রেলপথ মন্ত্রণালয়
রেলকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির। নয়া দিগন্ত

রেলের যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি মালবাহী পরিবহন বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। 

Advertisement

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়াতে মালবাহী ক্যারেজ বৃদ্ধির জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে কমিটি। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে কার্গো রফতানির ক্ষেত্রে রেলওয়েকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে। রেলখাতকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার জন্যও মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার, এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম, এমপি; প্রতিমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ, এমপি; মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, এমপি; ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো, এমপি; মো. আবু সাইদ চাঁদ, এমপি; মো. রবিউল আওয়াল, এমপি; মু. মিজানুর রহমান, এমপি; মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, এমপি এবং মো. গোলাম রব্বানী, এমপি অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন রেল পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে রেলওয়ের বিদ্যমান যাত্রীবাহী ক্যারেজের তুলনায় মালবাহী ক্যারেজ বাড়ানোর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় কমিটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য কার্গো হিসেবে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এর মাধ্যমে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রেলখাতকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল পরিষেবা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রেলের সেবা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লোকোমোটিভ তৈরি ও সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়।

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও কমিটিকে অবহিত করা হয়। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে পঞ্চগড়-কক্সবাজার প্রস্তাবিত রেলপথের অগ্রগতির বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।