লোড হচ্ছে...
চল্লিশ বছরেরও বেশি আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত নাগরিক অধিকার নেতা জেসি জ্যাকসন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি এক উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দলটি যেন তাদের দরজা খুলে দেয় এবং স্বাগত জানায় সেই সব মানুষকে—যারা "হতাশ, অভিশপ্ত, অধিকারবঞ্চিত, অসম্মানিত এবং অবহেলিত"। এই তালিকার মধ্যে ছিলেন আরব আমেরিকান এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থকরাও, যারা দশকের পর দশক ধরে বর্ণবাদ, বিদ্বেষ এবং কোণঠাসা হয়ে থাকার যন্ত্রণায় ভুগেছেন। ওই কমিউনিটির অধিকারকর্মীরা বলছেন, মঙ্গলবার ৮৪ বছর বয়সে মারা যাওয়া জেসি জ্যাকসন তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তাদের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় ইসরায়েল তাদের গণহত্যামূলক যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে—ইসরায়েলি সরকারের এক কর্মকর্তার এমন হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। সোমবার হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাবি ‘আল জাজিরা মুবাশের’কে বলেন, এ ধরনের কোনো দাবির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দখলকৃত পশ্চিম তীরে জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও জমি বেদখলকে ত্বরান্বিত করবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া সংলগ্ন লেবানন সীমান্তের কাছে একটি যানবাহনে ইসরায়েলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।সোমবার ভোরে এই বিমান হামলাটি চালানো হয় বলে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমদ নামে একজন সিরীয় নাগরিক রয়েছেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গাজা জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া "যুদ্ধবিরতি" চুক্তির আরও একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রোববার এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হয়েছে যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননেও বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জন্য এক বিশাল বিজয়ের মুহূর্ত হিসেবে লন্ডনের হাইকোর্ট ফিলিস্তিনপন্থী প্রচারণামূলক সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর যুক্তরাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করেছে। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং এতে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল এই সংগঠনটি। গত বছরের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকার সংগঠনটিকে আল-কায়েদা ও আইএসের (আইএসআইএল) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমতুল্য ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কখন এবং কেন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো কার্যত "ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি দখল বা সংযুক্তিকরণের (annexation) সামিল"।
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পাকিস্তানি 'ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স' (আইএসএফ) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকায় সেনা মোতায়েনকে সমর্থন করেন।গ্যালপ পাকিস্তানের এই জরিপের ফলাফল এমন এক সময়ে এল যখন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' (বিওপি)-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গত মাসে এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে।
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (WEF) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং ধনকুবের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জ্যারেড কুশনার ‘নতুন গাজা’ নিয়ে তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। তার কল্পনায় ছিল চকচকে আকাশচুম্বী অট্টালিকা, সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র এবং একটি লজিস্টিক্যাল করিডর—যা নিরস্ত্রীকৃত গাজাকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করবে। কিন্তু সেখান থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার (১,৮৬৪ মাইল) দূরে গাজা উপত্যকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বোমাবিধ্বস্ত ধুসর সেই জনপদে একটি ইটও গাঁথা হয়নি। ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডের বর্তমান বাস্তবতা নতুন কোনো ভবন দিয়ে মাপা হচ্ছে না, বরং মাপা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের ওজনে—যা প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন। অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর ‘যুদ্ধবিরতি’ হওয়ার পর ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়তো কমেছে, কিন্তু হত্যাকাণ্ড থামেনি। এটি একটি নতুন ও নীরব যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গাজায় ফিলিস্তিনি দলগুলোকে নিরস্ত্র করার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন হামাসের বিদেশের রাজনৈতিক শাখার প্রধান খালেদ মেশাল। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, দখলদারিত্বের শিকার কোনো জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলে তারা ‘সহজ শিকারে’ পরিণত হবে এবং তাদের নির্মূল করা সহজ হয়ে যাবে।
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অক্টোবরে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর অন্যতম সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনে গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদিকে বুধবার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনি রোগী ও আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মিশর থেকে গাজায় ফেরার পথে রাফাহ সীমান্ত পার হওয়ার অভিজ্ঞতাকে এক ‘বিভীষিকাময় যাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফিলিস্তিনি নারীরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া হাতেগোনা কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করে হাতকড়া পরানো হয়েছে, চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘হুমকির মুখে’ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাফাহ দিয়ে গাজার রোগীদের বের হতে দিচ্ছে না ইসরায়েল : জাতিসংঘ মহাসচিবের জরুরি আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার আবারও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—গাজায় অবিলম্বে মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে দিন এবং যুদ্ধে আহত-অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার পথ খুলে দিন।
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনামগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অবশেষে গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে চিকিৎসার জন্য মরিয়া আহত ফিলিস্তিনিরা এখন গাজা ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সোমবার সীমান্ত খোলার প্রথম দিনে ইসরায়েল মাত্র পাঁচজন রোগীকে এই পথে গাজা ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। ফলে শত শত, এমনকি হাজার হাজার মানুষকে এখনো অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে।
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজা শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত যখন স্পষ্ট হলো, তখন ৩০ বছর আগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধ সমাপ্তকারী চুক্তির সঙ্গে এর মিল খুঁজে না পাওয়াটা ছিল অসম্ভব। গাজার এই পরিকল্পনা হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও, এটি মূলত বিদেশিদের অনন্ত নিয়ন্ত্রণকেই পাকাপোক্ত করছে। পরিকল্পনাকারীরা ফিলিস্তিনিদের ‘সেরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’-এর ভিত্তিতে শাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বসনিয়ার মানুষ গত তিন দশক ধরে এই একই বুলি শুনে আসছে। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা জানিই না সেই তথাকথিত ‘মানদণ্ডগুলো’ আসলে কী।
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা বোমাবর্ষণে অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এই হামলাগুলো হয়েছে এমন সময়, যখন রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং রবিবার পুনরায় খোলার কথা রয়েছে।
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ বছর শিক্ষকতা করার পর হঠাৎ ছাঁটাইয়ের খবর শুনে জ্ঞান হারান মরিয়ম শাবান (ছদ্মনাম)। ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) যে ৬০০ কর্মীকে বরখাস্ত করেছে, মরিয়ম তাদেরই একজন। সম্প্রতি ইউএনআরডব্লিউএ কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় গাজায় স্থানীয় কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে, কাজের সময় হ্রাস করা হয়েছে এবং যারা গাজার বাইরে ‘বিশেষ ছুটিতে’ ছিলেন, তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটির কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বাজেটে ২২ কোটি মার্কিন ডলারের ঘাটতি মেটাতে তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
ফাতিমা আব্দুল্লাহর চোখের সামনে থেকে কিছুতেই সরছে না আল-বাতশ কবরস্থানের সেই ভয়াবহ দৃশ্য। গাজা সিটির এই কবরস্থানে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের এক পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ খুঁজতে গিয়ে চালিয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। ফাতিমার স্বামী, যিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন, তিনিও শায়িত ছিলেন সেখানে। কিন্তু আজ সেই কবরস্থান এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
গাজা সিটির পূর্ব প্রান্তে হলুদ রঙ করা কংক্রিটের ব্লকের মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছোট একটি তাঁবুতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন জায়েদ মোহাম্মদ। চার সন্তানের জনক জায়েদ একজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। এই হলুদ রঙের ব্লকগুলো মূলত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সর্বশেষ অবস্থান পরিবর্তনের সীমানা নির্দেশ করছে।
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে উত্তর গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার গাজার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় ড্রোন হামলায় একই পরিবারের ওই দুই শিশু প্রাণ হারায়।
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

