
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের ভিডিওবার্তায় সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনায় তার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া একটি পোস্টে তিনি এই সমালোচনা করেন। পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর হাতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার দৃশ্য আমাদের কী বার্তা দেয়?
সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে। প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করুন, প্রতিবাদলিপি পাঠান, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ-এর কপি ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্যটি মোটেও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের উদাহরণ নয়।
আরো পড়ুন—বাবার দাফনের সেই দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা জানালেন আব্দুল কাদের মোল্লার মেয়ে
একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে, সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কোনো প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তিও থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমরা আরও সংযম, পরিশীলিত আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রত্যাশা করি।
মনে রাখতে হবে, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়; আবার সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি সরকারের সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
রাষ্ট্রের শক্তি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মধ্যে নয়, বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সমালোচনার জবাব তথ্য, যুক্তি ও সত্য দিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছি, যেখানে ক্ষমতাবানদের সমালোচনা করা অপরাধ হবে না, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে না এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের আচরণে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই আচরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রে ক্ষমতার দম্ভ নয়, জবাবদিহিই হোক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








