বরগুনায় জমির দখল ফিরে পেলেও হয়রানির অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধার

বরগুনা প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৩৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিজের কেনা ২ একর ৪৮ শতাংশ জমির দখল ফিরে পেয়েছেন বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম আব্দুল বারেক। তবে জমির দখল পাওয়ার পরও একটি পক্ষ তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে তিনি বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলেও জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে বৈধভাবে ওই জমি কেনেন আব্দুল বারেক। জমির মূল দলিল, নামজারি ও খাজনার রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ৫৬ জনকে বিবাদি করে আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। পরে মামলার ধারাবাহিকতায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, বরগুনায়ও মামলা হয়।
আব্দুল বারেক জানান, আদালত ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তার পক্ষে রায় দেন। রায়ের পর বিবাদি পক্ষ আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আদালতের প্রতিনিধি ও সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে সম্প্রতি জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে তার অভিযোগ, রায়ের পরও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। জমি বুঝিয়ে দেয়ার পরদিন থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়েও হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বারেক বলেন, আদালতের রায় ও প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি নিজের জমি ফিরে পেয়েছেন। তবে দীর্ঘ দিন ধরে চলা বিরোধের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করার পর নিজের কেনা জমির অধিকার পেতে ৩৫ বছর লড়াই করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, পূর্ব ধুপতীর মনসাতলী গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন এবং জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আব্দুল বারেকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমি বরগুনা বড় গৌরিচন্না মৌজার আটটি দাগে অবস্থিত। আদালতের রায়ের পর সংশ্লিষ্ট বিএস খতিয়ান ও দাগের রেকর্ডও সংশোধন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Advertisement