ক্রিকেটে এবার পদকই এলো না
আউট হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটার তৌহিদ হৃদয় : বিওএ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক
পদকের আশা নিয়ে এশিয়ান গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জপদকটিও জুটল না। নিশিনে ব্রোঞ্জপদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলকে! এই জয়ে ব্রোঞ্জপদক নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। এবারের এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটের জন্য তাই হয়ে থাকল ব্যতিক্রমী এক আসর। ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর প্রতিটি আসরেই ছেলেদের দল পদক নিয়ে ফিরেছিল। প্রথম আসরেই এসেছিল স্বর্ণ। পরের আসরগুলোতেও পদকের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই ধারাবাহিকতাই ভেঙে গেল। শুধু ছেলেদের নয়, মেয়েদের ক্রিকেট দলও পদক হারিয়েছে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য হয়ে থাকল পদকহীন এক অধ্যায়।
এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল। নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।
শ্রীলঙ্কার দেয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাই হয় দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম দুই ওভারেই ফিরে যান দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। দু’জনেই ফিরেন শূন্য হাতে। এরপর অধিনায়ক লিটন দাসের বিদায়ে আরো বড় ধাক্কা হয়ে আসে। প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফেরেন। লিটনের শূন্য রানে ফেরাটা যেন সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ পাঁচ আন্তর্জাতিক ইনিংসের চারটিতেই কোনো রান না করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ব্রোঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দলের প্রয়োজনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি তিনি!
টপ অর্ডারের এমন বিপর্যয়ের পরও ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের; কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরাও। একের পর এক ভুল শটে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দলের কোনো ব্যাটসম্যানই ৩০ রান করতে পারেননি। নবম ব্যাটার হিসেবে নাসুম আহমেদ কিছুটা লড়াই করেন। ২৬ রান করে তিনিই হন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ইয়াসির আলী রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২০ রান করেন। তবে তাদের ইনিংস বাংলাদেশের হার ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১৭.৩ ওভারেই ১০২ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
অথচ ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই। শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২১ রানেই হারিয়েছিল চার উইকেট। বাংলাদেশের স্পিনারদের ঘূর্ণিতে চাপে পড়ে গিয়েছিল লঙ্কানরা। আলিস আল ইসলাম তিন ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়ে ছিলেন বিশেষভাবে কার্যকর। শেখ মাহেদী হাসানও চার ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন দু’টি উইকেট।
কিন্তু ১৩ ওভার পর্যন্ত চাপে থাকা শ্রীলঙ্কাকে শেষ দিকে ম্যাচে ফিরিয়ে দেন তাদের ব্যাটসম্যানরা। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে এনে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। পরের ওভারেও দেন ১১ রান। রিশাদ হোসেনের শেষ ওভার থেকে আসে আরো ২১ রান। ফলে শেষ সাত ওভারে দ্রুত রান তুলে লড়াই করার মতো স্কোর গড়ে শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান থারিন্দু রতœায়েকের। ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। সাহান আরাচিগে করেন ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান, সাইফ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন দু’টি করে উইকেট। তবে বোলারদের তৈরি করে দেয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ১৬৫ রানকে বড় লক্ষ্য বানিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০২ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর  
শ্রীলঙ্কা : ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (রতœায়েকে ৬৫, আরাচাগে ৩৩, বান্দারা ১৮; মেহেদী ২/১৯, সাইফ ২/২৮, মোস্তাফিজ ২/৪৩, রিশাদ ১/৪৬)।
বাংলাদেশ : ১৭.৩ ওভারে ১০২/১০ (নাসুম ২৬, ইয়াসির ২১, পারভেজ ২০, হৃদয় ১১, রিশাদ ১০ থুসারা ২/১৮, রতœায়েকে ২/১৮, ভিসাকান্ত ২/২৬, সাহান ২/১৭)
ফল : শ্রীলঙ্কা ৬৩ রানে জয়ী।

Advertisement