
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে তিন লাখ নার্সের প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালে কাজ করছেন ৫০ হাজারের কাছাকাছি। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী, প্রতি চারজন রোগীর জন্য একজন নার্সের প্রয়োজন আবার প্রতি একজন চিকিৎসকের জন্য তিনজন নার্সের প্রয়োজন। সেই হিসেবে বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে তিন লাখ নার্সের প্রয়োজন। বিপরীত দিকে সরকার যদি এই মুহূর্তেই আরো আড়াই লাখ নিয়োগ দিতে চায় তাহলেও এতো নার্স পাওয়া যাবে না। কারণ, এতো নার্স দেশের নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করতে পারেনি। নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার নার্স প্রফেশনাল পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছে। আজ শুক্রবার আরো ২১ হাজার ৬২৪ জন লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল এই পরীক্ষা নিচ্ছে।
নার্সেস প্রতিষ্ঠানের যুক্ত সিনিয়র নার্সরা জানিয়েছেন, আজ ২১ হাজার ৬২৪ জনের সবাই পরীক্ষায় অংশ নিলেও এখান থেকে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পাস করতে পারে। ৭০ শতাংশ (১৫ হাজার ১৩৬) নার্স লাইসেন্সিং পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে বেকার নার্সের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৫ হাজারের কিছু বেশি। এরা সবাই সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করবেন।
এত নার্স সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করলেও সরকারিভাবে পদ সৃজন করা হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। ২০২৫ সালের মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র পাঁচ হাজার নার্সের পদ সৃজন করা হয়েছিল, এরপর আর কোনো পদ সৃজন করা হয়নি। এই পদ সৃজনের অবস্থা খুবই ধীরগতিতে চললেও নার্সরা যত দ্রুত সম্ভব সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে চাচ্ছেন। এই চাকরি নার্সদের জন্য সোনার হরিণ ধরার মতো হয়ে যাচ্ছে। কারণ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর (সর্বশেষ তথ্য অনুসারে) হলেও অনেক নার্সের বয়স ৩২ তা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই বৃদ্ধের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন বলে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ২৮টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য তিন হাজার ২৪৩ জন নার্স নেয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। অন্য দিকে মেডিক্যাল কলেজ বাদে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর জন্য মাত্র এক হাজার ৪৩ জনের পদ সৃজন করা হয়। অন্য দিকে সরকারের ১০০ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ৫৬টি আধুনিক ও সদর হাসপাতালে ৭১৪ জনের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নেতারা জানিয়েছেন, এই পাঁচ হাজার নার্সের পদ সৃজন হলেও এখন পর্যন্ত একজনকেও নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। কারণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদ সৃজন করলেও এর সাথে ৭টি শর্ত জুড়ে দেয়। এই শর্তগুলো হলো- অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতি নিতে হবে; অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের বেতন স্কেল ভেটিং করে নিতে হবে; মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ নিতে হবে; অস্থায়ী পদের জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে ২০০৩ সালের ৩ মে তারিখের ১১১ নম্বর স্মারকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে; পদ সৃজনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে হাসপাতালের সাংগঠনিক কাঠামো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করে নিতে হবে; পদ সৃজনের জিওতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত সব শর্ত আবশ্যিকভাবে উল্লেখ করতে হবে; পদ সৃজনে অর্থ বিভাগের সম্মতির কপি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত জিও’র কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘সংস্কার ও গবেষণা’ অনুবিভাগে পাঠাতে হবে।
এসব জটিল কাজগুলো বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শেষ করে উঠতে পারেনি বলে জানা গেছে। সে কারণে, সৃজনকৃত পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দিতে পারেননি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








