
লাল, কালো আর সবুজ নানা রঙের আঙ্গুরে ভরে উঠেছে বাগান। লতানো গাছের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমনি মিষ্টি। মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে ১৫ জাতের আঙ্গুর চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের কলেজপড়ুয়া তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৌহিদুল।
২০২৪ সালে শখের বসে মাত্র পাঁচটি আঙ্গুরের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। প্রথমবার গাছে ফল এলেও আশানুরূপ মিষ্টতা না থাকায় হতাশ হন তিনি। তবে ব্যর্থতায় থেমে না গিয়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আঙ্গুর চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। শুরু করেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিচর্যার নতুন কৌশল প্রয়োগ।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর নতুন পরিকল্পনায় গড়ে তোলেন আঙ্গুরের বাগান। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন আঙ্গুরের বাগান পরিদর্শন করে সংগ্রহ করেন ১৫ জাতের ৮৫টি চারা। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনর, একেলো, গ্রিন লং, ক্রিপ্টো, কিলার, ভেলেজ, জরিনা, রাসুনিয়া, জয় সিডলেস, স্পিস, রেবেকা, ব্ল্যাক ম্যাজিক, টিকটক, মার্সেল ফোর্সসহ বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর।
লতানো গাছের জন্য তৈরি করেছেন উঁচু মাচা। নিয়মিত পরিচর্যা, সার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করায় এবার বেশ কিছু গাছে এসেছে আশানুরূপ ফলন। বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, কালো ও সবুজ আঙ্গুর। বাগানের এমন মনোরম দৃশ্য সহজেই নজর কাড়ছে স্থানীয়দের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৌহিদুলের আঙ্গুর চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন। কেউ ঘুরে দেখছেন বাগান, আবার কেউ আগ্রহ নিয়ে সংগ্রহ করছেন আঙ্গুরের চারা। এতে আঙ্গুর চাষকে ঘিরে তার আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।
কৃষক তৌহিদুল বলেন, ‘শখের বসে কয়েকটি আঙ্গুরের চারা লাগিয়েছিলাম। প্রথমবার ফল হলেও আঙ্গুর টক হওয়ায় কিছুটা চিন্তায় পড়ে যাই। পরে ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মিষ্টি আঙ্গুর চাষের পদ্ধতি শিখি। এরপর চুয়াডাঙ্গা থেকে বিভিন্ন জাতের চারা এনে নতুন করে বাগান তৈরি করি। এবার গাছে বেশ ভালো ফলন হয়েছে এবং আঙ্গুরও অনেক মিষ্টি হয়েছে। আশা করছি, ভালো লাভ হবে। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি আঙ্গুর চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে।’
কৃষি বিভাগও তরুণ তৌহিদুলের এই উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘মাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃষক তৌহিদুল ইসলাম ১০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৮৫টি আঙ্গুরগাছ রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। আমরা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। এ অঞ্চলে আঙ্গুর চাষ নতুন হলেও তার সফলতা দেখে আরো কৃষককে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে আঙ্গুর চাষ এ এলাকার কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হতে পারে।’
মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের কলেজপড়ুয়া তৌহিদুলের এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি বাগানের গল্প নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকে পেশা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া তরুণদের জন্যও এটি হয়ে উঠেছে নতুন অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








