
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। এদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ও উসকানির অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
রোববার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পর কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন।
প্রথমে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ শুরু হলেও পরে রতনপুর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এসব এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন কারখানার ফটকে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। মৌচাক কাটার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেয়ার পাশাপাশি আনসার অ্যাকাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের সাথে মিশে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নামে-বেনামে আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্ট দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব পোস্টে ‘খেলা শুরু হয়ে গেছে’ এমন বক্তব্যও দেখা গেছে।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়লের নামেও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনায় শ্রমিকদের প্রকৃত ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্দোলনের লক্ষ্য, নেতৃত্ব ও পেছনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তারা কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছেন।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান করছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মহাসড়ক অবরোধ থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে মহাসড়কে অবরোধ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। এরই মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন থামেনি। শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








