আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের মৃত্যু

আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা 

Advertisement

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়ার একটি তৈরী পোশাক কারখানায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শিশুসহ অন্তত ৪০ জন। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার থেকেই আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো: সাহাবুদ্দিন। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা দাদা মার্কেট এলাকার প্রীতি গ্রুপের এস স্যুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার মোছা: জয়নব বেগম (৫৫), বুলবুল। এ ছাড়া  বাকি পাঁচজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- নিটিং সেকশনের হাফিজুল খান, ফিনিশিং সেকশনের সোনিয়া, ক্লিনার রেহেনা, আনসার সদস্য মাসুদ রানা, গাড়িচালক সুলতান, শিশু ইব্রাহিম, শিবেন হাওলাদার, ফরিদ ইসলাম, নূর ইসলাম, সুজন, নজরুল, সাইফুল ইসলাম, জাহিদুল, ইসরাফিল, ববিতা, লিমন, সামিউল, রেহেনা এবং রাসেল সিকদারসহ অন্তত ৪০ জন। এদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নূর ইসলাম, সুজন ও নজরুলকে ঢামেকে রেফার করা হয়েছে। আহতদের আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে থাকি। কিন্তু এরপরেও আমরা অনেক আঘাত পাই। দগ্ধ হই। অনেকের হাত ভেঙে গেছে, পা ভেঙে গেছে, অনেকের পুড়ে গেছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণের ধাক্কায় পাশের রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, বিস্ফোরণের পরপরই পাশের একটি কাপড়ের দোকানের ভেতর সিলিন্ডার উড়ে এসে জয়নব বেগম নামের এক নারীর উপর পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই ওই নারী দোকানদার নিহত হন। এ ছাড়া লরি থেকে দগ্ধ অবস্থায় আরো পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায় আরো একজন।
তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্যটি নিশ্চিত করে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সাহাবুদ্দিন বলেন, ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুল জামানকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি করা হয়েছে। সদস্যসচিব থাকবেন সাভার এলাকার জোন কমান্ডার হাফিজুর রহমান। আর সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিসার হিসেবে আমি ও সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর অলিয়ুর রহমান রয়েছে।
এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার থেকেই আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, কারখানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা লরিগুলোর সারি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দেয়ালের পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা লরিগুলোর মধ্যে ৪ নম্বর লরিটিতেই প্রথম বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়।
সাহাবুদ্দিন আরো জানান, কারখানাটিতে তিতাস লাইনের গ্যাস থাকলেও লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার লরি থেকে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। তবে এসব লরিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো ছিল মেয়াদউত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত চাপ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ৪ নম্বর লরিটিতে হঠাৎ এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কাভার্ড ভ্যানের ওপরের অংশ ও সিলিন্ডারের খণ্ডাংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি অংশ ছিটকে গিয়ে পাশের ১০ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে পড়ে ও সিলিন্ডারের মূল সরবরাহ লাইনেও আগুন ছড়িয়ে যায়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।