
বিবিসি ও রয়টার্স
ইউক্রেনের সাথে দীর্ঘায়িত সামরিক সঙ্ঘাতের ব্যয় বাড়তে থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজেট পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পেশ করা খসড়া বাজেটের নথি অনুযায়ী, আগামী বছরের সামরিক খাতে ব্যয় রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসাথে রাজস্ব বাড়াতে কর বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সামাজিক খাতগুলোতে বরাদ্দ পর্যালোচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবে দেখা যায়, আগামী ২০২৭ অর্থবছরে রাশিয়ার সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ১৭.১ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ২০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দের পরিকল্পনা ধরা হয়েছে। যা পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। এর ফলে দেশটির মোট সরকারি বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরাসরি প্রতিরক্ষা খাতে চলে যাবে। এই বরাদ্দ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ- এই তিন খাতের সম্মিলিত বাজেটের চেয়েও বেশি। ইউরোপীয় নীতি গবেষণা কেন্দ্র ‘সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালিসিস’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র জানান, প্রতিরক্ষা বরাদ্দের একটি বড় অংশের হিসাব অপ্রকাশিত বা গোপন রাখা হয়। তাই প্রাথমিক বাজেটে ঘোষিত পরিসংখ্যানটি মূলত অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার আলোচনার শুরু মাত্র; সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রকৃত খরচ আরো বাড়তে পারে।
রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ প্রতিরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা উভয়কেই সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দাবি করলেও, খসড়া নথিতে সামাজিক খাতের ব্যয় কমানোর প্রস্তাব উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে প্রাক-পরিকল্পিত খসড়া থেকে বরাদ্দ ৫ শতাংশের বেশি এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিতে বরাদ্দ ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসার নিরোধক সরকারি বাজেটের প্রায় ৯৭ শতাংশ অর্থ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ‘ইম্পরট্যান্ট স্টোরিজ’ সাময়িকীর রাজনৈতিক বিশ্লেষক বরিস গ্রজোভস্কির ভাষ্য মতে, ঘাটতি সামলাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ ও বেতন কমানোর পাশাপাশি সড়ক ও মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলো পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি পোষাতে ব্যাংক আমানত ও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ওপর কর বাড়ানোর রূপরেখা দিয়েছে মস্কো। সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই রাশিয়ার বাজেট ঘাটতির মুখে পড়ছে এবং আগামী ২০২৭ সালে এই ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৫.৪ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ৬৪.৪ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত বছরের পূর্বাভাসের চেয়ে ৭০ শতাংশের বেশি।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








