
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
সাড়ে চার বছর ধরে চলতে থাকা রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত নিরসনে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ কারিগরি পর্যায়ের এ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে সঙ্ঘাতের দিকে ওয়াশিংটনের মনোযোগ সরে যাওয়ায় ইউক্রেন শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল। এ প্রেক্ষাপটে রোববার সাংবাদিকদের ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান, মার্কিন পক্ষ ইউক্রেন ও রাশিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং মাসের শেষে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। গত শনিবার মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার পর এই সময়সূচিতে সম্মতি দিয়েছে ইউক্রেন। বৈঠকটি সংযুক্ত আরব আমিরাত বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অন্য যেকোনো স্থানে আয়োজনে কিয়েভের কোনো আপত্তি নেই। এর আগে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ বন্ধের পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোতে মস্কো নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে না আসায় কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি, উপরন্তু ইউক্রেনে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। তবে গত মাসে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও অক্টোবরে এই ধরনের আলোচনার আশাবাদের কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে যুদ্ধ অবসানের আলোচনার পাশাপাশি রাশিয়ার তেল কোম্পানি ‘লুকঅয়েল’-এর সম্পদ অধিগ্রহণে বিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক প্রস্তাব সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে জানানো হয়, প্রস্তাবিত এই চুক্তির মাধ্যমে লুকঅয়েলের মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও গ্যাস স্টেশন অধিগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে মার্কিন বিনিয়োগকারী টড বোয়েলি, মধ্যপ্রাচ্যের দু’টি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং মার্কিন সরকারের একটি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে ওয়াশিংটন ও ক্রেমলিনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বৈঠকের সময় পুতিন নিজেই এই প্রস্তাব তোলেন। দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্পর্কের বার্তা দিতেই পুতিন এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বা লুকঅয়েল এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি।
ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ কারখানায় রুশ ড্রোন বিস্ফোরণ : নিহত ১
এ দিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি শহরে একটি ওষুধ কারখানায় রাশিয়ার তীব্র ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকাল সকালের এই হামলায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনীয় দূতাবাসের তথ্যানুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটি ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ‘কুসুম গ্রুপ’-এর মালিকানাধীন একটি ওষুধাগার ও কারখানা। সেখানে জরুরি প্রয়োজনের ওষুধ প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হতো। তবে হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চল লক্ষ্য করে প্রায় ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী, যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি ছিল জেটচালিত। এর মধ্যেই সুমির ওই স্থাপনায় কয়েকটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানলে বিকট বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতে অবস্থিত ইউক্রেনীয় মিশন বেসামরিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোয় আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সুমি ছাড়াও রাজধানী কিয়েভ, ডিনিপ্রো, খারকিভ, দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে মস্কো।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








