
নাসিম সিকদার
১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ প্রতি বছরের ১ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ ঘোষণা করে (সিদ্ধান্ত ৪৫/১০৬)। ১৯৮২ সালের ‘ভিয়েনা আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা’ (সিদ্ধান্ত ৪০/৮৬) অনুসরণে প্রবীণদের অধিকার ও সম্মান সংরক্ষণে বিশ্বব্যাপী এটি পালিত হয়।
বার্ধক্য জীবনের শেষ অধ্যায়। সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে আজীবন অবদান রাখা প্রবীণরা বিশেষ সম্মান ও অধিকারের দাবিদার। অথচ শেষ বয়সে তারা অবহেলা, শারীরিক ও মানসিক কষ্টে ভোগেন। জীবনের শেষ অধ্যায় স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সচেতনতা প্রয়োজন, নয়তো তা সমাজ ও উত্তরসূরিদের জন্য অভিশাপ ডেকে আনতে পারে। আমাদের দেশে অনেক কু’সন্তান আছে যারা মা-বাবাকে অবহেলা করে। বৃদ্ধ বয়সে সন্তান দ্বারা বিতাড়িত হন অনেকে। তাদের তৈরি করা সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে সন্তানরা ভোগ করে। অনেক শিক্ষিত লোক বা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেন। মা-বাবাকে অনেক সন্তান রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়।
বিজ্ঞান ও চিকিৎসার উন্নতিতে মানুষের গড় আয়ু ও প্রবীণ সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশে ১৯৩০ সালে গড় আয়ু ৪০-এর নিচে থাকলেও ১৯৯৬ সালে তা দাঁড়ায় ৬০-এ (পুরুষ ৬০, নারী ৫৯) এবং ২০৫০ সালে ৭৫ বছর হতে পারে। অন্য দিকে ১৯০০ সালে আমেরিকার গড় আয়ু ৪৭ যা বর্তমানে ৮০ হয়েছে। জাপানে ১৯৩৪ সালের ৩৫ বছর গড় আয়ু ১৯৯৬ সালে পুরুষ ৭৬ ও নারী ৮৩ হয় (শতবর্ষী ১৫৩ জন)। বাংলাদেশে ১৯৫০ সালে ৬৫ ঊর্ধ্ব জনসংখ্যা এক লাখ ৫৫ হাজারের কম থাকলেও ১৯৯০ সালে তা দাঁড়ায় তিন লাখ ৩৫ হাজারে।
উন্নত বিশ্বে প্রবীণদের কল্যাণে ব্যাপক ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের সমাজে একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাওয়ায় তারা অবহেলিত। দেশের প্রবীণদের সুরক্ষায় সরকার ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ পাস করেছে, যেখানে সন্তান কর্তৃক বাবা-মায়ের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে সরকার আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। তবে ১৯৮২ সালের জাতিসঙ্ঘ ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি রাষ্ট্রের ওপরই প্রবীণদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস মূলত প্রবীণদের মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি মাইলফলক কর্মসূচি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








