞ্চলে সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.২৪ শতাংশ (আগস্টে ছিল ৭.০৪%) এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৪ শতাংশ।
আয় ও ব্যয়ে বৈপরীত্য
মূল্যস্ফীতি যখন আট শতাংশের ওপরে, তখন শ্রমজীবী মানুষের আয়ের গতি আরো শ্লথ হয়ে পড়েছে। বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.৯০ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। ফলে মূল্যস্ফীতির (৮.৩৪%) তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার (৭.৯০%) কম থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
খাতওয়ারি মজুরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৯ শতাংশ (আগস্টে ৮.০৭%), শিল্প খাতে ৭.৮৬ শতাংশ (আগস্টে ৭.৯৭%) এবং সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৮.০৭ শতাংশ (আগস্টে ৮.২৮%)। অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রামীণ অনানুষ্ঠানিক খাতের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আয় কাজভিত্তিক হওয়ায় নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম সরাসরি তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








