
দুটি ভ্যান, একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক এক কর্মকর্তার মদদে ব্রাজিল ছেড়ে ভেগেছেন দেশটির সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। পরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আর্জেন্টিনা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে পৌঁছান তিনি। পুরো অভিযানটির নীলনকশা করা হয়েছিল নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার আগেই।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু রোববার (১ নভেম্বর) এ খবর জানায়। সিএনএন ব্রাজিলের শুক্রবার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফোজ দো ইগুয়াসু থেকে তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু পার হয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবার। সেতুটি ব্রাজিলের ফোজ দো ইগুয়াসুর সাথে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াসুকে সংযুক্ত করেছে।
নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে সীমান্ত পার হওয়া দুটি ভ্যান ও তাদের চালকদের শনাক্ত করা হয়েছে। চালকদের একজন ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের সাবেক কাউন্সিলর। অন্যজন তাঁর ছেলে। একটি ভ্যানে ছিলেন ফ্লাভিও এবং অন্যটিতে তাঁর স্ত্রী ফার্নান্দা ও দুই মেয়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়া থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত যাত্রায় ফ্লাভিওর সাথে ছিলেন মোসাদের সাবেক এক কর্মকর্তা। তিনি ১৯ অক্টোবর ব্রাজিলে আসেন। পরে ফ্লাভিওর সাথে একই ভ্যানে চড়ে সীমান্ত পার হন। তবে পুরো অভিযান আয়োজন বা পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সিএনএন ব্রাজিল।
আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াসু থেকে ফ্লাভিওর পরিবার গালফস্ট্রিম জি৪০০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ওঠে। আর্জেন্টিনার চার্টার বিমান সংস্থা বায়রেস ফ্লাই পরিচালিত উড়োজাহাজটি জ্বালানি নিতে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে থামে। পরে বুধবার ভোরে মিয়ামির ওপা-লক এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সিএনএন ব্রাজিল জানিয়েছে, অভিযানের সাংকেতিক নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন আলবা’। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই এর পরিকল্পনা করা হয়।
ব্রাজিলের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের সাথে যোগাযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা এই অভিযানে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছিলেন কি না। তবে দুই সরকারের কোনো একটির সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ বুধবার জানিয়েছে, দেশ ছাড়ার সময় ফ্লাভিওর ব্রাজিলের কোনো অভিবাসন চৌকি পার হওয়ার রেকর্ডও মিলেনি।
সুপ্রিম ফেডারেল কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস এর আগে ফ্লাভিওকে তাঁর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সাথে ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিলেন। এরপরও কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন, তা তদন্ত করছে ফেডারেল পুলিশ। তাঁর ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করার কথাও বিবেচনা করছে পুলিশ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








