স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেসক্রিপশনে ব্র্যান্ড নামের ছড়াছড়ি
মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রেসক্রিপশনে ওষুধের ব্র্যান্ড নাম লেখা রয়েছে : নয়া দিগন্ত।

সুমন আহমেদ মতলব উত্তর (চাঁদপুর) 
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নামের পরিবর্তে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধের নাম লেখার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ইনডোরে চিকিৎসকদের একাংশের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোগী ও সচেতন মহল। 
সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়া অধিকাংশ রোগীর প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নামের বদলে নির্দিষ্ট কোম্পানির বাণিজ্যিক নাম লেখা। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দেয়া সরকারি ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের ব্র্যান্ডের নামের মিল না থাকায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।  
চিকিৎসা নিতে আসা সালেহা বেগম জানান, ডাক্তার কাগজে যে কোম্পানির নাম লিখে দিয়েছেন, হাসপাতালের ফার্মেসিতে সেই কোম্পানির ওষুধ পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে বেশি দামে ওই কোম্পানির ওষুধ কিনতে হয়েছে। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান দিনমজুর বাচ্চু মিয়া ও রিকশাচালক আল আমিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিকল্প ব্র্যান্ডের ওষুধ নিতে ভয় পাওয়ায় এবং হাসপাতালে সব ওষুধ না মেলায় তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম লিখলে রোগীরা সাশ্রয়ী দামে পছন্দের ভালো মানের ওষুধ বেছে নিতে পারেন, যা চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশে কমায়। কিন্তু ব্র্যান্ডের নাম লেখায় রোগীরা একচেটিয়া ব্যবসার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের অনৈতিক সুবিধা ও উপহারসামগ্রীর বিনিময়ে একশ্রেণির চিকিৎসক নিয়ম ভাঙছেন। হাসপাতালের ভেতরে ও ফটকে প্রতিনিধিদের অব্যাহত ভিড়ে রোগীদের চলাচলেও বিঘœ ঘটছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাশ বলেন, প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম লেখার বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে। কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম লেখার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisement