গাজায় চলমান গণহত্যা,  ইসরাইলের বিরুদ্ধে,  ৬০ দেশ, নজিরবিহীন,  প্রতিবাদ
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিশ্বব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ শোভাযাত্রা। মিডলইস্ট মনিটর

ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন প্রতিরোধ ও সংহতির জোয়ার দেখা গেছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১০ অক্টোবর বিশ্বের ৬০টি দেশের ৩২৫টি স্থানে একযোগে আন্তর্জাতিক গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত যে কতটা সোচ্চার, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তা আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Advertisement

মিডলইস্ট মনিটর (১১ অক্টোবর) জানায়, ‘গ্লোবাল অ্যাল্যায়েন্স ফর প্যালেস্টাইন’-এর আহ্বানে এবং ‘অ্যান্টি-অ্যাপারথেড মুভমেন্ট’ (এএএম) ও ‘সানেদ’-এর সমর্থনে বিশ্বজুড়ে দুই শতাধিক সংগঠন এই সমন্বিত কর্মসূচিতে অংশ নেয়। লন্ডনের রাজপথ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে সর্বস্তরের মানুষ ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসেন। আয়োজকরা এক বিবৃতিতে জানান, ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন এখন কোনো নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমানায় আবদ্ধ নেই, বরং  বিশ্বব্যাপী এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ইউরোপের ২৪টি দেশে ১৭৬টি কর্মসূচি পালিত হয়, যার মধ্যে ইতালি ও স্পেনে ছিল সবচেয়ে বড় জমায়েত। রোমের কোলসিয়াম, বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট এবং ব্রাসেলসে ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ায় একযোগে এই প্রতিবাদ ছড়ায়। কেপটাউনে বিশাল গণমিছিল সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ইসরাইলি কনস্যুলেটের সামনে প্রোগ্রেসিভ সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়, ব্যাংককে ইসরাইলি দূতাবাস এবং মালয়েশিয়ায় মার্কিন দূতাবাসের সামনেও স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদের ধারায় কেবল প্রথাগত মিছিল বা সমাবেশই ছিল না, বরং এতে যুক্ত হয় সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল নানা উপস্থাপন। ইতালির আলেসান্দ্রিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের নাম লেখা ২৫ ও ২০ মিটার দীর্ঘ কাপড়ের কাফন নিয়ে শোক শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া মেক্সিকোতে পাখিপালনভিত্তিক প্রতীকী প্রতিবাদ, তানজানিয়ায় ‘গাজার শহীদ’ শীর্ষক নাট্যপ্রদর্শনী, ফ্রান্সে নাম পাঠের শোক অনুষ্ঠান, গ্রিসে সংহতি উৎসব এবং ইরানে পরিবেশবিনাশী যুদ্ধাপরাধবিষয়ক সম্মেলনের সাথে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর মতো ব্যতিক্রমী নানা আয়োজনে বিশ্ব নাগরিকরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। 

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল মুখে উদ্বেগ প্রকাশ না করে ইসরাইলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অনতিবিলম্বে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ, সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।