
এএফপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থানের পর জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে সরবরাহে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা কমাতে এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশগুলোতে তেল রফতানি বন্ধ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহে ইউরোপ ক্রমেই ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই সুযোগে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ইউরোপ নিজের মজুত ব্যবহার না করলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রফতানি আটকে দেয়া হতে পারে। এতে পুরো ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়। মার্কিন প্রশাসনের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির যে আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ভোটের আগেই তা ভোটারদের সহনীয় পর্যায়ে আনতে মরিয়া ট্রাম্প। এর আগে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) উদ্যোগে গত মার্চ মাসে বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
এক যৌথ ঘোষণায় জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান জানায়, আইইএর তত্ত্বাবধানে আগামী চার মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ১০ কোটি ব্যারেল তেলের ছাড় নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী, প্রথম ২০ দিনের ভেতর সদস্য রাষ্ট্রগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। তবে ১০ কোটি ব্যারেলের মধ্যে ঠিক কতটুকু ডিজেল আর কতটুকু অপরিশোধিত তেল থাকবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইইএ আরেকটি বৈঠকের উদ্যোগ নেবে। হোয়াইট হাউজের এই পদক্ষেপ এমন এক প্রেক্ষাপটে এলো যখন সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে তলানিতে ঠেকেছে। রয়টার্স বা ইপসোসের ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে ৩২ শতাংশে নেমেছে, যা তার পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৮৩ শতাংশ আমেরিকান, বিপরীতে মাত্র ১৭ শতাংশ নাগরিক তার সমর্থনে মতামত দিয়েছেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








