
নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর সময় ইসরাইলের হামলায় গাজায় নিহত ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশুর হাতে লেখা নামসংবলিত ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) দীর্ঘ একটি স্মারক কাফন প্রদর্শন করা হয়েছে। বুধবার নিউইয়র্কের জাতিসঙ্ঘ চার্চ সেন্টারে ফিলিস্তিনি একটি জোট এই স্মারক উন্মোচন করে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জানায়, নিহত প্রতিটি শিশুর আলাদা পরিচয় তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আয়োজকেরা বলেন, ‘সংখ্যা নয়, একটি নাম।’ একই সাথে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ, যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
‘গাজা শিশুদের কাফন’ নামের এই স্মারকটি তৈরি করেছে ডক্টরস অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড, প্রিস্টস অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড ইউএসএ, জাস্টিস ফর অল এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো।
জাতিসঙ্ঘ চার্চ সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর সাথে মিল রেখে সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি আন্তধর্মীয় সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা এসেছে ইতালির রোমে পাস্টর্স অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইডের তৈরি একটি স্মারক থেকে। গাজায় ইসরাইলি হামলায় বাড়িঘর ধ্বংস হলে সন্তানদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়, সে জন্য বাবা-মায়েরা তাদের শিশুদের নাম সরাসরি শরীরে লিখে রাখতেন। সেই মর্মান্তিক বাস্তবতা থেকেই এই স্মারক তৈরির ভাবনা আসে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়া সিটি হলে প্রথম প্রদর্শনের পর স্মারকটি অক্টোবরে ওয়াশিংটনে নেয়া হবে। এরপর এক বছরব্যাপী বৈশ্বিক প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতি মাসে একটি করে নতুন শহরে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক হামলায় ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত এবং ৪৪ হাজার শিশু আহত হয়েছে।







